রওশন বাদ পড়ায় বিদিশা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ভক্তদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

জি এম কাদেরকে জাতীয় পার্টির (জাপা) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই খবর জেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মন্তব্য করেছেন এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা। বিদিশার এ উচ্ছ্বাসের পেছনে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও এরশাদপত্নী রওশন এরশাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব কাজ করছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে এরশাদ তাঁর বারিধারার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে জি এম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার কথা জানান।

এর কিছুক্ষণ পরেই বিদিশা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরশাদের সাংগঠনিক নির্দেশনাপত্রের ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্’। তবে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। তবে বিদিশার ওই ফেসবুক পেজটি বিদিশারই কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পেজটি ভেরিফাইড না হওয়ায় অনেকেই সন্দেহ পোষণ করছেন।

রওশন এরশাদের সঙ্গে বিদিশার দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তাঁদের ধারণা বিদিশা এখনো রওশনের প্রতি ক্ষোভ পুষে রেখেছেন। আর এ কারণেই রওশন এরশাদকে বাদ দিয়ে জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিদিশা।

ছোট ভাই ও দলের প্রাক্তন কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে এরশাদ তার সাংগঠনিক নির্দেশনা পত্রে লিখেছেন, আমার শারীরিক অসুস্থতার জন্য পার্টির কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিঘ্ন হচ্ছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত জি এম কাদের পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে গত মাসে জি এম কাদেরকে দলে তার উত্তরসূরি ঘোষণা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন এরশাদ। তবে সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পর গত ২২ মার্চ দলে ‘বিভেদ’ তৈরি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ‘ব্যর্থতার’ অভিযোগ তুলে জি এম কাদেরকে কো চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ। পরদিন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকেও কাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সংসদের উপনেতা করা হয় রওশনকে। এরপর সপ্তাহ দুয়েক না হতেই গত ৪ এপ্রিল জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যানের পদ ফিরিয়ে দেন এরশাদ। দুদিন বাদে এক ‘সাংগঠনিক নির্দেশে’ তাকে আবার দলের ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যানও ঘোষণা করেন।

অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদিশার এ উচ্ছ্বাসের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অনেকেই। তাঁদের কয়েকজনের মন্তব্য তুলে ধরা হলো নিচে-

বোরহান উদ্দিন নামে এক পাঠক বিদিশার পোস্টের নিচে মন্তব্য করেছেন, ‘এতো খুশী হওয়ার কিছুনাই, আপনার জামায় সকালে এক কথা,দুপুরে এক কথা,বিকেলে এক কথা,রাত হতে হতে আরো অনেক কথা বলে।’

ওমর ফারুক মন্তব্য করেছেন, ‘ম্যাডাম আমরা সারাক্ষণ সারা রাত্রি কষ্ট করেছি সারা বাংলাদেশের কোটি তৃণমূলের নেতা কর্মীরা এবং জাতীয় সাইবার পার্টির লোকজন শুধু জি এম কাদের স্যারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে পেতে চাই।’

জি এম বাপ্পি মন্তব্য করেছেন, ‘যাত্রাপার্টির দায়িত্ব কাগু সকালে দেয় রওশন কাকিকে,বিকালে দেয় কাদের ছোট কাগুরে,কিযে যন্ত্রনায় আছি মাননীয় স্পিকার।’

অন্য একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘কাল সকালে আবার আরেক খবর শুনতে পাবো।’

এরশাদের এ সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়ে জাকির খান লিখেছেন, ‘জীবনের পড়ন্ত সময়ে এসে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পল্লীবন্ধু এরশাদ। অভিনন্দন। শুভকামনা ও দোয়া রইলো।’

মাহফুজুর রহমান অবশ্য বিদিশাকেও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা চাই আপনিও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামে আসুন , জাপা কে ভালবাসুন, এরশাদ স্যার কে ভালবাসুন। আপনার পপুলারিটি জাপা সমর্থকদের কাছে আকাশ চুম্বি , আপনি দূরে না থেকে জয়েন করুন।

শুদ্ধস্বর/ বুল তা

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.