প্রখ্যাত সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট স্বাধীনতার পরে একবার বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাত্কার নিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাত্কারে কোনো এক অংশে ডেভিড ফ্রস্টারের দুইটি প্রশ্ন ছিলো, সম্ভবত ” ক্যারিশমা এবং উইকনেস্” নিয়ে ( সম্ভবত লিখছে, কারণ পুরো স্বরণ হচ্ছে না বলে) বঙ্গবন্ধু প্রশ্ন দুটির যথাক্রমে উত্তর ছিলো, ” আই লাভ মাই পিপলস্ ” এবং” আই লাভ দেম টু মাচ্ “।
নাম নুর । নুর্ = নূর , মানে জ্যোতি/কিরণ/দীপ্তি/ আলো। বর্তমানের ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি নুর, তিনি অনেক চড়াই উতরাইয়ের মধ্যে দিয়েই এতদূর এসেছেন। এই নুর ছাত্রলীগের, আবার শিবিরে ! সেই সব কথা সকলেরই জানা, তাই সেই কাসুন্দি ঘাটলাম না। বাস্তবতা হচ্ছে ডাকসুর নির্বাচন একটি (!) হয়েছে এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমেই নুর বর্তমান ভিপি।
নির্বাচন কেমন হলো? সেই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ব্যাতিত অন্যান্য সকল ছাত্র সংগঠন, স্বতন্ত্র ফোরাম এবং অনেক শিক্ষকদের বিবৃতিতেই অনেকটাই পরিষ্কার । তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা হলো, সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সামান্য কিছু ভোটের নির্বাচনে নানান প্রশ্ন উঠেছে। যা কিনা একেবারেই অনাকাঙিক্ষত, কারণ এই ডাকসুর ইতিহাস, ঐতিহ্য বিশদ। সেই আলাপ চলছে , চলুক এবং প্রতিবাদ হচ্ছে হোক। নতুন নির্বাচনের দাবি উঠেছে, দেখা যাক ভবিষ্যতে কি হয়।
বর্তমানে যা সবচাইতে আলোচিত বিষয়, সেটা হলো এই ভিপি নুর। গত একদিন পূর্বেই ডাকসুর সকল নির্বাচিতরা (সম্ভবত, একমাত্র শামসুরন্নাহার হলের নির্বাচিত তাসলিম আফরোজ ইমি ব্যতিরেকে) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে এলেন। মূলত: সেখান থেকেই যত জল্পনা/কল্পনা শুরু। নুর গেলো গেলো বলে বিশেষ করে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভীষণ ঝড় উঠেছে!
প্রধানমন্ত্রীর সেখানে নুরের ভাষন, প্রধানমন্ত্রীকে মা বলে সম্বোধন, ইত্যাদি নিয়ে কি বিশদ আলোচনা । কেউ কেউ তো নুর কে মিরজাফর/ খন্দকার মোশতাক/ এমনকি সাম্প্রতিক কালের জ্বলন্ত উদহারণ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর টেনে এনেছেন ! এই সকল বিষয় গুলোই আমার কাছে ভীষণ অতি রঞ্জিত মনে হচ্ছে ( ব্যক্তিগত মত) এমনকি আমাদের চর্চিত নোংরা রাজনীতির বর্হিপ্রকাশ বলেই মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন, সেই ডাকাকে সরাসরি ভাঁওতাবাজি/প্রহসন ইত্যাদি বলে নুর না গেলেই মনে হয় অনেকে বেশি খুশি হতেন। আলোচনায় ডাকা, বসা এগুলিতো আর আমাদের রাজনীতির চর্চার বিষয় নয় । জানি অনেকেই অনেক উদহারণ দিবেন, আমিও দিতে পারবো। তবে প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে নুর মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলেন নি, যে গঙ্গার জলে ডুব দিয়ে শুদ্ধ হতে হবে। আজকেই পত্রিকায় দেখলাম , মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে নুর নিজেই নতুন নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। তবে তিনি এ কথাও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে সে একমত । পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেবলমাত্র শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করার কথাও জানান।
শেষে শুধু বলবো, ডাকসুর ভিপি হলেও সে নিশ্চয়ই অনেক তরুণ। একজন তরুণের পক্ষে কতটুকুন চাপ নিয়ে এত কিছু সামাল দেওয়া সম্ভব , সেই দিকটিও বিবেচনায় নিয়ে নুরের বিষয়ে একটু ভেবে চিন্তে চেঁচানো হবে উপযোগী । এখানে একটি কথা বলতেই হয়, আমরা জনগণ পারি আর না পারি, সমালোচনা করতে বেশ বড় হুজুর হই ! সবার মনে থাকা ভালো, নুর তার এই বয়সে যা করতে পেরেছে , তা সত্যি বর্তমানের রাজনৈতিক বিবেচনায় অভাবনীয় কিছুই করেছে। সুতরাং …..
শেষে নুরের জন্য বলবো। ডাকসু ভিপি পদটির সম্মানের কারণেই তাকে ধৈর্যশীল হতে হবে এবং সামান্য কিছু পরিস্থিতির স্বীকার হয়েই মুখ ফোঁসকিয়ে কোনো মত সাথে সাথে প্রকাশ না করে বরং ভেবেচিন্তেই প্রকাশ করা উচিত। দশকথা বলে বারবার মত পাল্টানো হিতে বিপরীত হতে পারে। তারচেও বড় কথা , নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে, কিভাবে আজকে ভিপি, সার্বিক বিষয়ে ভালো করে ঝালাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।
সবশেষে বলবো, যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ” থিংক টুয়াইস্ ” দ্বিতীয়বার ভাবুন এবং উপরে উল্লিখিত বঙ্গবন্ধুর সেই বিখ্যাত সাক্ষাত্কারটি কে স্বরণ করুণ, ” আই লাভ দেম ( মাই পিপলস্) টু মাচ্ ” । জনাব নুর আপনাকেও সেই শিক্ষার্থীদের বেশি ভালোবাসতে হবে, যারা সর্বক্ষণ আপনার সাথে ছিলো। মনে মনে জবর কাঁটুন ” আই লাভ দেম ( সেই সকল শিক্ষার্থীদের ) টু মাচ্ “। ভবিষ্যতে পথ চলতে সহজ হবে।

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

