জাতীয় স্কাউট জাম্বুরী, বাংলাদেশ মৌচাক-গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হয় । বরাবরের মতো এবারও জাঁকজমক সহকারে ওখানেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে । ১৯৭৮ সালে আমিসহ ঠাকুরগাঁও রোড মথুরাপুর বহুমুখী পাবলিক স্কুল থেকে ১৫ সদস্যের একটি স্কাউট টিম অংশগ্রহণ করি । ঠাকুরগাঁও রোড ট্রেন স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু, পথে নিজ শহর দিনাজপুর, অবশ্য তখনও ঠাকুরগাঁও একটি মহকুমা, পঞ্চগড় একটি থানা ছিল । যমুনা সেতু ছিল না । দীর্ঘ যাত্রায় আমরা এপারে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি ঘাট নামি এবং ওপারে বাহাদুরাবাদ ঘাটে আবারো ঢাকাগামী ট্রেনে উঠি ।যমুনা নদী পার হয়েছি স্টীমারে । এখন যমুনায় পানি নেই বললেই চলে, সে সময় থৈ থৈ পানি যে দিকে চোখ যায় । ভারত কর্তৃক পানি আটকাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এমন সকল নদীতে বাঁধ দেয়ায় এ অবস্থা । যা হোক, স্টীমার থেকে নেমে ট্রেন ধরতে ও কম্পার্টমেন্টে সীট রিজার্ভ করতে স্যারের নির্দেশে ট্রেনের পানে বিছানা-পেটরাসহ নানান জিনিস নিয়ে সেকি দৌড়ে যাওয়া, ওফ্ ।এখন ওগুলো কল্পনা করা যায় না । শুধু আমরা নই, বাহাদুরাবাদ-জামালপুরে গোটা ট্রেন ছিল উত্তরবঙ্গে জেলাগুলোর বিভিন্ন স্কুলের স্কাউট টীমগুলোয় ঠাসা, সকলে ঢাকায় যাচ্ছে। আমার ঢাকায় যাওয়া সেবারই প্রথম, সে এক মহা আনন্দের সফর, যা কখনও ম্লান হবে না । এখনকার মতো এত সহজ ভ্রমণ ও অংশগ্রহণ ছিল না । এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভালো, হোক সেটা ট্রেন বা হোক সেটা দুরপাল্লার বাসের ভ্রমন । কয়েকটা স্কুল মিলে বাস রিজার্ভ করে বা ট্রেনে সীট রিজার্ভ করে অনেক সহজে শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করতে পারে । মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের বর্তমান যুগ ছিল না । মূহুর্তে বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ সম্ভব ছিল না । আমরা চিঠি লিখে বাড়িতে নিরাপদ ভ্রমনের কথা পোস্ট করেছি । এখনকার ছেলেমেয়েরা এগুলো কেউ ভাবতেও পারবে না । ওগুলো বদলে টেক্সট মেসেজ বা দফায় দফায় মোবাইল ফোনে কথা হয়, লাইফে পারস্পরিক যোগাযোগ । অবশ্য উন্নত সকল যোগাযোগ ব্যবস্থায় পারস্পরিক সম্পর্কটা আন্তরিকতার জায়গাটায় যেমন গাঢ় হয়েছে তেমনি আলগা হয়ে গিয়েছে । তবুও স্কুল ছাত্রাবস্থায় এমন একটি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় সকলের জীবনকে চলার পথকে সকল সময় সহজ করে তোলে । সফল হোক এ স্কাউট জাম্বুরী ।

আলম শাহ্, বার্তা সম্পাদক, Dtv-Italy.

