বিশ্বকাপের মাঝপথে আর্জেন্টিনায় মেসির ৮৫ ফুট ভাস্কর্য

ফুটবল মাঠে রেকর্ড গড়া যেন লিওনেল মেসির নিত্যদিনের ব্যাপার। তবে মাঠের বাইরেও তাঁকে ঘিরে উন্মাদনা কম নয়। এবার আর্জেন্টিনার ফুটবলারের সম্মানে নিজ দেশেই উন্মোচন করা হয়েছে ৮৫ ফুট উঁচু একটি বিশাল ভাস্কর্য, যা এখন পর্যন্ত মেসিকে উৎসর্গ করা সবচেয়ে বড় স্মৃতিস্তম্ভ বলে দাবি করা হচ্ছে।

৩৯তম জন্মদিনের ঠিক আগে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন। সেই অর্জনের আবহেই পাতাগোনিয়ার ছোট শহর কুত্রাল কো-তে উন্মোচিত হয়েছে তাঁর বিশাল এই মূর্তি।

ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২৬ মিটার (৮৫ ফুট) উঁচু ভাস্কর্যটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ৭০ টনেরও বেশি ইস্পাত। ১৮ মাস ধরে তৈরি হওয়া এই শিল্পকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লুসাইল স্টেডিয়ামের ঘাসে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিলেন মেসি।

মূর্তিতে আরও দেখা যায়, এক হাতে আর্জেন্টিনার জার্সি ধরে আছেন মেসি, অন্য হাতের তর্জনী আকাশের দিকে উঁচিয়ে রেখেছেন। গোল করার পর প্রয়াত দাদির স্মরণে মেসির পরিচিত উদযাপনের ভঙ্গিটিও এতে তুলে ধরা হয়েছে।

ভাস্কর্যটির নির্মাতা ৬১ বছর বয়সী স্থানীয় শিল্পী আলদো বেরোয়িসা। এর আগে তিনি বিশালাকৃতির ডাইনোসর ও আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছেন। তবে মেসির এই ভাস্কর্য তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বেরোয়িসা বলেন, ‘তিনি (মেসি) আর্জেন্টিনার স্বাভাবিক দূত। একজন শিল্পী হিসেবে যেমন, তেমনি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবেও এটি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

মূলত তেল উৎপাদনের জন্য পরিচিত কুত্রাল কো শহরটি সাধারণত পর্যটকদের খুব একটা আকর্ষণ করে না। তবে গত ১৬ জুন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর দিন মেসির ভাস্কর্যটির উদ্বোধনের পর সেখানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মজার বিষয় হলো, এর আগে ভারতে মেসির আরও একটি বিশাল মূর্তি তৈরি হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে ‘গোট ট্যুর’-এ কলকাতায় সফরকালে তাঁর সম্মানে ৭০ ফুট উঁচু একটি মূর্তি নির্মাণ করা হয়। মাত্র ২৭ দিনে তৈরি হওয়া সেই মূর্তিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবলারের মূর্তি হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেটি অপসারণের নির্দেশ দেয়। পশ্চিমবঙ্গের আইনপ্রণেতা শরদ্বত মুখার্জি বলেন, ‘আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তির মূর্তিটিকে অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, বাতাসে মূর্তিটি দুলছিল।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.