যুদ্ধ করে ধ্বংস কর ধর্ম দিয়ে শান্তি গড় অতঃপর শূণ্য

“জলের শ্যাওলা”- যুদ্ধ নিয়ে লেখা মানেই নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করা সম কেননা যুদ্ধ বিষয়টি শতভাগ অপ্রয়োজনীয় এবং ভয়ানক সব বিষয়গুলো লিখতে হয় এবং যেখানে মূলত মানুষের ক্ষতির কথাই বেশি থাকার কথা। যে কেউ যদি স্বাভাবিক ভাবনার মানুষ হয় তাহলে যুদ্ধ নিয়ে লিখতে গেলে নিশ্চিত মানসিকভাবে আক্রান্ত হবার কথা। কেননা আগ্নেয়াস্ত্র, আগুন, মৃত্যু, লাশ, ধ্বংস, মানুষের আর্তনাদ এগুলো লিখে মানসিক শান্তি নিশ্চয়ই আসার কথা নয়।
যা হোক, যদি ছোট্ট একটি প্রশ্ন করি, পৃথিবীতে যুদ্ধের কোন প্রয়োজন আছে কি? উত্তর যাই আসুক তবে বাস্তবতা হচ্ছে প্রয়োজন নেই। তাহলে যুদ্ধ কেন হয়? সহজ উত্তর হয়তোবা ক্ষমতা হবে এবং সেই ক্ষমতার রেশ ধরেই পৃথিবীর জন্ম থেকেই যুদ্ধ হয়ে আসছে এবং চলবেই কেননা মূলে হলো ক্ষমতার চর্চা। ‘ক্ষমতা’, এই ছোট্ট শব্দটি এতটাই শক্তিধর যে পৃথিবীর সকল কিছুই এই একটি মাত্র শব্দের গণ্ডির মাঝেই নিহিত থাকে। রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সমাজ বা পরিবার, সর্বত্রই ক্ষমতা আছেতো সব আছে এবং ক্ষমতা নেইতো মূলত কিছুই নেই।
এক সময় পাথর যুগে পাথর নিক্ষেপ করে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে তাড়িয়ে দিত এবং এলাকার দখল নিত, নিজেদের মতন করে চলতে, নিজেদের জীবনের খাদ্য থেকে শুরু করে সকল কিছুর নিশ্চয়তা পেতে। বর্তমানে শুধুমাত্র খাদ্যের নিশ্চয়তা নয় সাথে আধুনিক যুগে আবিষ্কৃত সকল সুযোগ- সুবিধের নিশ্চয়তাও নিশ্চিত রাখতে। অতঃপর কতটা বহাল তবিয়তে থাকতে পারতো পাথর যুগে? সেটা ভিন্ন প্রশ্ন এবং ভিন্ন উত্তর। বর্তমান আধুনিক যুগেইবা কতটা বহাল তবিয়তে থাকতে পারবে বা পারছে? সেটার উত্তরও একান্তই ভিন্ন তবে পৃথিবী কখনোই শান্ত হয়নি জন্মের পর থেকেই এবং সেই যুদ্ধ চলছেই এবং চলবে। পাথর থেকে এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় বৃহৎ আকারে হচ্ছে যুদ্ধ এবং ধ্বংসটাও তত বড়। পাথর যুগের ইতিহাস পড়লেই কিন্ত যুদ্ধের নমুনা পাওয়া যায়। এমনকি অন্যান্য প্রাণী কুলেও পাথর যুগ থেকেই যুদ্ধ আছে। সুতরাং মূল উৎস ক্ষমতার জন্য যুদ্ধ এই বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ড থেকে কখনোই চিরতরে নিপাত হবার নয়। নয় মানে নয় এবং এটা শতভাগ নিশ্চয়তার সাথেই অনুমান করা যায় যে বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ড যতদিন আছে যুদ্ধ ছিল এবং থাকবেই।
বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডের সর্ববৃহৎ যুদ্ধটা অল্প কিছুদিন পূর্বের ইতিহাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস। সেই যুদ্ধে বিশ্বের কত ক্ষতিসাধন হয়েছিল তা বলার প্রয়োজন নিশ্চয়ই নেই তবে সেই ক্ষতিসাধনের পরে বিশ্বে দীর্ঘদিন অনেক কম যুদ্ধ বিগ্রহ হয়েছে। এর পিছনের কারণটা আবার সেই ক্ষতিসাধন। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ করতেই সবাই নিয়োজিত ছিল, প্রথমত। আবার ক্ষমতায়ও একটি ভারসাম্যতা ছিল কেননা সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পৃথিবীর দুই প্রান্তে দুই শক্তিধর দেশ ছিল পৃথিবীর ক্ষমতার সাম্য ধরে রাখতে। ফলে সেই সময়ে দুই শক্তি আমেরিকা আর রাশিয়া সহজে নিজেদের সীমা অতিক্রম করতো না ক্ষমতার আশায়। ফলাফল, পৃথিবীর ইতিহাসে সেই সময়ে সব চাইতে  কম যুদ্ধ বিগ্রহ ছিল এবং পৃথিবী নিদেন পক্ষে শান্ত ছিল বটে। যদিও দুই দেশের নিয়ন্ত্রনাধীন রাষ্ট্রগুলোর গলায় কাটা বেঁধেই ছিল। ওটা আবার আরেক পর্বের ইতিহাস।
মূলত যুদ্ধ থেকেই পৃথিবী অশান্ত হয়েছে এবং সেই অশান্ত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতেই ধর্ম এসেছে। জানি কথাটি অনেকের পছন্দ হবার নয় কেননা ধর্ম বিশ্বাস- অবিশ্বাসের বিষয় বলেই। ধর্মের সূত্র স্রেফ উল্লেখ করা মাত্র কারণ বাস্তবিক বলেই তবে ধর্ম এখানে লেখার বিষয় নয়। তবে লক্ষ্য করলে দেখবেন, সকল যুদ্ধের পিছনে আবার ধর্মের যোগসূত্র বেশ প্রকটভাবেই মিলে। পক্ষ- বিপক্ষ দাঁড় করায়। মোদ্দা কথা ধর্মের চরিত্র যা হবার কথা সেখান থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে সরে এসে সকল যুদ্ধের উপসর্গ হয়ে উঠে ধর্ম। ওই যে পক্ষ- বিপক্ষ ভাগ করতে সুবিধের হয় এবং মূল উপসর্গকে দূরে রাখতে। ইদানিং ধর্মের সাথে নতুন উপসর্গ হয়ে এসেছে মানবাধিকার ও মানুষ কল্যাণ (বলাই বাহুল্য, যা একপ্রকার আধুনিক ধর্ম তবে আসমানী নয)। তবে যত কিছুই সামনে আসুক না কেন যুদ্ধের মূল উপসর্গ বরাবরই থাকে ক্ষমতা এবং অন্যান্য সকল উপসর্গ কেবলমাত্র ব্যবহারিক অস্ত্র মাত্র, যা মূলত সহায়ক ক্রিয় (Auxiliary verb)।
এই যে আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধ চলছে। কি দেখতে পাচ্ছেন এখানে? ধর্ম আছে কি? উত্তর নিশ্চয়ই আছে হবে। মানবাধিকার বা মানুষের কল্যাণ আছে কি? উত্তর নিশ্চয়ই আছে। যুদ্ধের মূল কারণ কি এখানে ধর্ম বা মানবাধিকার বা মানুষের কল্যাণ? উত্তরটি সহজ উত্তর, না। তাহলে সঠিক উত্তর কি? মূলত তেল এবং এই তেল বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতাধর শক্তি। অর্থাৎ মূলে সেই ক্ষমতা।
একটু বিশেষভাবে লক্ষ্য করুন, আমেরিকা এইতো মাত্র কয়েকদিন পূর্বেই (অবশ্যই ইসরাইলকে সাথে নিয়েই) ভেনেজুয়েলায় ইতিহাসের সবচাইতে বড় জয় লাভ করেছে। ভেনেজুয়েলায় আমেরিকাকে অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করতে হয়নি তবে মেটিক্যুলাস ডিজাইনের ব্যবহারে সেটা করতে সক্ষম হয়েছে। কি সেই বড় জয়? ভেনেজুয়েলাতে প্রায় তিন’শ তিন বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ ছিল এবং পুরো তেলটাই এখন আমেরিকার দখলে। তবে এখানে একটি বড় রকমের সমস্যাও আছে। ভেনেজুয়েলার তেল অত্যন্ত ভারী তেল। প্রায় আলকতরার মতন ঘণ তেন। এতটাই ঘণ তেল যে, এই তেলকে পাইপলাইন দিয়ে তেল সাপ্লাই অসম্ভব। এই তেল সাপ্লাই করতে হলে প্রথমত আলকাতরা ঘণ তেলকে পাতলা করতে হবে অতঃপর সাপ্লাই সম্ভব। নতুবা ভেনেজুয়েলার তেল ভেনেজুয়েলাতেই পরে থাকবে। আমেরিকার অনেক রিফাইনারি তৈরী আছে ভারী তেল প্রসেস করার জন্য। তবে প্রসেস বা হালকা শেল অয়েলে ভেনেজুয়েলার আলকাতরা তেল রিফাইনিং করার জন্য যথেষ্ট নয়। এমন আলকাতরা তেল প্রসেসিংয়ে আমেরিকার প্রয়োজন ব্লেডিং এজেন্ট যা হালকা ক্রুড অয়েল। ভেনেজুয়েলার এই তেল প্রসেসিং করে সাপ্লাই করতে যে কেমিক্যাল কম্পোজিশন প্রয়োজন যা আছে ইরানের কাছে। আজ থেকে বহু বছর ধরে ইরান সেই একজাক্ট কেমিক্যাল কম্পোজিশন ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলাকে সহয়তা করে আসছে বা তেল হালকা করে ইরান মূলত ভেনেজুয়েলার অয়েল ইন্ডাস্ট্রিকে সচল রেখেছে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ভারী তেলের উপর শতভাগ কন্ট্রোল ইতিমধ্যেই নিয়ে ফেলেছে। এখন ট্রাম্পের প্রয়োজন ইরানের হালকা তেলের উৎস। ইহাই মূলত আমেরিকার সাথে ইরানের যুদ্ধের মূল কারণ। মানবাধিকার, ইরানের জনগণের জন্য কল্যাণ ও স্বাধীনতা বা বাক স্বাধীনতা অথবা ধর্মীয় বন্দি জীবন থেকে ইরানকে মুক্ত করা ইত্যাদি ইত্যাদি সবই মূলত গালগল্প।
আচ্ছা, লেখায় যেহেতু ধর্মের কল নেড়েছি তাই একটু ধর্মীয় অংশ ও ইরান বিষয়টি ছোট্ট করে উল্লেখ করছি। সাধারণ জ্ঞানে কি বলে? গালফ্ রেজিওনের যে সকল দেশ আছে, তাদের সাথেইতো ইরানের সাথে বন্ধুত্ব থাকার কথা ছিল। কিন্ত না তা হয়নি বা ঘটেনি। উল্টো গালফ্ রেজিওনের দেশগুলো ইরানের শত্রু এবং উল্টো আমেরিকার বন্ধু। বিষয়টি বেশ ভাববার বটে এবং অনেক বড় ইতিহাস। কেননা পাশের দেশের সাথে বন্ধুত্ব নেই যদিও একই ধর্মের মানুষ সবাই তবে হাজার মাইল দূরের দেশ আমেরিকার সাথেই বন্ধুত্ব।
আসলে কি করে এমন ঘটলো? কেন ইরান শত্রু এবং আমেরিকার বন্ধূ। লক্ষ্য করুন, আমেরিকা গণতান্ত্রিক দেশ। অপরদিকে গালফ্ রেজিওনের সকল দেশই রাজতন্ত্রের দেশ। আবার ধর্মও একেবারেই বিপরীতমুখী। ঘটনাটি মূলত শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ষাটের দশক থেকে। যে সময়ে আমেরিকার লাখ লাখ সৈন্য বিশ্বযুদ্ধের সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমেরিকা সেই ষাটের দশকে যুদ্ধে তেমন কোন আগ্রহ আর ছিল না এবং সামর্থ্যও কমে গিয়েছিল। আমেরিকা তখন নিজেদের রিপেয়ারিংয়েই বেশি নজর দেয়। নজর দেয় কিভাবে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা যায় এবং অর্থনীতি দ্বারাই নতুন করে শক্তিমান হবার চেষ্টায় লিপ্ত হয় আমেরিকা। সময়কাল হিসেবে সেই সময়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাংকলিন ডি রুজভেল্ট। আমেরিকাতে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে মূলত ভবিষ্যত ভাল পরিকল্পনাকারী প্রেসিডেন্ট হিসেবেই জনমানুষের ধারণা ছিল। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট সেই ষাটের দশকেই ভেবেছিলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডে যে দেশ তেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, সেই দেশই হবে পৃথিবীর সর্বশক্তিমান দেশ।
সেই চিন্তা থেকেই প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এগিয়ে যাবার ভাবনা ভাবেন তেলের নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের সময়েও সৌদীআরব ছিল মূলত গাও- গ্রাম বা একেবারেই গরীব একটি অতি সাধারণ দেশ। মোদ্দা কথা বিশ্বের অন্যান্য আরও বহু দরিদ্র দেশগুলোর চেয়েও দরিদ্র দেশ। সেই সময়ে সৌদীআরবে মূলত অবকাঠামো (Infrastructure) বলতে কিছুই ছিল না। সেই হতদরিদ্র সৌদীআরবে ৪৮ সালের দিকে গাওয়ার নামে এলাকাতে সন্ধান করে আমেরিকা তেল খুঁজে পায়। মাত্র একটি অঞ্চলেই এত তেল পৃথিবীতে আগে কখনও কোথাও মিলেনি। যেহেতু এত তেলের সন্ধান সৌদীআরবে মিলে যায় এবং সেটা তোলা এবং আশেপাশের দেশ থেকে সেই তেলকে রক্ষা করা, দুটোই ছিল সৌদীআরবে বড় ভয় এবং সেই ভয় , রক্ষা ও তেল উত্তোলন করে নিজ দেশের কল্যাণ করতেই প্রথম আমেরিকার সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। সহজ হিসেব আমেরিকার জন্য ছিল, তোমাদের তেল উত্তোলন করে দেবো, বিক্রি করে দেবো এবং তোমাদের তেল যেন কেউ নিতে না পারে জোর করে (মানে যুদ্ধ করে), সব দায়িত্ব চুক্তিতে আমেরিকার সাথে সৌদীআরব এবং সেই সময় থেকেই আমেরিকার সৈনিকদের ঘাটি সৌদীআরবে (সংক্ষেপে)।
আমেরিকার সাথে সৌদীআরবের সেই চুক্তিটি ছিল মূলত পেট্রোডলার চুক্তি অর্থাৎ তেল বিক্রি হবে সব ডলারের বিনিময়ে। সেটা যেখানেই বিক্রি হোক। ফলাফল ডলারের মান উপরেই থেকে যায় এবং সত্তুর দলক পর্যন্ত বেশ ভালই চলছিল। অতঃপর ঘটে ভিন্ন এক ঘটনা। সত্তুর দশকে ইজিপ্ট ইসরাইলের উপর হামলা চালায়। স্বাভাবিক কারণেই সৌদীর মাটি ব্যবহার করে আমেরিকা ইসরাইলের পক্ষে যুদ্ধ জড়িয়ে যায়। সেই যুদ্ধের কারণে সৌদীআরব থেকে আপত্তি উঠে কেন তাদের দেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সৌদীআরব সেই সময়ে সাল তিহাত্তুরে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। ফলে সেই সময়ে বিশ্ব জুড়েই তেল সংকটে পরে। এমনকি খোদ আমেরিকাও সেই সংকটে পরে। সেই সময়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নানান চিন্তাভাবনা থেকে অতঃপর সৌদীআরবের সাথে পেট্রোডলার চুক্তিটি একেবারেই অফিসিয়ালি চুক্তির আওতায় নিয়ে আসে এবং সেই সময় থেকেই মূলত বিশ্বের এই পেট্রোডলার চুক্তিটি নতুন করে পরিচিতি লাভ করে এবং যা আজও চলছে। যদিও সেই পেট্রোডলারের কাহিনীটা শুরু কিন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর তবে অফিসিয়াললি শুরু হয় প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সময়কালে।
এবার ছোট্ট করে ইরান আমেরিকার বর্তমান যুদ্ধের কিছু অংশ বলেই শেষ করব। এই যুদ্ধে কি ইরান জয়ী হবে? প্রশ্নের উত্তর না দিয়েও বলা যায়, ইরান বেশ অবগত আছে যে, এই যুদ্ধে জয় পরাজয় চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তেলের নিয়ন্ত্রণ ইরানের লাগবেই যেন ভেনেজুয়েলার তেল সাপ্লাই করতে ইরানকে আমেরিকা কাবু করতে না পারে। তাহলে করণী যা সেটাই ইরান কিন্ত বেশ ভালভাবেই করছে। বিশ্বে তেলের মূল্য বৃদ্ধির জন্য যা যা করণীয় ইরান সে দিকেই বেশ লক্ষ্য রাখছে নিজেদের লাভের জন্য। একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, এই যুদ্ধের মাঝেও ইরান কি তেল সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়েছে? উত্তর হলো না। তবে মূল্য ঠিকই বৃদ্ধি করতে পেরেছে। শোনা যাচ্ছে, ইরানের এই যুদ্ধের মূল টার্গেট হচ্ছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যত তেল যাবে, প্রতি ব্যারেলে ইরান এক ডলার আদায় করতে চায়। রাশিয়া আবার ইরানের সাথেই আছে মার্কিন মুল্লুককে চাপে রাখতে। অবশেষে এই যুদ্ধ থামবে এবং থামতেও বাধ্য হবে তবে তেলের শক্তি থেকে ইরানের শক্তি ব্যারেল প্রতি এক ডলার পেলেও ভবিষ্যতে ইরান শক্তিধর হবার সম্ভাবনার পথেই এগুবে। কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান আমেরিকা যুদ্ধে জয় পরাজয় মূলত তেল দিয়েই হিসেব হবে, অবশেষে।
লেখার শেষে বাংলাদেশ ও আমেরিকার সাম্প্রতিককালের চুক্তির কথা স্মরণ হলো যা ইউনূস সরকার ক্ষমতা ছাড়ার তিনদিন পূর্বে করে গেছে এবং যা নন ডিসক্লোজার চুক্তি। ভাবছি সময়ে এবং প্রয়োজনে এই নন ডিসক্লোজার চুক্তি আমেরিকা পেট্রোডলারের মতন অফিসিয়াল চুক্তিতে রূপান্তরিত করবে নিশ্চয়ই কেননা আমেরিকা তাদের স্বার্থের সাথে কোনপ্রকার ছাড় দেয় না কিন্ত। ভাবছন বাংলাদেশের তেল নেই তো। তাতে কি যায় আসে? আগামীতে বড় যুদ্ধে ভৌগলিক হিসেব থাকবে যে। বাংলাদেশ ভৌগলিক হিসেবে তেলের চেয়েও শক্তিধর হয়ে উঠবে কিন্ত।
বুলবুল তালুকদার 
শুদ্ধস্বর ডটকম 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.