“জলের শ্যাওলা”- লেখার শুরুতেই একটি কথা বেশ পরিষ্কার করে উল্লেখ করছি যে, একটি রাষ্ট্র চলে আইনের ছকে এবং আইনের ছকেই বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে চলতে হয় এবং সেটা রাজনীতির আলোকেই সর্বোচ্চ উত্তম পন্থা। কেননা বিশ্ব চলেই রাজনীতির দ্বারা এবং সেটাই সঠিক। বিনা আইনে রাষ্ট্র কখনোই চলতে পারে না এবং সম্ভব নয়। বিনা আইনে বা আইন বহির্ভূত রাষ্ট্রে কখনোই শান্তির বাতাস বহে না। বহু উদহারণ বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডে বর্তমানেও উদহারণস্বরূপ বহাল আছে।
কেন রাষ্ট্র এবং আইনের কথা বলছি ?
আসুন একটু অতীতে ফিরে গিয়ে আইন বোঝার চেষ্টা করি:
১৩ অক্টোবর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে গৃহীত একটি আইন:
“জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯” এই আইনটি একটু ঘাটাঘাটি করছিলাম। এই আইনে মূলত কি বলা আছে ? আসুন সংক্ষেপে আইনটি একটু দেখে নেই।
আইনটির ২ নং ধারায় বলা আছে: “পরিবার-সদস্য” বলতে জাতির পিতার জীবিত দুই কন্যা (অর্থাৎ শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানা) এবং তাঁদের সন্তানাদি বুঝাবে।
আইনটির ৩ নং ধারায় বলা আছে, এই আইনকে প্রাধান্য দিয়ে বলা হচ্ছে,আপাতত জারি আছে এমন অন্য আইনে যা ই থাকুক না কেন এই আইন কার্যকর হবে। শব্দটি লক্ষ্য রাখুন, “যাই থাকুক”।
এবার একটু আইনের ৪ এর ১- ২- ৩ এবং ৪ এর ক- খ ধারাগুলো একটু দেখে নেওয়া যাক:
আইনের ৪ এর ১ ধারায় বলা আছে:
Special Security Force Ordinance, 1986 (Ordinance No. XLIII of 1986) এর অধীন Very Important Person (VIP) এর জন্য যেরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে সেইরকম নিরাপত্তা সরকার জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণকে আজীবন সর্বস্থানে প্রদান করবে।
(একটু ভাল করে লক্ষ্য করুন, “সর্বস্থানে” শব্দটি। স্মরণে রাখুন আইনের একটি শব্দ বহু বাক্যের অর্থ করে)
৪(২) এ বলা আছে:
উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার পরিবার-সদস্যগণের মতামতকে প্রাধান্য দিবে।
৪(৩) ধারায় বলা আছে:
জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সরকার-
(ক) তাঁদের দ্বারা নির্ধারিত শর্তে উক্ত পরিবার-সদস্যগণের প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
(খ) সেসব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাবলিও তাদেরকে প্রদান করবে।
এই আইনের ২ নং ধারার ক,গ,ঙ এই তিনটি ধারা বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই নিচে উল্লেখ করছি।
২ নং ধারায় বলা আছে,
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(ক) ‘‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’’(VIP) অর্থ সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধান এবং এই আইনের উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, অনুরূপ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষিত অন্য কোনো ব্যক্তিও এই আইনের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
(গ) ‘‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পরিবারের সদস্যগণ’’ অর্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর দুই কন্যা এবং তাঁদের সন্তানাদি ও ক্ষেত্রবিশেষে তাঁদের সন্তানাদির স্বামী বা স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তানাদিও।
(ঙ) ‘‘বাহিনী’’ অর্থ বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (Special Security Force)
আসুন একটু উপরে উল্লেখিত আইনগুলোর সারমর্ম কি ? সেটা সংক্ষেপে বুঝে নেই।
২০০৯ এবং ২০২১ এর আইন দুটো থেকে এটা বেশ স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রের আইনের অনুমতি সাপেক্ষে এবং বলবৎ আইন দ্বারা (একটু লক্ষ্য করুন আমি শব্দটি লিখছি ‘বলবৎ’ ), “স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স” শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাদের উত্তরসূরীদের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য থাকিবে।
আইনের মারপ্যাচ বলে একটি কথা আছে। একটি রাষ্ট্রের যে কোন সময় বা যে কোন সরকার যদি রাষ্ট্রের ধারায় বা রাষ্ট্রের নিয়ম- নীতি অনুসরণ করে (বৈধ সরকার বা অবৈধ সরকার দ্বারা) কোন আইন জারি করে, সেই আইনটি ততখন পর্যন্ত বৈধ আইন হিসেবে গণ্য হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই আইনটি আবার পূর্ণ নির্ধারণ না হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নিয়ম- নীতি অনুসরণ করেই সেই আইনটি বৈধ উপায়ে বাতিল করলেই কেবলমাত্র আইনটি গণ্য হবে না। এছাড়া ভিন্ন পথ নেই।
হ্যা, বিশেষ কোন সরকার যদি বিশেষ কোন ঘটনা প্রবাহে এসে বিশেষ আইন জারি করে, বিশেষভাবে চলতি আইনকে রোহিত করে, সেই বিশেষ সরকারের বিশেষ আইনটিও একটি রাষ্ট্রে কখনোই গণ্য হয় না। হয়তো ক্ষমতার বলে তেমনটা ঘটে তবে কোন না কোন সময়ে সেটাই আবার বুমেরাং হয়। উপরেই লিখেছি, আইনের মারপ্যাচ বলে একটি কথা আছে। কেননা যত আবেগ বা ক্ষোভ জনমানুষের মনে থাকুক তবুও রাষ্ট্রকে আইনি পথেই হাঁটতে হয যে।
এবার একটু লক্ষ্য করুন, আইনটি হয়েছিল যখন তখন সালটি কত ? সেই সালটি কিন্ত ২০০৯ সাল। একটু স্মরণে রাখুন, সেই সময়ের সংসদের কথা। এক/ এগারোর পরে নির্বাচনের মাধ্যমেই গঠিত সরকার সংসদে তাদের দুই তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমেই আইনটি প্রণয়ন করে এবং আইনটি বলবৎ আছে।
হয়তো অনেকেই ভাববেন বিগত সরকার ১৪ তে বিনা ভোটে, ১৮ তে রাতের ভোটে, ২৪ অস্বাভাবিক ভোটে ইত্যাদি ইত্যাদি করে ক্ষমতায় ছিল। সেই সব সংসদ জনগণের সংসদ ছিল না। সবই ঠিক আছে তবে ২০০৯ সালে করা আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন কি করে ? তাছাড়াও যে আইন হয়ে যায়, সেই আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ, অনুযোগ বহু কিছুই করা যায় তবে আইন বাতিল করা যায় না। ইহাই কঠিন সত্য
তাহলে বাতিলের উপায় ? সহজ এবং সিম্পল। নতুন নির্বাচিত সরকারের দুই তৃতীয়াংশ সদস্য যদি সংসদে থাকে, তবেই হবে নতুবা ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষামান থাকতে হবে যতদিন ভিন্ন নতুন সরকার দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য নিয়ে হাজির হতে পারে। সেটা সরকার যেই পরিচালনায় থাকুক নি কেন, সরকারের সংসদ সদস্য দুই তৃতীয়াংশ না থাকুক, তাতে অসুবিধে নেই তবে সংসদে ভিন্ন দলের সাথে সমঝোতা করেও যদি দুই তৃতীয়াংশ হয়, সেটাও একটি পদ্ধতির অংশ। মোদ্দা কথা দুই তৃতীয়াংশ লাগবেই।
বিশেষ আইন করে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে বিচার করতে হলেও বিশেষ আইন আগে তৈরি করে নিতে হয়। সেটাও ওই সংসদেই হতে হয় কিন্ত।
আসুন একটু সংবিধানের ৪৭ এবার ৩ অনুচ্ছেদ কি বলে?
৪৭ (৩) অনুচ্ছেদ, এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য (বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন) কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করিবার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না ।
কেন আমি সংবিধানের ৪৭ এর ৩ নং ধারার কথা তুলছি?
আইনের তিন নং অনুচ্ছেদে দুটি শব্দ আছে, “গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ” (আমি অনুচ্ছেদের যুদ্ধাপরাধ আপাতত পাশে রেখেছি) এবং এই আইন, বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না ।
ইতিমধ্যেই কথা উঠেছে, গণহত্যাজনিত ও মানবতাবিরোধী কর্ম হইয়াছে জুলাই হত্যাকাণ্ডে এবং সেই কর্মটি রাষ্ট্র দ্বারা ঘটেছে। তাহলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রধান শেখ হাসিনা কেন এই আইনের অধীনে বিচারের সম্মুখীন হবেন না ?
সম্মুখীন হবেন বা হবেন না, সেটা ভবিষ্যতে বলা যাবে বা রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিবে তবে আইন স্পষ্ট করেই বলে যে, এই আইন দ্বারা শেখ হাসিনাকে আইনের অধীনেই মানবতাবিরোধী এবং গণহত্যাজনিত বিচার করা যাবে। আবার বলছি, হবে বা হবে না, ওটা আমার বলার বিষয় নয়। আইন কি বলছে? সেটাই তুলে এনেছি মাত্র।
তবে হ্যা, যদি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন করা হয়, রাষ্ট্র দ্বারা হত্যার বিচার আপনি চান কিনা ? রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার বিচার চান কিনা ? সেখানে আমার স্পষ্ট জবাব, এই বিচার না হলে রাষ্ট্র চিরজীবন কলঙ্ক বহন করে চলবে। আইনি বিচারের আওতায় যারা যারা জড়িত, হোক সেটা শেখ হাসিনা বা রাষ্টের প্রেসিডেন্ট।
যেমনটা সব সময় লিখেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রাষ্ট্রকে কলঙ্ক মুক্ত করেছে। প্রশ্ন হতে পারে বিচারের ভুলত্রুটি নিয়ে। তবে যাই ভুলত্রুটি ছিল, বিচার হয়ে রাষ্ট্র কলঙ্ক মুক্ত হতে পেরেছে এবং বলতেই হয় একাংশের বিচার হবার কারণেই অন্তত।
আসুন একটু বিচারের দুটো দিক দেখে নেই। একটি হলো জনমানুষের এবং অন্যটি মূলত আইনের হয়। একটি রাষ্ট্রে যখন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী কর্ম ঘটে তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ জনগণের দ্বারা একটি বিচার হয়েই যায়। কিভাবে হয় ?
লক্ষ্য করুন, ৭১ এ সাধারণ জনগণের দ্বারাই দেশে জয় আসে এবং স্বাধীন হয়। যুদ্ধাপরাধীরা পরাজিত হয়। তখন কি ঘটেছিল ? যুদ্ধাপরাধীদের বহুজনে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, লুকীয়েছে, নত মাথায় ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। ওটাই মূলত জনগণের দ্বারা বিচার। অতঃপর কিন্ত আইনি বিচার ঘটেছে। সুতরাং আইনি বিচারটা হতেই হয় রাষ্ট্রের স্বার্থেই। তাৎক্ষণিক জনগণের দ্বারা বিচারে ইমোশন থাকে যা একপ্রকার প্রশান্তির তবে আইনি বিচারই রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণের।
গত জুলাই হত্যায় কি একই ঘটনা ঘটেনি ? শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগ বা কঠিন সদ্য পলায়ন। সেটায় কি জনমানুষের মনে প্রশান্তির অংশ ছিল না ? ওটাই দীর্ঘ ১৫ বছরের জুলুম অত্যাচারের পরে রাষ্ট্র দ্বারা হত্যার গণ বিচার বলা যায়। এখন রাষ্ট্র কলঙ্ক মুক্ত তখনই হবে যখন আইনি বিচার হবে। তবে আইনকে আইনের পথেই হাঁটতে দিতে হবে।
আইনকে আইনের পথেই হাঁটতে দিতে হবে এবং সে কারণেই ২০০৯ সালের আইনটি উল্লেখ করেছি। শেখ হাসিনার বিচার চাইছেন তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই এবং আইন অনুসরণ করেই ভবিষ্যতে সব হোক। নতুবা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু হলে, সেটাও হবে রাষ্ট্রের জন্য আইনি অপরাধ। অনেককেই দেখছি, এক্ষুনি তাকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রেখে (সম্ভবত ইউনূস সাহেব প্রধান বলেই এমনটা ভাবেন) দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবী করছেন। বর্তমান অবস্থায় তাকে দেশে এনে আইনি ধারায় সব মেনে নিতে পারবেনতো ?
কেন মেনে নেবার কথা উল্লেখ করছি? ২০০৯ সালের আইনে কিন্ত স্পষ্ট করা আছে, যে কোন অবস্থানে এবং যে কোন সময়, উনাদের চাওয়া অনুযায়ী। আইনি ভাষায় বিরাট মারপ্যাচ আছে কিন্ত। সেখানে উল্লেখ নাই যদি কারাগারে বা বন্দি হলে, ইত্যাদি।
আর একটি বিষয় নজরে আনছি। গতকাল আইন উপদেষ্টা আসিব নজরুলের বয়ান অনুযায়ীই (আমি সঠিক জানি না মামলায় কি উল্লেখ করা হয়েছে?), হত্যা মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হত্যার বিচার হবে। মানবাধিকার বিষয়টি উল্লেখ করেননি এবং আমি বা আমরা আসলেই জানি না, মানবাধিকার বিষয়টি মামলায় উল্লেখ আছে কিনা ? অথবা সত্যিই (মামলা হয়ে থাকলে) মামলায় বয়ানে কি উল্লেখ আছে?
আরেকটি বিষয় ছোট্ট করে বলছি। জাতিসংঘের অধীনে বা জাতিসংঘের দ্বারা বা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে, যাই হোক না কেন, জাতিসংঘের নিয়েও বিশ্বে বহু প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। ফিলিস্তিন বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা কিন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। এমন বহু আছে। আমি বলছি না যে, জাতিসংঘের প্রয়োজন নেই। আমার বলাটি স্রেফ জাতিসংঘের চোখে আঙ্গুল তোলা এবং প্রশ্নবিদ্ধ, অতটুকুই বলা মাত্র। বিশ্বের ছোটো ও দূর্বল রাষ্ট্রগুলো কথায় কথায় জাতিসংঘের উপর বিশ্বাস রাখে তবে জাতিসংঘ কতটা সততার সাথে এবং বিনা প্রভাবে সব পরিচালনা করে? সেটাওএকটি প্রশ্ন মাত্র।
আরেকটি প্রশ্ন থেকেই যায়। বর্তমান সংবিধানের আলোকে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিন্ত কোনভাবেই বৈধ সরকার নয়। তাহলে একটি অবৈধ সরকার বিচার করতে পারেন কিনা ? প্রশ্নটি উঠলো অস্বাভাবিক কিন্ত মোটেও নয়। তবে হ্যা, আগামীতে যদি নির্বাচিত সরকার আসে এবং তারা বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে তাহলে বৈধ বা অবৈধ এমন প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগই থাকবে না। স্রেফ অনুধাবনের জন্য বলছি, আইনের বিষয়গুলোতে আমার আপন বচন বলে কিছুই নেই। এগুলো আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা মাত্র। হ্যা আইনের বহুপ্যাচে ভিন্ন কারো ভিন্ন কোন আইনি যুক্তি নজরে আসতেই পারে এবং সেগুলো কেউ প্রকাশ করলে অনুধাবন হবে। নতুবা আপাতত এর বাহিরে কিছুই নজরে আসছে না। জ্বি হা আইনি প্যাচ এমনটাই হয় যে।
সব শেষে বলি, এই রাষ্ট্রটি সেই স্বাধীন হবার পর থেকেই কখনোই স্বস্তির বাতাস পায়নি। শুরু থেকেই চলছে বহুবিধ ঘটনা। একটি সদ্য স্বাধীন দেশে শুরুতে নানান অঘটন ঘটে তবে পঞ্চাশ বছর পরে অন্তত স্বস্তি আসা উচিত। কেননা সব শেষে এই রাষ্ট্রটি আমাদের সবার এবং আমাদের আগামীর প্রজন্মের রাষ্ট্র। আর অস্বস্তির মাঝে রাষ্ট্রটি ঘুরপাক যাক, সেটা নিশ্চয়ই কেউ চায় না। আরও রক্ত ঝরুক সেটাও কারো কামনা নয়। আসুন সবাই অনুধাবন করি এবং রাষ্ট্রটিকে শান্তি দেই। রাষ্ট্রের শান্তি মানেই পরোক্ষভাবে জনমানুষের সেই কাঙ্খিত শান্তি। সেই শান্তির জন্য সর্বোচ্চ প্রয়োজন দাঁতাল রাজনীতির অবসান এবং সেই অবসান চিরস্থায়ী হবার পথ একমাত্র আইনি পথ।
বুলবুল তালুকদার
শুদ্ধস্বর ডটকম

