এই বছর লিওন ট্রটস্কির হত্যার ৮ ১ তম বার্ষিকী। ১৯৪০ সালের ২০ অগাস্ট মেক্সিকোতে স্ট্যালিনের গোপন পুলিশ (জিপিইউ) এজেন্ট Ramon Mercader -রামন মারকাডার হাতে ট্রটস্কি খুন হন। লিওন ট্রটস্কি পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অন্যতম প্রধান নেতা , রেড আর্মির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৃতীয়, কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের সময় সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা মার্কেডারকে গুপ্ত হত্যার কাজে ব্যবহারের জন্য রিক্রুট গিয়েছিল। প্রসঙ্গত স্পেনের উপনিবেশ ছিল মেক্সিকো ও মেক্সিকোর প্রধান ভাষা স্পেনিশ । ১৯৪০ এর দশকে বিপুল সংখ্যক স্প্যানিশ অভিবাসী মেক্সিকোতে বসবাস করতো। ১৯৩৬-১৯৩৯ সালের স্পেনের গৃহযুদ্ধের ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় সময় প্রচুর পরিমানের স্প্যানিশ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় মেক্সিকোতে এসেছিল।
মেক্সিকান আদালত ট্রটস্কির খুনের মামলায় মার্কেডারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল । বিচারকালীন সময়ে স্টালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত সরকার এই হত্যার দায় -দায়িত্ব অস্বীকার আসছিল। প্রায় বিশ বছর করা ভোগের পর মার্কেডার ১৯৬০ সালের মে মাসে ছাড়া পান। কারামুক্তির পর মার্কেডার প্রথমে কিউবা পরে সোভিয়েত রাশিয়ায় চলে যান। মার্কেডার ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। এই সময়কালে মার্কেডার কিউবা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বাস করছিলেন। সোভিয়েত রাশিয়া ১৯৬১ সালে মার্কেডারকে বীর পদক – Hero of the Soviet Union দেয়। ইতিহাসের নির্মম পরিহাস, সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম স্থপতি, লেনিনের সহযোগী ট্রটস্কি খুনী মার্কেডারকে বীর পদকে ভূষিত হন স্থপতিদের একজনকে খুনের পুরুস্কার হিসেবে। ।
লিওন ট্রটস্কি
ট্রটস্কি যুবক বয়সে তৎকালীন রাশিয়ার জার্ সরকার বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন। রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশ নেওয়ার অপরাধে দণ্ডিত হয়ে সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত হয়েছিলেন যুবক লেভ ডেভিডোভিচ ব্রনস্টেইন ( Lev Davidovich Bronstein ) ১৯০০সালে । মাত্র দুই বছর নির্বাসনে থাকার পর ১৯০২ সালে পর সাইবেরিয়ার থেকে পালিয়ে ইউরোপের প্রবাসী রাশিয়ার জার্ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। নির্বাসন থেকে পলানোর জন্য লিওন ট্রটস্কি নামের একজন জেল গার্ডের পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন যুবক লেভ ডেভিডোভিচ । সেই থেকে লেভ ডেভিডোভিচ হয়ে পড়লেন লিওন ট্রটস্কি । ১৯০৩ সালে ট্রটস্কি লন্ডনে লেনিনের সাথে ইস্ক্রা পত্রিকা সম্পাদনায় যুক্ত হন।
১৯০৫ সালের জানুয়ারী মাসে রাশিয়ার শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। শ্রমিকদের মিছিলে জারের পুলিশ বাহিনীর গুলিতে বেশ বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হয়। প্রবাসে ট্রটস্কির কাছে শ্রমিক বিক্ষোভের সংবাদ পৌঁছার পর ট্রটস্কি গোপনে রাশিয়ায় ফেরেন। এর পরে ট্রটস্কি শ্রমিকদের সংগঠিত করে নেতৃত্ব দেন। ১৯০৫ সালের রাশিয়ার বিপ্লবের সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ সোভিয়েতের চেয়ারম্যান ছিলেন ট্রটস্কি । সোভিয়েতে – হচ্ছে সৈনিক, কৃষক ও শ্রমিক পরিষদ ।
১৯০৫ সালের বিপ্লব অর্জিত বিজয়কে সংহত করে টিকে থাকতে সফল হয়নি। ১৯০৫ সালের রাশিয়ার অসফল বিপ্লবকে ভ. ই. লেনিন ভবিষৎ বিপ্লবের ড্রেস রিহার্সেল হিসাবে চিত্রিত করেছিলেন। বিপ্লব প্রচেষ্টার অপরাধে ট্রটস্কি সহ অন্য সংগঠকরা গ্রেফতার ও বিচারে মুখোমুখী হয়েছিলেন। বিচারে ট্রটস্কিকে আবারো সাইবেরিয়াতে নির্বাসিত হয়েছিলেন । ট্রটস্কির ১৯০৫ সালের বিপ্লবের সারসংকলন করে ‘রুশ বিপ্লব ১৯০৫: ফলাফল ও ভবিষ্যতে দিশা’ নামের একটি বই লিখনে ১৯০৬ সালে। ১৯১৭ সালের বিপ্লবের পর বলশেভিক পার্টি ও কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক ১৯১৯ সালে ছাপিয়ে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে সারা দুনিয়াতে প্রচার করে। লেনিন পরবর্তী ১৯২৪ সালে , ট্রটস্কির অন্য দশটি বই এর মত এই বইটি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিনিত হয়।
১৯০৭ সালে ট্রটস্কি আবারো সাইবেরিয়া থেকে পালিয়ে ইউরোপ প্রবাসী রাশিয়ার সমাজতন্ত্রীদের সাথে যুক্ত হন। প্রায় ১০ বছর নির্বাসিত জীবনে বিভিন্ন মার্ক্সবাদী পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন ট্রটস্কি। এই সময় কাল ছিল প্রথম মহাযুদ্ধ কাল। যুদ্ধ ইউরোপীয়ান মার্ক্সবাদী দলগুলিতে নিজ নিজ দেশের শাসক গোষ্ঠীকে সমর্থনের প্রশ্ন বিপুল ভাবে আলোচিত হয়। ট্রটস্কি ও লেনিন পৃথক পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে যুদ্ধ বিরোধী – আন্তর্জাতিকতাবাদী অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। রাশিয়ার বিপ্লবের প্রধান দুই নেতা লেনিন ও ট্রটস্কি কাছাকাছি সময়ে নির্বাসন থেকে রাশিয়া ফিরে আসেন ১৯১৭ সালের প্রথমার্ধে।
১৯০৩ থেকে ১৯১৭ সালের বিপ্লব পর্যন্ত ট্রটস্কি একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, তাত্ত্বিক , সাংবাদিক , লেখক ও বক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল। The Balkan wars : The war correspondence সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান কাজ।
কলম এবং কামান
১৯১৭ সালের রাশিয়ার সর্বহারা বিপ্লববের জয় বিশ্ব পুঁজিবাদীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে ব্রিটেন – ফ্রান্স – আমেরিকা সহ এক ডজনের বেশি দেশ সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। সাম্রাজ্যবাদী দেশ গুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ জড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি রাশিয়ার ক্ষমতাচ্যুত গোষ্ঠী গুলিকে বলশেভিক বিপ্লব বিরোধী যুদ্ধকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছিল। বলশেভিক পার্টির সামরিক বিশেষজ্ঞ ছিল না। সামরিক বিশেষজ্ঞ এমন কোন বিষয় নয় যে রাতারাতি গড়ে তোলা সম্ভব। বলশেভিক বিপ্লবের সাথে সাধারণ সৈন্যদের সংযোগ ছিল কিন্তু উপরের অফিসাদের মধ্যে তেমন কোন যোগাযোগ বা কাজ ছিল না।
জারের সেনাবাহিনীকে ভেঙে দিয়ে নতুন করে সামরিক বাহিনী গঠন করে সোভিয়েত রাশিয়া ১৯১৮ সালের জানুয়ারী মাসে । এই নতুন সেনাবাহিনীর নাম হয় রেড আর্মি। ট্রটস্কি নতুন সেনাবাহিনী গড়ে তোলা ও একই সাথে সাম্রাজ্যবাদী আক্রমন ও গৃহযুদ্ধে বিপ্লবকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব পর্যাপ্ত ছিলেন। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও সোভিয়েত রাশিয়াকে প্রতিবিপ্লবের বিরুদ্ধে রক্ষা করেছিলেন লাল বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ট্রটস্কি।
১৯০৫ সাল থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত ট্রটস্কি প্রচুর লিখেছেন , লেখালেখির এই ধারা অব্যাহত ছিল আক্ষরিক অর্থে খুন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। ১৯১৭ সালের বিপ্লবের পর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে সামরিক আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কলম ও কামানের সমন্বয় করে রেড আর্মির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। রেড আর্মির গঠন ও কমিউনিস্ট সামরিক নীতি নিয়ে ট্রটস্কির পাঁচ খন্ডের রচনা সমগ্রহ রয়েছে। এই লেখাগুলি সাধারণভাবে সোভিয়েত নীতি এবং বলশেভিক পার্টির অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে। সমস্ত লেখাগুলি যুদ্ধকালীন সময়ে ট্রটস্কির চিন্তার প্রতিনিধিত্ব। প্রায়শই গৃহযুদ্ধের বিভিন্ন প্রচারাভিযানের সময় রেড আর্মিকে কমান্ড দিতে ব্যবহৃত সাঁজোয়া ট্রেন ট্রটস্কির এই লেখা গুলি লিখিত হয়েছিল। The Military Writings of Leon Trotsky – ট্রটস্কির যুদ্ধ ও সামরিক বাহিনীকে নিয়ে লেখা বই গুলি ইংরেজি সহ বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত ।
মতবাদিক সংগ্রাম থেকে মৃত্যুদন্ড
১৯২৪ সালে, লেনিনের মৃত্যুর পর, সোভিয়েত রাষ্ট্র ও পার্টিতে আমলাতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। প্রলেতারীয় গণতন্ত্রের দাবীতে ট্রটস্কী সহ বামপন্থী গোষ্ঠী সরব ছিল । এই মতবাদিক সংগ্রামে স্টালিন পন্থীদের হাতে প্রাথমিক ট্রটস্কির হেরে যান। এই বিতর্কে স্তালিন পুরানো বলশেভিকদের সাথে আঁতাত করে ট্রটস্কীর চিন্তা ধারাকে চাপা দিতে সক্ষম হয়েছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়নে জোসেফ স্ট্যালিনের নেতৃত্বে প্রতি -বিপ্লবী আমলাতন্ত্র কার্যত অক্টোবর বিপ্লবের পুরো নেতৃত্বকে হত্যা করেছিল বিচারের নামে প্রহসনে। প্রহসনের বিচারের শিকার হয়েছিলেন জিনোভিয়েভ, কামেনেভ, বুখারিন এবং রাকভস্কি। এই বিচার কার্যের সাধারণ বৈশিষ্ট ছিল আসামিরা প্রায় একই ধরণের স্বীকারোক্তি দেওয়া। এই সব স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ১৯১৭ সালের লেনিনের সাথে যাঁরা বলশেভিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন তাঁদের প্রায় সকলের মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা হয়। রাকভস্কি এবং রাদেকের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে যেখানে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল – আসামিদের পরে গোপনে হত্যা করা হয়েছিল। বিচার ছিল জনসাধারণের দৃষ্টি থেকে দূরে পরিচালিত গণহত্যার অভূতপূর্ব প্রচারণার প্রকাশ্য চিত্র।১৯২৪ থেকে ১৯৪০ এর মধ্যবর্তী সময়ে বিচারের নামে প্রহসন করে ট্রটস্কী বিরোধী সংগ্রামে যাঁরা স্তালিনের পাশে ছিলেন তাঁদেরকে হত্যা করা হয় ।
নির্বাসিত ইতিহাসে ট্রটস্কী
স্তালিনীয় আমলাতন্ত্র ট্রটস্কীকে সোভিয়েত থেকে বহিস্কার করে ১৯২৮ সালে। সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বহিস্কৃত হওয়ার আগে নিজের জীবননাশের আশংকা করে বলশেভিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিকে চিঠি দিয়েছিলেন ১৯২৭ । তত দিনে বলশেভিক পার্টিতে আমলাতন্ত্র গভীর ভাবে জেঁকে বসেছিল, প্রতিকার পাওয়ার কোন আশা ছিল না। রাজনৈতিক – মতবাদিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে ট্রটস্কি এই চিঠি লিখেছিলেন। ট্রটস্কির রচনাবলীতে এই চিঠি স্থান পেয়েছে। ট্রটস্কিকে নির্বাসনে পাঠানোর পর ট্রটস্কির সমস্ত রাজনৈতিক সাহিত্য – মতবাদিক সংগ্রামকে নির্বাসনে দেওয়ার কাজ শুরু করে সোভিয়েত আমলাতন্ত্র। ট্রটস্কির সমস্ত বই সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশ নিষিদ্ধ হয়।
জন রীড আমেরিকান সাংবাদিক। রুশ বিপ্লবের সাংবাদিকতা করতে গিয়ে তিনি গভীরভাবে বলশেভিকদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন জন রীড। আমেরিকা ফিরে কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের কাজে সক্রিয় সহযোগিতা করেছিলেন রীড। দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন নামে বলশেভিক বিপ্লবের ইতিহাস লিখে সাংবাদিক হিসেবে জন রীড দুনিয়া জোড়া নাম করেন। এই বইয়ে ১৯১৯ সালের প্রকাশনার ভূমিকা লিখেছিলেন লেনিন। এই বইয়ে সোভিয়েত বিপ্লবের ভূমিকা বিভিন্ন নেতাদের নাম এসে যথাক্রমে স্তালিন ও বুখারিন ২ বার , জেনোভিয়েভ ৭ বার , কামোনিয়েভ ৮ বার, ট্রটস্কি ৫৩ বার ও লেনিন ৬৩ বার।
লেনিন ভূমিকায় লিখেন ” আমি গভীরতম উৎসাহ ও নিরবিচ্ছিন্ন আগ্রহের সঙ্গে জন রীডের বই দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন পড়েছি। আমি নির্দ্বিধায় পৃথিবীর শ্রমিকদের এই বইটি পড়তে বলব। আমি চাই, এই একটি বই অসংখ্য কপিতে মুদ্রিত হোক। সমস্ত ভাষায় অনুদিত হোক। সর্বহারা বিপ্লব এবং শ্রমিক শ্রেণীর একনায়কত্ব বাস্তবে বোঝার জন্য এই বই তাৎপর্যপূর্ণ , ঘটনাবলীর যথার্থ এবং সুখ পাঠ্য বর্ণনা । এগুলি হল আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের মৌলিক সমস্যা। এই সমস্যাগুলি এখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। জন রীডের বই নিঃসন্দেহে এই ধারণাগুলি গ্রহণ বা বর্জন করতে গুরুত্ব পূর্ন সহায়ক। ” [ অনুবাদ নিজেস্ব ]
স্তালিনীয় আমলাতন্ত্র অধীনে ১৯২৪ সালের পর থেকে যখন বিপ্লবের ইতিহাস লেখা নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারী চাপ তৈরী শুরু হয়। রীড অক্টোবর অভ্যুত্থানের নির্ণায়ক দিনগুলিতে স্তালিনকে কোনো জায়গাই দেননি। ট্রটস্কিকে দেখিয়েছিলেন লেনিনের সম-পর্যায়ের নেতা হিসেবে। রীডের বই সোভিয়েত আমলাতন্ত্রের কুনজরে পড়ে।১৯৩০-এর দশক থেকে স্তালিনের মৃত্যু পর্যন্ত বইটি সোভিয়েত ইউনিয়নে আর ছাপা হয় নাই। জন রীড ১৯২০ সালে মারা যান। রীড কপিরাইট দিয়ে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টিকে। সেখানে বহুদিন বইটি পুনর্মুদ্রিত হত ট্রটস্কী সম্পর্কে ইতিবাচক কথা ছেঁটে কেটে। ( সূত্র -George Orwell, ‘The Freedom of the Press, Orwell’s Proposed Preface to Animal Farm).
১৯২৪ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে লেনিনের অকাল মৃত্যু ছিল একটি রাজনৈতিক ট্র্যাজেডি । ১৯৪০ সালে ৬০ বছর বয়সে ট্রটস্কির হত্যাকাণ্ড ছিল একটি বিপর্যয়। ট্রটস্কি হত্যাকাণ্ড ছিল বলশেভিজমের সর্বশেষ জীবিত প্রতিনিধি হত্যা। ট্রটস্কির হত্যাকাণ্ড কেবল স্ট্যালিনের পক্ষ থেকে একটি বিদ্বেষপূর্ণ চিন্তা ছিল না। এটি ছিল বলশেভিক নেতাদের একটি সম্পূর্ণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি নিয়মতান্ত্রিক ও রক্তাক্ত সন্ত্রাসের চূড়ান্ত আঘাত।

অপু সারোয়ার

