প্যারিসে বাংলাদেশী নাট্যভিনেতা সোয়েব মোজ্জামেলের অভিনয়ে মুগ্ধ ফরাসীরা

নিজ গুন ও কর্ম দক্ষতায় ফরাসি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের সোয়েব মোজাম্মেল। ফ্রান্সে প্রবাসী খুব অল্প সংখ্যক বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক কর্মী আছেন যাঁরা ফরাসি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্থান করে নিতে পেরেছেন । ফরাসি থিয়েটারে সোয়েব মোজ্জামেলের বলিষ্ঠ অভিনয় ইতিমধ্যে অভিভূত করেছে ফরাসি দর্শকদের। “চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ফ্রান্স”-র অন্যতম সদস্য “সোয়েব মোজাম্মেল” দীর্ঘ দিন ধরে ফরাসি থিয়েটারে মঞ্চ অভিনয়, প্রশিক্ষণ ও আবৃত্তি নিয়ে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে অবস্থান কালীন সময়েও তিনি বিভিন্ন জেলাতে থিয়েটারে কাজ করেছেন। থিয়েটারের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা কারণে ত্যাগ স্বীকার ও করতে হয়েছে অপরিসীম, তবুও ধরে রেখছেন নিজের স্বপ্নকে পুঁজি করে । প্রবাসে অন্য সকলে যখন অর্থ উপার্জনকে প্রাধান্য দিয়ে দিন-রাত কাজের পিছনে ছুটে চলেছেন সেখানে সংস্কৃতি প্রেমী “সোয়েব মোজাম্মেল” মঞ্চ অভিনয় নিয়ে ছুটে চলেছেন ফ্রান্সের এক শহর থেকে অন্য শহরে। গত ১৬ থেকে ২৪ জানুয়ারি ফ্রান্সের Montpellier শহরে মঞ্চস্থ হয় তাঁর অভিনীত নাটক “De quoi hier sera fait”/ “What yesterday will be made of” । নাট্যকার Barbara Métais এর রচনায় নাটকটির নাট্য নির্দেশনা দিয়েছেন Marie Lamachère. এই নাটকে উঠে এসেছে কিভাবে কর্পোরেট বানিজ্যে শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে পৃথিবীর পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে, অদূর ভবিষ্যতে মানব সভ্যতা আরো কতটা বিপর্যয় ও ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। উদাহরণ হিসেবে নাটকে বাংলাদেশ, কানাডা, ফ্রান্স ও আলজিরিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এই নাটকে বাংলা, ইংরেজি, আরবি, স্প্যানিশসহ ফরাসি ভাষার কয়েকটি আঞ্চলিক রূপের ডায়ালগ ব্যবহার করা হয়। ব্যতিক্রমী এই নাটকে মঞ্চ ছাড়াও ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি অডিটোরিয়ামের বাইরেও অভিনয় দেখানো হয়। প্রাসঙ্গিক ভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার এই নাটকে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আয়োজক দলটি এই প্রোডাকশন নিয়ে খুবই আশাবাদী এবং পরবর্তীতে ফ্রান্সের বাইরেও নাটকটি মঞ্চায়নের ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত প্যারিসে তাঁর নাটকের দ্বিতীয় পর্বের মঞ্চায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। এরপরে আরো দুইটি শহরে ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। এছাড়াও সোয়েব মোজাম্মেল প্যারিসে নিজ উদ্যোগে আয়োজন করে চলেছেন কবিতা চর্চার অনুষ্ঠান “কবিতায় আড্ডা” যেখানে উপস্থিত থাকেন কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীরা। প্রচার বিমুখ এই একনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মীকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য সকলের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে এবং তার নাটক উপভোগের জন্য সকল প্রবাসীদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশকে বিশ্বে সুনামের সাথে তুলে ধরা হবে।ফ্রান্স থেকে তথ্য ও ছবি পাঠিয়েছেন রাকিবুল ইসলাম ।
সানজিদা শিকদার /বার্লিন থেকে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.