৫ দফা দাবি মেনে নিয়ে নোটিশ চেয়েছে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা , নইলে আন্দোলনের হুশিয়ারি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যাল (বুয়েট) কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বেঁধে দেয়া সর্বশেষ পাঁচদফা দাবি মেনে নিয়ে নোটিশ দিতে বলা হয়েছে; না দিলে বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ ও আন্দোলন চলার হুশিয়ারি দিয়েছে আন্দোকারীরা।

শুক্রবার রাতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আবরার হত্যায় জড়িতদের সাময়িক বহিষ্কার, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ ও আবরার পরিবারকে ক্ষতিপূরণসহ পাঁচদফা দাবির পদক্ষেপসমূহ নোটিশ আকারে প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় বুয়েটে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে শুক্রবার বিকালে বুয়েট অডিটোরিয়ামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। আবরার হত্যার ৩০ ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসে আসার কারণে বৈঠকের শুরুতেই ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বুয়েট থেকে বহিষ্কারের। কিন্তু ভিসি সাময়িক বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেটা মেনে নেননি। তারা স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে অনঢ়। পরে রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ পাঁচদফা দাবি জানানো হয়।

২৮ অক্টোবর বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি না মানলে এ ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করারও হুশিয়ারি দেয়া হয়।

এদিকে আবরারের বাবা বলেছেন, আবরার হত্যার মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে দিয়ে দ্রুত শেষ করতে হবে এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আবরার ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আর কোনো পিতা-মাতার সন্তান হারানোর কষ্ট যেন বইতে না হয় তার স্থায়ী সমাধান চাই।

বরকতুল্লাহ বলেন, ছোট ছেলে ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সে ঢাকায় যেতে ভয় পাচ্ছে। সে ঢাকায় পড়তে যেতে চাচ্ছে না। আবরারের মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। এক ছেলেকে হারিয়েছি আর কোনো ছেলেকে হারাতে চাই না। আমি ছোট ছেলের নিরাপত্তা চাই।

শুদ্ধস্বর/এস এ কে

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.