মাহমুদুর রহমান মান্না কে বা কি ? ওনার পরিচয় লিখাটা এখানে অবান্তর । আমার ধারনা দেশের মানুষ আমার চেয়েও অনেক বেশি মান্না ভাইকে চেনেন এবং জানেন । আমি মান্না ভাইকে প্রথম দেখি বা পরিচয় হওয়ার সুযোগ হয়েছিল ৮০ দশকের প্রথম দিকে আমার পিতামহ তুল্য মেজ ভাই হামিদ তালুকদারের মাধ্যমে । এরশাদ হঠাও আন্দোলনের সময় আমাদের বাড়িতে অনেক বার গোপন বৈঠকে মান্না ভাইয়ের উপস্থিতি আমাকে ভীষণ ভাবে আকর্ষণ করতো। সুদর্শন রুচিশীল একজন মানুষ । ওনার কথাবার্তা যারা সামনাসামনি শুনেছেন তারা নিশ্চয়ই আমার ধারণার সাথে একমত হবেন যে উনি জ্ঞানের দিক দিয়ে মোটেই গরিব নন। দেশ, সমাজ নিয়ে ওনার জ্ঞানগরিমার কথাবার্তা আমার জীবনে অনেকবার শুনার সুযোগ হয়েছে। সমাজ পরিবর্তনের কথাবার্তা গুলো আমার এখনও ভালো ভাবেই মনে ধরে আছে। অনেকেই ভাবতে পারেন আমি কি মান্না ভাইয়ের পিঠ চুলকাচ্ছি কিনা ? এখানে পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই গত ২৫ বছর মান্না ভাইয়ের সাথে আমার কোনো দেখা- সাক্ষাৎ হয়নি। তবুও মান্না ভাইয়ের সম্বন্ধে আমার চিন্তাধারা মোটেই বদলায়নি । যাকগে , যতটুকু জানি মান্না ভাইয়ের চিন্তাধারা , রাজনৈতিক দর্শন বিভিন্ন পথ হয়ে সর্বশেষ নাগরিক ঐক্যে সংগঠনের মাধ্যমে বর্তমানে নাগরিক ঐক্যে রাজনৈতিক দলে পরিণত হইয়াছে ।মান্না ভাইয়ের নাগরিক ঐক্যের ভবিষ্যত সুন্দর হোক এই কামনা করি ।
যা লিখতে এত কথা এখন সেখানে আসি। অতি নিকট বর্তমানে দেশে ” টেলিফোন কনফারেন্স ” এর গোপন রেকর্ড ধারন করা এবং জনগণের নিকট বিনামূল্যে বাজারজাত করে বিশেষ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের ইজ্জত কে বেইজ্জতি করা একটা সংক্রামক রোগের পরিণত হইয়াছিল । আশার খবর যে এই চর্চাটি আপাতত একটু নিম্নগামী । টেলিফোন কনফারেন্স রোগের সর্বোচ্চ প্রয়োগের বাজে নমুনা দেশের জনগণ দেখিয়াছিলেন বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বেলায় । সেই টেলিফোন কনফারেন্স এর সূত্র ধরে এখনও আমাদের জনৈক রাজনীতিবিদগণ , সাংবাদিক কিংবা শুসীল গণ যেভাবে টেলিভিশন কিংবা খবরের কাগজে কথাবার্তার মারপ্যাঁচ খেলেন ! দেখিয়া বিস্মিত হইতে হয়।
এইরকম এক সংক্রামক টেলিফোন কনফারেন্স যাহা কিনা ” মান্না বনাম খোকা এবং মান্না বনাম জনৈক অপরিচিত ব্যক্তি ” যার বিনিময়ে জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না দুইটি বছর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথিত ষরযন্ত্রের কারণে জেল খেটে কিছু দিন হয় বের হয়েছেন। অন্যায় করলে জেল খাটবেন ,শাস্তি হবে তাতো অতি স্বাভাবিক , সেখানে আমর কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্নটি ভিন্ন জায়গায়, কি ছিল সেই টেলিফোন কনফারেন্সে ?
আমি অতি মনোযোগ সহকারে টেলিফোন কনফারেন্স দুটি শুনেছি । জনৈক অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথাবার্তায় আমার ধারণা হয়েছে জনাব মান্না ভীষণ রকম ভীরু ছিলেন । কথাবার্তায় উনি বেশ কয়েকবার উচ্চারণ করেছেন ” আর্মি বিষয়ে কথা বলা আমি স্বস্তি বোধ করি না, আমার আর্মি বিষয়ে ভীষণ ভয় হয় “। যেখানে মান্না ভাই নিজেই বলেন আমার আর্মি বিষয়ে ভয় হয় , তাহলে উনি কেন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষরযন্ত্র করতে যাবেন ? করবেনই বা কি করে ? মামলা যেহেতু চলছে সত্য একদিন প্রকাশ হবেই। সেই সত্যের অপেক্ষায় থাকাই ভালো ।
খোকা বনাম মান্না টেলিফোন কনফারেন্সে , মান্না ভাইকে একবারও বলতে শুনেনি কোথায় ও উনি লাশ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন ! তবে হা , খোকা সাহেব যখন বললেন ওরা লাশ ফেলতে দ্বিধা করবে না , লাশ ফেলে দিবে । তখন মান্না ভাইয়ের কথায় একবার উচ্চারিত হইয়াছে , দুই একটা পরলে কি করা! আমার ধারণা ” দিয়েছিতো রক্ত আরো দিবো রক্ত” এই জাতীয় তির্যক মার্কা উচ্চারিত মিছিলের স্লোগান গুলো মানুষের জীবনে নিজের সাধারণ কথাবার্তায় মিশ্র হইয়া যায। এই জাতীয় কথাবার্তা সাধারণ জনগণ অহরহ বলিয়া বেরায়। মান্না ভাই হয়তো বা কি হতে পারে , টেলিফোন কথাবার্তায় সে বিষয়টি কে অতটা গুরুত্বপূর্ণ না ভেবেই কথা চালিয়ে গেছেন , বিধায় টেলিফোনে সাধারণ আলোচনায় এই জাতীয় কথার প্রকাশ দেখা গেছে।
আমি সাধারণ জনগণের কথা বলছিলাম, তাই একটি ঘটনার কথা এখানে বলি। ১৯৯৬ সালে প্রবাস থেকে দেশে এসেছিলাম । সেই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে অহরহ হরতাল, মিছিল, মিটিং রাজপথের নিত্যদিনের ঘটনা। সেই সময়ে অনেকের সাথে আন্দলোন , হরতাল নিয়ে আলোচনায় কেউ আমাকে একদিন এসে কথার ফাঁকে বললো ” আজকে তিনটি উইকেট পরেছে ” ? আমি তো হতভম্ব! কোনো খেলা নাই , হতে পারে আমি জানিনা ।দেশে যখন আছি একটা খেলাও দেখলাম না ! এই ভেবেই জিজ্ঞাসা করলাম ” বাংলাদেশের সাথে আজকে কার খেলা হচ্ছে ” ? প্রশ্ন শুনে তার হাসি কে দেখে । আমি তো এখনও বোকার স্বর্গে আছি। তার উওর ছিলো ” আরে মিঞাভাই , আপনে কোন দেশত্ আছেন ? মাত্র তিনটা লাশ পরেছে, মানে লাশরে এখন প্রতিদিন উইকেট হিসেবে গণনা করা হয়। সাধারণ জনগণ কথাবার্তায় অনেক কিছুই বলতে পারে ।
তবে হ্যাঁ, সাধারণ জনগণ অনেক কিছুই বলতে পারেন এবং বলবেন । কিন্তু আমি নিজেও কোনো ভাবে মান্না ভাইয়ের নিকট এই ধরনের কথা আশা করি নাই। যদি ইহা টেলিফোনে কথাবার্তা অসাবধানতাবশত হয়ে থাকে, তারপরও মান্না ভাইয়ের মুখে মাননসই অবশ্যই নয়। যেকোনো কারণেই হোক মান্না ভাইকে টেলিফোন আলাপচারিতায় একটু উত্তেজিত মনে হয়েছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আজকের মান্না ভাই নিশ্চয়ই নিজেও উপলব্ধি করেন বলে ধারণা করি। এখানে আমি পরিষ্কার বলতে চাই মান্না ভাই লাশের রাজনীতি করবেন আমি মোটেই বিশ্বাস করি না । আমি জোর গলায় বলতে পারি যারা মান্না ভাইকে চেনেন , তারা কখনো বিশ্বাস করবেন না যে , মান্না ভাই লাশের রাজনীতি করবেন বা চান ।
মান্না ভাইয়ের দুরবস্থায় ওনার কাছের অনেক সাংবাদিক বন্ধু, অনেক সুশীল মানুষদের দেখেছি কিভাবে ওনারা মান্না ভাইকে নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে টেলিভিশন গুলোতে কথাবার্তা বলেছেন । মান্না ভাই হয়তোবা আজও ওনাদের নিজের শুভাকাঙ্ক্ষী, অগ্রজ, অনুজ কত কিছুই ভাবেন , ভাবতেই পারেন । তবে …। ( ওনাদের নিয়ে ভবিষ্যতে লিখবার ইচ্ছা রইলো )
যারা এই লিখাটি পড়বেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি , ভলতেয়ারের সেই বিখ্যাত উক্তিটি নিশ্চয়ই সবার জানা আছে , আমি আর নাইবা লিখলাম । যদি ভলতেয়ারের কথা মনে ধারন করেন ,তাহলে সকলের বিশ্বাস থেকে যেকোনো লেখার প্রতিও সম্মান দেখাবেন। আজকাল ফেসবুকে বা অন্যান্য সোসাল মিডিয়ায় মান্না ভাইকে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করে অনেক মন্তব্য চোখে পরে। তাই আজকের এই লেখা , সত্যের সন্ধান করে মানসম্মত সমালোচনা অনেক বেশি সম্মানের ।

