Sunday April18,2021

যে ২ শর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সায় দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ডের কার্যকারিতা আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সোমবার দুপুরে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়ার সাজা আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন করেছেন। এ ক্ষেত্রে দুটি শর্ত রয়েছে।

শর্তানুযায়ী, মুক্ত থাকার সময়ে খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

আইন মন্ত্রণালয় যে মতামত দিয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়া দেশের ভেতরে বিশেষায়িত চিকিৎসা নিলে তাতে সরকারের আপত্তি নেই।

সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া নিজের পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতে পারবেন বাসায় থেকে। হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করলে যাবেন। তবে দেশে থেকে শর্ত মেনেই করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১-এ খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে এ মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

চলতি মাসের শুরুর দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করে এ-সংক্রান্ত আবেদন করেন।

আবেদনে সাজা মওকুফ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শর্ত শিথিল করারও আবেদন করা হয়।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গত বছর ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি পান। ওই মুক্তির ছয় মেয়াদ শেষে গত বছর সেপ্টেম্বরে আগের শর্তে তা আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়। তখনও একই শর্ত দেওয়া হয়।

৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানে তার ভাড়া বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন। তিনি আর্থারাইটিসের ব্যথা, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।