Sunday April11,2021

বাংলাদেশের আদালত গত মাসে আল-জাজিরায় প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম থেকে সরানোর নির্দেশ দিলেও এখনো তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বিটিআরসি জানিয়েছে, ফেসবুক ও ইউটিউবকে মেইল করলেও তারা আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র জানান, ‘তবে তাদের সাথে আমাদের আলোচনা হচ্ছে। তারা আমাদের আবেদন পর্যালোচনা করছেন।’

কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা গত ১ ফেব্রুয়ারি ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ তথ্যচিত্রটি প্রচার করে। এরপর আইনজীবী এনামুল কবির তথ্যচিত্রটি বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর উল্লেখ করে তা বন্ধের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল বেঞ্চ ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম থেকে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ সরানোর নির্দেশ দেন বিটিআরসিকে। বিটিআরসি ওই দিন বিকেলেই ফেসবুক ও ইউটিউবকে সরানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র জানান, মেইল পাঠানোর পর ফেসবুক-ইউটিউব বিটিআরসিকে কোনো মেইল করেনি। তবে টেলিফোনে কথা হয়েছে। এখনো কথা হচ্ছে। তারা পর্যালেচনা করছেন। কিন্তু অফিসিয়াল কোনো জবাব আসেনি এখনো।

বাংলাদেশের আদালতের নির্দেশ ফেসবুক ইউটিউব মানতে বাধ্য কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইনি কোনো কাঠামো না থাকায় আইনি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আদালতের নির্দেশনা, আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে তারা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। আর ওরা ওদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা বন্ধ করে দিলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে তো আর বন্ধ হবে না। তাই শুধু আমরা কেন, পৃথিবীর কোনো দেশই ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবের লিংক বন্ধ করতে পারে না। আমরা দেশীয় প্ল্যাটফর্মে বন্ধ করলে তো দেশে পুরো ফেসবুক ইউটিউব বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা সেটা চাই না।’

আদালতের নির্দেশে সরাসরি আল-জাজিরাকে কোনো চিঠি দেয়া বা তাদের দিক থেকে লিংক বন্ধের কোনো কথা বলা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত ফেসবুক ইউটিউবের সাথে যোগাযোগ রাখছি।’

বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা ই কিবরিয়া বলেন, ‘ফেসবুক, ইউটিউব অ্যামেরিকান প্রতিষ্ঠান।তারা দেখবে আমরা যেটাকে অপরাধ বলছি তাদের দেশে সেটা অপরাধ কিনা। অবশ্য তারা অপরাধ মনে না করলেও বাংলাদেশে ফেসবুক-ইউটিউব বন্ধ করে দেয়া যায়। আর সেটা বাংলাদেশ করবে কিনা তা সরকারের সিদ্ধান্ত।’

তিনি জানান, ফেসবুক ইউটিউবকে আদালতের আদেশের লইয়ার্স সার্টিফিকেট পাঠানো হয়েছে। এখনো সার্টিফায়েড কপি পাওয়া যায়নি। সেটা পাওয়ার পর তাদের পাঠানো হবে।

ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ টেকনোলজি অফিসার সুমন আহমেদ সাবির জানান, অনেক লোক দেখেছে এরকম একটি কনটেন্টই ফেসবুক ইউটিউব অফলোড করেছে। আর সেটা হলো, নিউজিল্যান্ডের মজজিদে মাস কিলিং-এর ভিডিও। তারা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে সব ভিডিও চিহ্নিত করে, টাইম লেগেছে, কিন্তু রিমুভ করেছে। তারা সরকারের কনটেন্টও ব্লক করে। যেমন, মিয়ানমার আর্মির কনটেন্ট তারা ব্লক করে। কারণ তারা মনে করছে এটা মানবাধিকারের বিরুদ্ধে। ‘ওদের নিজস্ব পলিসি আছে। সেই পলিসি অনুযায়ী ওরা ব্যবস্থা নেয়। বাংলাদেশ সরকার অনুরোধ করেছে সত্য তবে ওদের কাছে এটা বোধ হয় মেরিটলেস মনে হয়েছে তাই প্রত্যাহার করেনি। সব ক্ষেত্রে যে তারা জবাবও দেয় তাও না।’

প্রতিবছরই ফেসবুক ইউটিউব ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে তারা জানায় কোন সরকার কতগুলো অনুরোধ করেছে। তার মধ্যে কতগুলো তারা রেখেছে, কতগুলো রাখেনি , জানান এই তথ্য প্রযুক্তিবিদ।

২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ ফেসবুকের কাছে ৩৭১ টি অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে। শতকরা ৪৪ ভাগ ক্ষেত্রে ফেসবুক সাড়া দিয়েছে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে।