Tuesday April20,2021

 ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের আগমনকে কালো মেঘ বলে অভিহিত করেছেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দেশে কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। আজকে জয়শঙ্কর এসেছেন, সেই গৎবাধা কথাই বলছেন।’

শনিবার (৬ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও করা হেফাজতে লেখক মুশতাকের মৃত্যুর প্রতিবাদে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এ কথা বলেন। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি এই মানববন্ধন  আয়োজন করে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভারত ফেলানী হত্যার বিচার কি করেছে? প্রতি সপ্তাহের সীমান্তে মানুষ মারা যাচ্ছে। আজকে কানেক্টিভিটি মানেটা কি? গুজরাটের পণ্য আসামে যেতে পারে না, সেটা আমার উপর দিয়ে যাবে, সুলভে। আর আমরা আমাদের বুকের রক্ত দিয়ে করা দেশটা তাদের জন্য ছেড়ে দেব।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,  আপনার উজবুক মন্ত্রীদের কথা না শুনে, এই আইনটি বাতিল করেন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয়েছিল তখন চাটুকারেরা কোথায় ছিল? অজানা ঘটনা ঘটলে আপনার ডা. হাছান মাহমুদ বলেন, আর আনিসুল হক বলেন, এদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না ।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে চাই, শেষ মুহূর্তে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে, তার মদদে উনি সাহস করে টিকা গ্রহণ করেছেন। যে করোনা টিকা এতদিন নেওয়ার আহবান জানাচ্ছিলাম, সেটা উনি এতদিন নেননি।

তিনি বলেন, যে তথ্যগুলো উনি প্রকাশ করেননি, সেটা হলো এই টিকা কোন টিকা। এটা কি অ্যাস্ট্রোজেনেকার  টিকা নাকি ভারতীয় উৎপাদিত কোন টিকা। নাকি জনগণ যে টিকা পেয়েছে সে টিকা। সেই সঙ্গে আমি উনাকে শোকবার্তায় জানাচ্ছি, দিনের ভোট রাতে নেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রণের যিনি মাস্টারমাইন্ড, এইচটি ইমাম সাহেব, দুদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। যার মৃত্যুতে যত না ক্ষতি হয়েছে রাষ্ট্রের জনগণের, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আপনার। তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে এইচটি ইমাম একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের তার অংশগ্রহণ ছিল।

তিনি বলেন, এই সত্যটা প্রকাশ করতে হবে যে আপনি কেন ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্ট করেছিলেন। আপনাকে প্রকাশ করতে হবে যে এইচটি ইমাম যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের পুরা ট্রেজারির থেকে উনার কাছে ছিল, কত টাকা প্রবাসী সরকারের কাছে আমলারা জমা দিয়েছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, একটা কার্টুনিস্ট কার্টুন এঁকে ব্যঙ্গ করে দেশের কি ক্ষতি করতে পারে তাকে ১০ মাস জামিন দেননি। লেখক মোশতাক আহমেদের কথা আপনারা বলছেন তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে কিন্তু কাউকে যদি আপনারা চিকিৎসা না দেন তাহলে সেটাকে কি স্বাভাবিক মৃত্যু বলা যাবে?

ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী দাবি করেন, বর্তমানে এক লাখের বেশি ব্যক্তি কারাগারে আছে, ব্রিটিশ আমলেও এত মানুষ জেলে ছিল না পাকিস্তান আমলেও না। ঢাকার কাশিমপুর বলেন আর কেরানীগঞ্জ বলেন সেখানকার হাসপাতলে একটা ইসিজি মেশিন নাই, ভেন্টিলেটর নাই। আপনার বাবা তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে ও কারাগারের এই হাসপাতালগুলোর দূরবস্থার কথা বলে গেছেন। এইভাবে প্রতারণা করে আর কতদিন চলবেন।

এনডিপি‘র চেয়ারম্যান কেএম আবু তাহের এর সভাপতিত্বে  বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, দেশ বাছাও মানুষ বাঁচাও সভাপতি কেএম রাকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।