Wednesday April14,2021

আড়াই বছর পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে দশটা থেকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে জানিয়েছেন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

অবৈধ লেনদেন, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৮ সালের ১৬ অগাস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমীর খসরুকে তলব করে নোটিশ দিয়েছিলেন দুদকের তৎকালীন পরিচালক কাজী শফিকুল।

ওই নোটিশে একই বছরের ২৮ অগাস্ট সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে তা‌কে হাজির হতে বলা হয়েছিল।

আমীর খসরুর বিরুদ্ধে বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারের পাশাপাশি স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও নিজের নামে শেয়ার ক্রয়সহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ার কথা ওই নোটিশে বলা হয়েছিল।

আমীর খসরু তখন উপস্থিত না হওয়ায় একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর হাজির হতে আরেকটি নোটিশ পাঠায় দুদক। কিন্তু তিনি নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এরপর ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠান তিনি। হাইকোর্টে এই রিট বিচারাধীন জানিয়ে এর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ না নিতে অনুরোধ জানান।

পরে একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ওই রিট আবেদন বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য তোলা হলে তা সরাসরি খারিজ করে দেয় আদালত। পরে ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট আমীর খসরু ও তার স্ত্রীকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে পৃথক নোটিশ দেয় দুদক।

ওই নোটিশে আমীর খসরুর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এরপর সর্বশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আমীর খসরু, তার স্ত্রী তাহেরা খসরু আলম এবং ভায়রা (স্ত্রীর বোনের স্বামী) গোলাম সরোয়ারকে তলব করে নোটিশ পাঠান দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর আমির খসরু ও তার স্ত্রী তাহেরা খসরু আলমকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক।