Tuesday April20,2021

২০১৮ সালের পর থেকেই বিএনপিকে ডিফেন্সিভ পজিশনে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর  নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে  বিএনপিকে আন্দোলনের প্রস্তাব দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা , কিন্তু বিএনপি আন্দোলন করতে  অপারগতা প্রকাশ করে , তারপর সংসদে যাবে না বলেও মাথা নিচু করে অত্যন্ত কম সংখ্যক সদস্য নিয়েই সংসদে প্রবেশ করে   এবং সংসদে তাদের সেরকম কোন ভুমিকা পালন কর‍্যতে দেখা যায়নি যা  জনগণের  দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে  , তারপর থেকে বিএনপি আর আন্দোলনমুখী হয়নি ,   মাঝে মধ্যে নিরীহ মানব্বন্ধন  প্রেস ক্লাবে সভা করা ছাড়া     তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথে একটি মিছিল বা জনসভাও  করেনি ।

সম্প্রতি পৌরসভার নির্বাচনে তারা  কারচুপির অভিযোগ আনলেও কারচুপির কোন জোরালো প্রতিবাদ করেনি , এর আগে মেয়র নির্বাচনেও বিএনপি ভোট ডাকাতির অভিযোগ করেছিলো , কিন্তু ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে  রুহুল কবির রিজভির নিরীহ প্রেস কনফারেন্স ছাড়া তাদের আর কিছু করতে দেখা যায় নি । একবছর আগে মেয়র নির্বাচন হলেও তারা নগর ভিত্তিক সভা শুরু করেছে সম্প্রতি , পরাজিত মেয়র প্রার্থীরা এই সভা গুলোতে অংশ নিলেও তাদের নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবী তুলতে দেখা যায় নি ।  সম্প্রতি লেখক মুশতাক হোসেনের কারাগারে মৃত্যু নিয়ে মহাসচিব একটি বিবৃতি দিলেও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের কোন নেতাকর্মীদের রাজপথে একটি মিছিলেও দেখা যায়নি । লেখক মুশতাক হোসেনের মৃত্যু নিয়ে দেশ যখন উতপ্ত ঠিক তখনই বিএনপি তাদের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানিয়েছে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে   এবং  ঐতিহাসিক  ৭ই মার্চ পালনের সিধান্ত নিয়েছে যা অতীতে কখনও দেখা যায় নি  ।

বিশ দলীয় ঐক্যজোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়েছে , বিএনপির শীর্ষনেতাদের বক্তৃতা বিবৃতিতে এখন আর আগের মতো সরকার বিরোধিতা দেখা যায় না , সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে বিএনপি পুরোপুরি ডিফেন্সিভ পজিশনে চলে গেছে ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারনা , এটি বিএনপির কৌশল , বিএনপির প্রতিপক্ষ  এখন শুধু আওয়ামীলীগ নয় , পুরো প্রশাসন, এমনকি রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলোও এখন প্রতিপক্ষ , এই প্রবল রাষ্ট্র শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি আন্দোলন করে সফল হতে পারবে না  এটা বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বুঝে ফেলেছেন  , উল্টো এখন যে অবস্থায় তারা আছে তার থেকে আরও বেকায়দায় পড়বে , তাদের প্রতিটি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই মামলা আছে  এবং  প্রায় অধিকাংশ নেতাকর্মীই জামিনে আছেন , নতুন করে আন্দোলন করলে তাদের আরও বিপদের পরতে হবে ।  আবার অনেকে মনে করেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রেস্কিপ্সন অনুযায়ী বিএনপি রাজনীতি করছে , তাদের কাছ থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেলেই বিএনপি আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে । আসলেই বিএনপি এখন কোন পথে তা  দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে ।

হাবিব বাবুল, প্রধান সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম ।