Tuesday March2,2021

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, সরকার নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং তাদের কুকীর্তি আর আল জাজিরার রিপোর্ট অন্যদিকে প্রবাহিত করতে শহীদ জিয়ার রাষ্ট্রীয় খেতাব কেড়ে নিতে চায়। কিন্তু খেতাব কেড়ে নিয়ে জিয়াকে জনগণের মন থেকে মুছে ফেলতে পারবেন না। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে দেশে অনেক তন্ত্র আছে। আওয়ামী লীগের মিথ্যা তন্ত্র আছে। কিন্তু গণতন্ত্র নেই। তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে আমাদের এই আন্দোলন। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখার পর এখন গৃহবন্দী করে রেখেছে।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী বলেছেন- সরকারের কুকীর্তি নিয়ে আলজাজিরার রিপোর্টের পেছনে বিএনপি জামায়াতের হাত রয়েছে। আসলে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে বলবে যে বাংলাদেশে করোনার পেছনেও বিএনপি জামায়াতের হাত রয়েছে। এরা বিকৃত রুচিতে ভুগছে।

তিনি বলেন, সরকার কুকীর্তি করে, গণতন্ত্র হত্যা করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হত্যা করে মাফিয়া তন্ত্র কায়েম করেছে। এখন নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ জিয়ার খেতাব কেড়ে নেয়ার চক্রান্ত করছে। আমি বলতে চাই- তাকে অপমান করে কোনো লাভ হবে না।

রিজভী বলেন, আগামীতে জনগণ তাদের বিচার করবে যারা ক্যাসিনো করে, ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। জনগণ এখন সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার মূলত আল জাজিরার রিপোর্ট অন্যদিকে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে জিয়ার খেতাব বাতিলের চক্রান্ত ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আজকে নেয়াখালীতে ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীতে দুটি গ্রুপ তৈরি করে রেখেছেন। সেখানে তার ভাই মির্জা কাদেরের আন্দোলনে নিরীহ সাংবাদিক মুজাক্কিরকে প্রাণ দিতে হলো। এই হত্যাকাণ্ডের দায় প্রধানমন্ত্রীর। এই হত্যার দায় ওবায়দুল কাদেরের । তবুও তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। ওদের সমস্ত লজ্জা সরম ধুয়ে মুছে নিচে ফেলে দিয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের খেতাব কেড়ে নিলে দেশের সম্মান ভুলুণ্ঠিত হয়। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা অবসর প্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৮০ মুক্তিযোদ্ধা লড়াই করেছেন। অথচ আওয়ামী লীগ তালিকা করছে আড়াইলাখ।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আবদুস সালামের পরিচালনায় আরো অংশগ্রহণ করেন ড্যাবের সহসভাপতি ডাঃ সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ডাঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডাঃ মেহেদী হাসান, যুগ্ম মহাসচিব ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ডাঃ এরফানুল হক সিদ্দিকী, ডাঃ শেখ ফরহাদ, ডাঃ দোলন, ডাঃ পারভেজ রেজা কাকন, ডাঃ সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শহিদুল আলম, ডাঃ রফিকুল ইসলাম, ডাঃ মিজানুর রহমান, বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, ডা. নিলোফা ইয়াসমিন, ডাঃ ফারুক আহমেদ, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের গোলাম মাওলা শাহিন সহ শতাধিক নেতাকর্মী।