Tuesday March9,2021

মাদারীপুরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এক বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাঈদুর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন সুজন শেখ নামে ওই ব্যবসায়ী।

সুজন শেখ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাড়ইভাংগা গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে।

মামলার আসামিরা হলেন- দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই  মাহাবুব ও কনস্টেবল সোহাগ এবং শিবচরের সূর্যনগর এলাকার টুম্পা টেলিকম অ্যান্ড মোবাইল কর্নারের প্রোপাইটর টোকান বেপারি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩টার দিকে পদ্মা সেতু ভ্রমণ করে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন ব্যবসায়ী সুজন। মাঝপথে মাদারীপুরের শিবচরের সূর্যনগর এলাকায় আসলে সুজন মোটরসাইকেল থামিয়ে রাস্তার পাশের একটি দোকানে চা পান করছিলেন।

এ সময় সাদা পোশাকে থাকা দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই  মাহাবুব ও কনস্টেবল সোহাগ মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চান। সুজন কাগজপত্র দেখালে তা সঠিক নয় উল্লেখ করে ওই দুই পুলিশ সদস্য এটি চোরাই মোটরসাইকেল বলে দাবি করে। পরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওই দুই পুলিশ সদস্য।

সুজন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুজনকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখায় মাহাবুব ও সোহাগ। পরে সুজনের সঙ্গে থাকা বিকাশের টাকা পাশের টোকান বেপারির দোকানে গিয়ে মোবাইল থেকে বেশ কয়েকটি ম্যাসেজের মাধ্যমে এক লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নেয় ওই দুই পুলিশ সদস্য। পরে এ ঘটনা কাউকে যেন না বলে এই শর্তে সুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় ওই দিনই শিবচর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ কোনো পরামর্শ না দিয়ে চলে যেতে বলে। পরবর্তীতে সুজন শেখ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাঈদুর রহমানে আদালতে মামলাটি করেন। মামলাটির শুনানি শেষে বিচারক পরবর্তী তারিখের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।

মামলার বাদী সুজন শেখ জানান, কোনো কারণ ছাড়াই মোবাইল থেকে বিকাশের মাধ্যমে নগদ এক লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নেয় ওই দুই পুলিশ সদস্য। যার প্রমাণ আদালতে মামলার নথির সঙ্গে দেয়া হয়েছে। মূলত তারা ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এই টাকা নিয়েছে।

শিবচরের দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এমদাদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমাদের তদন্ত কেন্দ্রের দুই পুলিশ সদস্যের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এ কারণেই ব্যবসায়ী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আমাদের বড় অফিসাররা রয়েছেন, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত দায়ভার বাংলাদেশ পুলিশ নেবে না। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, মামলার কপি হাতে পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।