Friday March5,2021

সিলেটে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ নিয়ে সিসিক মেয়র-কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে বন্দুক উঁচিয়ে ধাওয়া করার সময় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। 

আটক ফয়সল আহমদ ওরফে ফাহাদ (৩৮) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক। সে নগরের পীর মহল্লার বাসিন্দা। এসময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র (একনালা) বন্দুক ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নগরের চৌহাট্টায় দু’দফা সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, আটক ফয়সল ওরফে ফাহাদ সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের অনুসারী বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনায় সিলেট জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আটক ফয়সল কেন বন্দুক তাক করে তেড়ে মেয়রের দিকে তেড়ে এসেছিলেন, তিনি কোন পক্ষের লোক ছিলেন, তা নিয়েও নগরজুড়ে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে বন্দুক উঁচিয়ে ধাওয়া করার সময় ফয়সলকে পুলিশ আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন বলেন, বুধবার সকালে চৌহাট্টা এলাকায় সিটি করপোরেশনের সড়ক প্রসস্তকরণ কাজে বাধাঁ দেন কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক। খবর পেয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানসহ অন্যান্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় হঠাৎ করে একটি একনলা বন্দুক হাতে ফয়সলকে মেয়র কাউন্সিলরদের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে হেফাজতে নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, মেয়রের সঙ্গে যখন ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফতাব ঘটনাস্থলে যান, সেই সময় ফয়সলও তার সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের সময় ফয়সলকে বন্দুক হাতে পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে ধাওয়া করতে দেখা গেছে।

চৌহাট্টা শাখার কার-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি অরুণ দেবনাথ জানান, বন্দুকধারী যুবক পরিবহন শ্রমিক নন, এমনকি স্ট্যান্ডে রাখা কোনো গাড়ির মালিকও নন তিনি।

ফয়সল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান।

তবে বন্দুক নিয়ে তার সঙ্গে ফয়সল ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন কি না, এ বিষয়ে আফতাব বলেন, ‘আমরা সেখানে কোনো রাজনৈতিক ঘটনায় যাইনি। আমার সঙ্গে অন্য কোনো নেতা বা কর্মী ছিলেন না। সিটি করপোরেশনের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে শুনে মেয়রসহ আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। এরপর শুনেছি একজন বন্দুকসহ আটক হয়েছে। এসবের কিছুই আমি জানিনা।’

এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ বলেন, বন্দুকসহ আটক ব্যক্তির নামে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে অস্ত্র আইনে মামলা করা হবে। সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া বলেও জানান ওসি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ জানান, চৌহাট্টা-আম্বরখানা সড়ক সম্প্রসারণ ও ফুটপাত নির্মাণের কাজ করছে সিলেট সিটি করপোরেশন। চৌহাট্টা এলাকায় সড়কের ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি করেছে কার ও মাইক্রোবাস শ্রমিকরা। সিটি করপোরেশন ও মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকার এই স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হলেও ফের ফুটপাত দখল করে নেন শ্রমিকরা।

বুধবার সকালে সিটি করপোরেশন অবৈধ স্ট্যান্ড সরাতে গেলে উত্তেজিত মাইক্রোবাস শ্রমিকরা সিসিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।