Tuesday March9,2021

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর এলাকায় সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মা ও স্কুলে পড়ুয়া মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে গাজীপুর সদরের জয়দেবপুর থানার পিরোজ আলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত দুই নারীর নাম মোক্তা ও শিল্পী। তাদের বাড়ি কালিয়াকৈর সিরাজপুর এলাকায়।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন জানান, দিবাগত রাত ৩টার দিকে গাজীপুর সদরের জয়দেবপুর থানার পিরোজ আলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকালে নির্যাতনের শিকার মমতাজ বেগম কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ করেন। শুক্রবার দুপুরে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূলহোতা সবুজ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সবুজ (৫০) উপজেলার সিরাজপুর এলাকার মৃত মুক্তার আলীর ছেলে। ভুক্তভোগীরা হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার সিরাজপুর এলাকার ৩০ বছর বয়সী বিধবা নারী ও তার ১৬ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া মেয়ে।

ওই ঘটনায় বিধবা নারী বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর একটি মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- চালক আব্দুল গফুর, মনির, রিপন, শিল্পি, মুক্তা, শহীদ, কুলছুম ও নয়ন সিকদার। এদিকে সবুজ এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও কালিয়াকৈর থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ওই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও ইন্ধনদাতা হিসেবে সবুজকে মামলায় আসামি করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় গত ৫ বছর আগে ভুক্তভোগীর স্বামী আব্দুর রশিদ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এর পর ওই নারী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বোনের জমিতে বসবাস করে আসছেন। এ ছাড়া তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করে তার মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভাব-অনটনের মধ্যে তাদের সংসার চলছে। কিন্তু তাদের সংসারে হানা দেয় একটি প্রতারক চক্র। ওই চক্রের ফাঁদে পড়ে স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক প্রায় ৩ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে বাধ্য হয়ে স্থানীয় গফুর ড্রাইভার ও মনির হোসেনের পরিবারসহ বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিতে হয়েছে।

এ বিষয় নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম সিকদার মধ্যস্থতা করে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় বেঁধে দেন। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময় শেষ না হতেই গফুর চালক, তার স্ত্রী কুলসুম বেগম, ছেলে রিপন হোসেন এবং মনির হোসেন ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে মুক্তা আক্তার, ছেলে শহিদ হোসেন, স্থানীয় নয়ন হোসেন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়ি ঘেরাও করে।

এ সময় তারা সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মমতাজ বেগমকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকে। মাকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে এগিয়ে গেলে তাকেও একই গাছে বেঁধে রাখে। এ করুণ দৃশ্যটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে ভুক্তভোগীর ছোট বোনকেও গাছের সঙ্গে বাঁধার চেষ্টা করেন।