Sunday February28,2021

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) আট সদস্যর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আজ বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আজ সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় এ মামলার আট আসামির মধ্যে ছয়জনকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। মামলার শুরু থেকেই বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। এ রায় ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ জানুয়ারি তিনি রায়ের এ তারিখ ঠিক করে দিয়েছিলেন। মামলার যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়েছে। আর আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রত্যাশা করেছেন তাদের আইনজীবীরা।

আদালত সূত্র জানায়, রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের ৩য় তলায় ‘জাগৃতি’ প্রকাশনী অফিসে ঢুকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফয়সাল আরেফিন দীপনের ঘাড়ের পেছনে আঘাত করে হত্যা করে।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ৪টার মধ্যে। হত্যাকাণ্ড শেষে অফিসের অটোলক তালা লক করে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা। সেদিন বিকালে দীপনের স্ত্রী শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি দক্ষিণের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান। চার্জশিটে আটজনকে অভিযুক্ত ও ১১ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

এর পর ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুজিবুর রহমান নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) আইটি এক্সপার্ট খায়রুল ইসলাম, সদস্য মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, মাইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান ও মো. আব্দুস সবুর ওরফে আবদুস সামাদ ওরফে সুজন ওরফে সাজু ওরফে সাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।