Saturday March6,2021

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে জীবন্ত নবজাতককে পানিতে ছুঁড়ে হত্যার পর মা-কেও চুবিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঘাতক নজরুল ইসলাম (২৯) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে নিহতের পরিবারকে দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) আসামির উপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত নজরুল ইসলাম পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের পাবদা গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের ছেলে।

অন্যদিকে নিহতরা হচ্ছে, রহিমা খাতুন (২৭) ও তার ৫৫ দিনের শিশুপুত্র আমিরুল। রহিমা খাতুন একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর।

মামলা বিবরণে জানা যায়, রহিমা খাতুনের প্রতিবন্ধিতার সুযোগে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল নজরুল। সালিশ দরবারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিতও হয়।

সালিশ দরবারে টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তিতে ২০১৬ সালের ১৯ই নভেম্বর কিশোরগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পুত্রসন্তান জন্ম দেয় রহিমা। সন্তান জন্মদানের পর নজরুলের ওপর রহিমাকে বিয়ের চাপ বাড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে শিশুটিকে পথের কাঁটা ভেবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে নজরুল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ই জানুয়ারি রহিমা খাতুন ও তার শিশুপুত্র আমিরুলকে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নজরুল বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাত ৮টার দিকে আঙ্গিয়াদি মীরের টেক আতার বাড়ি কালভার্ট এর ওপর গিয়ে যায়।

সেখানে জীবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে বিলের পানিতে ছুঁড়ে মারে নজরুল। এরপর বিলের পানিতে রহিমাকে চুবিয়ে মারে নজরুল। হত্যাকাণ্ডের ৮দিন পর ২১শে জানুয়ারি মিরারটেক বিলভরা গুদি বিল থেকে গলিত অবস্থায় রহিমা খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ২২শে জানুয়ারি এই ঘটনায় নিহত রহিমার বড় ভাই আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে হত্যা ও গুমের অভিযোগ এনে নজরুল ইসলাম, নজরুলের ছোট ভাই দ্বীন ইসলাম (১৮), বাবা সোহরাব উদ্দিন ও মা মদিনা খাতুন এই চারজনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করেন।

রহিমা খাতুনের লাশ উদ্ধারের ১০দিন পর ৩১শে জানুয়ারি সন্ধ্যায় একই স্থান থেকে শিশুপুত্র আমিরুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ১৬ই ফেব্রুয়ারি ভোরে ফেনী জেলার দাগনভূঞার শ্রীরামপুর এলাকার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পরদিন ১৭ই ফেব্রুয়ারি আদালতে জোড়া খুনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় নজরুল। মামলাটি প্রথমে পাকুন্দিয়া থানার আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মতিউর রহমান এবং পরবর্তিতে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহাব উদ্দিন তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে একমাত্র নজরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে ২০১৮ সালের ২৪শে জানুয়ারি আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়।

সাক্ষ্য-জেরায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি এডভোকেট যজ্ঞেশ্বর রায় চৌধুরী এবং আসামিপক্ষে এডভোকেট অশোক সরকার মামলাটি পরিচালনা করেন।