Tuesday March9,2021

ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার: সেনাসদরের দাবি প্রত্যাখ্যান জাতিসংঘের, দুর্নীতির তদন্তের আহ্বান

বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে আল জাজিরার তথ্যচিত্র “ওরা প্রধানমন্ত্রীর লোক”-এ যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মসূচির একজন মুখপাত্র। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কিনেছে বলে তথ্যচিত্রের দাবির বিষয়ে সেনাসদরের ব্যাখ্যাকেও অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।

নেত্র নিউজকে শান্তিরক্ষা মিশনের ওই মুখপাত্র বলেন, “বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিপরীতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যেই বিবৃতি দিয়েছে, তা নিয়ে আমরা অবগত আছি। দুর্নীতির অভিযোগসমূহ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, যা তদন্ত করে দেখা উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।”

তবে মুখপাত্র যোগ করেন যে, অনুসন্ধানী প্রামান্যচিত্রের মূল চরিত্র অর্থাৎ সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সাথে শান্তিরক্ষা কর্মসূচি বা পিস অপারেশন্স বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে লাখোয়া ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার পূর্বনির্ধারনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, ওই বৈঠক বাংলাদেশের অনুরোধেই আয়োজন করা হচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি নজরদারির সরঞ্জাম ক্রয়ের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) দাবিকেও প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘ। আইএসপিআর-এর মাধ্যমে সেনা সদরদপ্তর দাবি করেছিল, ওই নজরদারির যন্ত্র জাতিসংঘের একটি শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কেনা হয়েছিল।

 

 

তবে শান্তিরক্ষা মিশনের ওই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে শান্তিরক্ষা কর্মসূচি বিষয়ক জাতিসংঘের চুক্তিতে “আল জাজিরার প্রতিবেদনে বর্ণিত ওই ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা জাতিসংঘ চিহ্নিত করেনি। এই ধরণের যন্ত্র জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মসূচিতে বাংলাদেশি কোনো কন্টিনজেন্টে ব্যবহার বা মোতায়েন করা হয়নি।”

যেই ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন তা হলো “আইএমএসআই ক্যাচার”। একসঙ্গে কয়েক শত মানুষের মোবাইল ফোন নজরদারির কাজে এই যন্ত্র ব্যবহার করা যায়।

জাতিসংঘ মুখপাত্র বলেন, নির্দিষ্ট কিছু যোগাযোগে আড়ি পাততে কেবল একটি ক্ষেত্রেই এই ধরণের যন্ত্র ব্যবহার করে জাতিসংঘ। বিশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে “জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে” এই ধরণের সরঞ্জাম একবার ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এই ধরণের যন্ত্র শুধুমাত্র জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর গোয়েন্দা কার্যক্রমের নীতিমালা অনুযায়ী ও সরাসরি বাহিনী প্রধানের অধীনে ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মসূচির অভ্যন্তরীন কাঠামো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সংস্থাটির একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নেত্র নিউজকে বলেন, “আইএমএসআই ক্যাচারের মতো সরঞ্জাম শান্তিরক্ষা কর্মসূচির কোনো বিশেষ কন্টিনজেন্ট ব্যবহার করবে, এমনটা সত্যিই খুব অস্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে এই ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের নির্দিষ্ট নির্দেশনা বাংলাদেশের থাকতে হবে — যেটি ছিল বলে আমার মনে হয় না। এমনটা আমি কখনই শুনিনি।”

ওই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আরও বলেন, “‘স্টেটমেন্ট অব ইউনিট’ বা এসইউআর নথিতে একটি কন্টিনজেন্ট বা বহরের কী কী সরঞ্জাম প্রয়োজন, তার বিস্তারিত বিবরণী থাকে। পাশাপাশি, সরঞ্জামগুলো মোতায়েনের পূর্বে কী কী করণীয়, তারও বর্ণনা থাকে। মাঝেমাঝে এসইউআর নথিতে বর্ণিত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়াও অতিরিক্ত কিছু বিষয় কন্টিজেন্টগুলো নিজ খরচায় বহন করে। কিন্তু আমি কল্পনাই করতে পারি না যে এই ধরণের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সরঞ্জাম কোনো কন্টিনজেন্টকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে।”

ওই কর্মকর্তা বলেন, “সেক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে আগে থেকেই জাতিসংঘের সম্মতি থাকতে হবে। কিন্তু আমি কখনও শুনিনি যে জাতিসংঘ কখনও এই ধরণের সম্মতি দিয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণত গুপ্তচরবৃত্তির কাজ করে না, কখনই করে না।”সুত্র ,নেত্র নিউজ ।