Wednesday April14,2021

ভোটে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

রবিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে মহানগরের নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ৪ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগে ভোটে নানা অনিয়ম তুলে ধরেন তিনি।

এসময় ডা. শাহাদাত বলেন, ‘গত ২৭ ডিসেম্বর চসিক নির্বাচনে যে ২২ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে তা সঠিক নয়। বাস্তবে সাড়ে ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে নির্বাচনে, যার ৪ থেকে ৫ শতাংশ ছিল বিএনপি প্রার্থীর ভোট।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়াও বিভিন্ন কেন্দ্রে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ সদস্যরা বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ও বিএনপি সমর্থিত এজেন্টদের প্রবেশে বাধা, কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, আবার এক রুমে নিয়ে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ভোট ডাকাতি, প্রার্থীকে সঠিক তথ্য না দেয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন বিএনপির এ মেয়র প্রার্থী।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ভোটের দিন আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে সন্ত্রাসীদের এনে প্রশাসন কেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বুথের ভেতর গোপন কক্ষে ইভিএম মেশিনের বোতাম টিকে নৌকার ভোট নিশ্চিত করেছে। এক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ার পর ব্যালট প্যানেলে নৌকা প্রতীকে নিজেরাই চাপ দিয়ে দেয়।’

একইসঙ্গে ইভিএম মেশিন ভোটকেন্দ্রের বাইরে এনে প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করার নজির সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রহসনের এ নির্বাচন বাতিলের দাবি জানান বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহাবুবুর রহমান শামীম, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। ভোট দিয়েছেন মোট ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৩ জন। ভোটের হার ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। ১ হাজার ৫৩টি ভোট বাতিল হয়েছে।

এর মধ্যে নৌকার প্রার্থী রেজাউল পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।