Thursday March4,2021

বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশ এখন লুটের এক টেক্সবুক এক্সাম্পল। 

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, লুটের টাকার একটা বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়ে তৈরি হয় বেগম পাড়া কিংবা সেকেন্ড হোম। গত এক যুগের জানা-অজানা লুটের ফল হয়েছে বাংলাদেশে কোটিপতির বাম্পার ফলন।

সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, একটি বালিশ ৬ হাজার টাকা, একটি বঁটি ১০ হাজার টাকা, কাঁটা চামচ ১ হাজার টাকা, দুধে পানি মাপার যন্ত্র ৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা, বর্জ্য রাখার পাত্রের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তালা ৫ হাজার ৫৫০ টাকা, বালতি ১ হাজার ৮৯০ টাকা, একটি মেডিকেল বই ৮৫ হাজার টাকা, পর্দা ৩৭ লাখ টাকা, টেলিফোন ১৫ লাখ টাকা, লিফট ২ কোটি টাকা, রক্তচাপ মাপার মেশিন ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, চেয়ার ৬ লাখ টাকা এখন অতি স্বাভাবিক বিষয়। প্রকল্পের কেনাকাটায় লুটপাটের সঙ্গে আছে পুকুর খনন, লিফট কিনতে, গরুর কৃত্রিম প্রজনন, ট্যাংরা-পাবদা মাছ চাষ, তেল জাতীয় ফসল এবং মৌ চাষ, নলকুপ খনন শেখার মতো উদ্ভট যুক্তিতে বিদেশ সফর।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২১ হাজার ৪৯৩ জন কোটিপতি ২০২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৪৮৮ জনে। ব্যাংকের এই হিসাবের বাইরে আছে আরও বহু কোটিপতি। বিশ্বে ২৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হিসেবে অতি ধনী বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ প্রথম আর ধনী বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ তৃতীয়। কিন্তু বিশ্বে দরিদ্র মানুষের সংখ্যায় বাংলাদেশ পঞ্চম।

রুমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে আবকাঠামোগত উন্নয়নকে যত গুরুত্ব দিয়ে তুলে এনেছেন, তকটাই অবহেলিত থেকেছে আইনের শাসন, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা, সর্বজনীন মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাধারণ মানুষের জীবনমান, লুটপাট, সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাষিত প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে।

রুমিন বলেন, রাষ্ট্রপতির পুরো ভাষণ মূলত কিছু ডেটার সমাহার, যেখানে জিডিপি থেকে গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় থেকে মাতৃমৃত্যু কিছুই বাদ যায়নি। অথচ বাংলাদেশের ডেটার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই কঠিন প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক।

রুমিন বলেন, জাতীয় নির্বাছনকে প্রহসনে পরিণক করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকেও ‘নৌকা মানেই জেতা’ ধরনের নির্বাচনে পরিণত করা হয়েছে। কিছুদিন আগেই আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন অনেকেসহ ৪২ জান বিশিষ্ট নাগরিক বর্তমান নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতাসহ আর্থিক দুর্নীতি উল্লেখ করে তাঁদের অভিশংসন চেয়েছেন।

বিএনপির এই সাংসদ বলেন, সংবাদমাধ্যমের ওপরে নানামুখী চাপের কারণে ২০২০ সালের রির্পোটে বাংলাদেশ ক্রমাগত পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম অবস্থানে আছে, যা পাকিস্তান, মিয়ানমার, আফগানিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে।