Saturday March6,2021

সুনামগঞ্জে বিভিন্ন অভিযোগে ৩৫টি পৃথক মামলার ৪৯ শিশু আসামির ভবিষ্যত বিবেচনায় ব্যতিক্রম রায় দিলেন আদালত। মামলা অনুসারে প্রত্যেকের বিভিন্ন মেয়াদে সাজার কথা থাকলেও শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন শর্তে মামলা থেকে মুক্তি দিয়ে ৪৯ শিশুকে নিজ বাড়িতে তাদের মা-বাবার জিম্মায় থাকার রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন।

এই সময়কালে তাদের ১০টি শর্তে পালন করতে হবে। শর্ত পালনের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে আসামিদের অভিভাবক ও তাদের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী এই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, আদালত যুগান্তকারী একটি রায় দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, ‘প্রবেশনের সময় অপরাধে জড়িত শিশুদের বাবা মায়ের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা ও বাবা মায়ের সেবা যত্ন করতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন মানা ও ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে হবে। প্রত্যেকে কমপক্ষে ২০টি করে গাছ লাগাবে ও পরিচর্যা করবে। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে পারবে না সহ ১০ টি শর্ত দেয়া হয়।

সব শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেনের লেখা ১০০ মনষীর জীবনী বই ওই ৪৯ শিশুর হাতে তুলে দেয়া হয়। শিশুদের নিয়ে এমন রায় দেয়ার সময় আদালত উল্লেখ করেন, এই রায়ের ফলে ছোটখাট অনেক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলো। শিশুরা তাদের আপন ঠিকানা ফিরে পেল। মা-বাবার দুশ্চিন্তার অবসান হলো। তারা তাদের আদরের সন্তানকে নিজের কাছে রেখে সংশোধনের সুযোগ পেলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রবেশনে দেয়া এসব শিশু সাধারণ মামলা ও মারধর সংক্রান্ত মামলার আসামি ছিল। জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান বলেছেন, প্রবেশনকালে এই শিশুরা শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করছে কি-না সেটির তত্ত্বাবধান করা আমার দায়িত্ব। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে এসব শর্ত পালনে তাদের সহযোগিতা করা, পাশে থাকা। তিন মাস পরপর আদালতে এই বিষয়ে জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমানকে প্রতিবেদন দিতে হবে।