Tuesday March2,2021

অ্যাডভোকেট আনসার খান :‘পপুলিজম’-রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত একটি মতবাদবিশেষ।বাংলা ভাষায় পপুলিজমকে-‘জনতুষ্ঠিবাদী বা লোকরঞ্জনবাদী’ আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে।পপুলিজম দীর্ঘকাল ধরে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সাথে রয়েছে। তবে বর্তমান সময়কালে এটি সাধারণভাবে রাজনীতির স্বভাবকে প্রভাবিত করেছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

        কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক ভাবাদর্শের সাথে এর যোগসূত্র রয়েছে বলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও গবেষকদের অভিমত। পপুলিজম:এ ভেরি শর্ট ইন্ট্রোডাক্সন’বইয়ের লেখক এবং আমেরিকার জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর কাস্ মুদ্দের মতে,-“পপুলিজম একটি আদর্শ, যেটি ফ্যাসিবাদের মতোই”-(অ্যান আইডিওলজি লাইক ফ্যাসিজম)।”তাঁর মতে,প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্হার প্রতি জনগণের আস্হার অভাবহেতু পপুলিজম ও শক্তিশালী পপুলিস্ট নেতাদের জন্ম হয়।”এমন ব্যবস্হায় নেতারা এমনভাবে রাজনৈতিক সিদ্বান্ত নিয়ে থাকেন,যা প্রচলিত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ঠিক সম্ভব হয় না,”-বলেন মি.মুদ্দে।
       মি.মুদ্দের অভিমত,রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পপুলিজম হলো এই ধারণা যে,সমাজ একে অপরের সাথে মতবিরোধে দু’টি গ্রুপে বিভক্ত,-‘খাঁটি মানুষ বা পিওর পিপল’ এবং ‘দূর্নীতিবাজ অভিজাত বা করাপ্ট এলিট।’ সত্যিকার পপুলিস্ট বা লোকরঞ্জনবাদী নেতারা দাবি করে যে,এরা ‘জনগণের ইচ্ছের প্রতিনিধিত্ব’করে(উইল অব দ্য পিপল)।” পপুলিজম আবার, ‘ডান ও বাম’ দূ’টি ধারায় বিভক্ত এবং বর্তমান বিশ্বে বেশিরভাগ পপুলিস্ট ডানপন্থী, বিশেষত রেডিক্যাল রাইটস এর দিকে ঝুঁকে আছে,-অভিমত মি.মুদ্দের।তিনি আরও যোগ করেন,ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফ্রান্সের মেরিন লে পেন ও হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের মতো রাজনীতিকরা পপুলিজমকে নেটিভিজম এবং স্বৈরতান্ত্রিকতাবাদের সাথে একত্রিত করেছেন।”যদি আপনি,আমাদের সাথে অর্থাৎ পপুলিজমের(পপুলিস্ট নেতার) পক্ষে না থাকেন,তবে আপনাকে অবশ্যই আমাদের বিপক্ষের বলে বিবেচনায় নেওয়া হবে”-এটিই পপুলিস্টদের অন্যতম মূলসূত্র, বলেন মি.মুদ্দে।
       বিশ্বের পপুলিজম আদর্শের দেশগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে পপুলিস্টরা সর্বদা-‘আমিত্বকে’ প্রাধান্য দিয়ে থাকে।ডোনাল্ড ট্রাম্প,-যাকে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত পপুলিস্ট মনে করা হয়,তাঁর উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকরা দেখিয়েছেন যে, ২০১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য তাঁর প্রার্থীতা ঘোষণার বক্তৃতায় মি.ট্রাম্প,-  ‘২৫৬’ বার “আমি” শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন।(সূত্র:দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিন, ইউ.এস.এ.২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭)।ট্রাম্প আরও বলেছিলেন,-“আমাদের দেশের জন্য সত্যিকারের এক মহান নেতা দরকার-দ্য আর্ট অব দ্য ডিল।”নেতা হবে-“ভেহিক্যাল অব দ্য পিপল।”
        ট্রাম্প বলেছিলেন-,”২০১৭ সালের ২০শে জানুয়ারি(আমেরিকার প্রসিডেন্ট পদে তাঁর শপথ ও রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের দিন)যেদিন জনগণ আবার এই জাতির শাসক হয়ে উঠবে,সেদিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে,সেদিনটিকে স্মরণ করা হবে।”ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্সিকালে,-‘ন্যাশন স্টেইট পপুলিজম’ভিত্তিক আমেরিকান রাষ্ট্র বিনির্মাণের চেষ্টা করে গেছেন।নিজেকে একজন সেরা পপুলিস্ট নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
      ভেনেজুয়েলার সাবেক শাসক হুগো শ্যাভেজকে একজন পপুলিস্ট নেতা হিসেবে মনে করা হতো এবং তাঁর রাজনৈতিক আচরণ ছিলো কর্তৃত্বপ্রবণ। যেমন,ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়ে তিনি তাঁর প্রথম বক্তব্যে বলেছিলেন,-“আমি ব্যক্তি নই,আমি জনগণ।”মি শ্যাভেজের এই বক্তব্যের উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও দ্য গ্লোবাল রাইজ অব পপুলিজম বইয়ের লেখক ড.বেন্জামিন  মফিট বলেছেন,পপুলিস্টদের এ জাতীয় চিন্তাভাবনা,-“মানুষকে ভূল হতে পারে, এমন পথে নিয়ে যেতে পারে।” “এটি রাজনৈতিক ব্যবস্হাকে নতুন এবং ভীতিজনক উপায়ে পূণর্গঠন করে”-বলেন ড.মফিট।পপুলিজমের আদর্শকে’টিনি আইডিওলজি’হিসেবে বর্ণনা করে ড.মফিট বলেন,পপুলিস্টরা বহুত্ববাদীতায় বিশ্বাসী নয়,উদারনৈতিক গণতন্ত্রীরাই কেবল বহুত্ববাদী ধারণায় বিশ্বাস করে।
         যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর নাদিয়া উর্বিনাতে মনে করেন,পপুলিস্টদের চিন্তাচেতনা-‘নেতিবাচক।’ এটি,’রাজনীতি বিরোধী,বুদ্বিবৃত্তিক বিরোধী এবং এটি অভিজাত বিরোধী।’ “এটি এক্সট্রা অর্ডিনারী ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় এটি গণতন্ত্রের মূলনীতি বিরোধী”-বলেন উর্বিনাতে।
         “পপুলিজম অবশ্যই আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্হাকে পছন্দ করে না”-বলেছেন,দ্য ইউরোপিয়ান কনসোর্টিয়াম অব পলিটিক্যাল রিসার্চ(ইসিপিআর)এর ডাইরেক্টর মার্টিন বোল।তাঁর মতে,এদের ঝোঁক সর্বাত্মকবাদের দিকে।’পপুলিস্ট নেতারা যেভাবে সিদ্বান্ত গ্রহণ করতে পারেন,ঠিক সেভাবে ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক নেতাদের পক্ষে সিদ্বান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না,’-বলেছেন মি.বোল।
        পপুলিজম ধারণাটি নতুন কিছু নয়,বরং উনিশ শতকে এটি ইউরোপে  উদ্ভব ও বিকশিত হয়েছিলো বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।আর তখন থেকেই বিভিন্ন দেশের রাজনীতি,দল ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ হয়ে আসছে।এটি এমন এক রাজনৈতিক অবস্থানকে বোঝায় যা জনতান্ত্রিক আদর্শ বা বিশেষ ধারণার(কনসেপ্টস) ওপর জোর দেয় এবং প্রায়শই এধারণায় বিশ্বাসী দল বা গোষ্ঠীকে’-অভিজাতদের’ বিরোধী করে তোলে।পপুলিজমকে তাই একটি নতুন অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন হিসেবে প্রচার করেন পপুলিস্ট সমর্থকরা।
         পপুলিস্ট দলগুলো এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনগুলো মূলত ‘ক্যারিজম্যাটিক বা প্রভাবশালী নেতার দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে এবং এসব নেতারা নিজেদেরকে,-‘জনগণের কণ্ঠস্বর’হিসেবে উপস্হাপন করে।জনতুষ্ঠিবাদী রাজনীতি একজন ক্যারিজম্যাটিক নেতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এবং এর নেতারা নিজেদের ক্ষমতাকে সংহত করার জন্য জনগণের ইচ্ছে শক্তিকে কাজে লাগায় এবং জনগন তাদের সাথে রয়েছে বলে প্রচার করে।রাজনীতিতে ওই ব্যক্তিগত নেতৃত্বের উত্থানের ফলে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব হারাতে থাকে, ব্যক্তিকে তথা নেতাকে পুজনীয় করে তোলে এবং নির্বাচনগুলো  জনগণের বিভিন্ন অংশের আনুগত্যকে প্রতিফলিত করার পরিবর্তে নেতার কর্তৃত্বের নিশ্চয়তা প্রদান করে।তারা এমন একটি অবিস্মরণীয় নির্বাচনী খেলার মাঠ তৈরী করে,যেখানে পপুলিস্ট নেতাকে নির্বাচনে হারানো ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়ে।
নির্বাচনগুলো এমনভাবে সাজানো হয়ে থাকে,যাতে বিজয় নিশ্চিত হয় এবং নেতার জনপ্রিয়তার কারণেই বিজয় নিশ্চিত হয়েছে বলে প্রমাণ করা যায়।
       চুড়ান্ত জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, চুড়ান্ত ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদ, চুড়ান্ত মার্জিনীকরণ ইত্যাদির ব্যাপক সত্য-মিথ্যা প্রচার দ্বারা পপুলিস্ট দলগুলো তাদের নেতার ভাবমূর্তি,শক্তি ও সমাজে প্রভাব বৃদ্ধির কাজটি করে থাকে এবং নেতার ব্যর্থতা বা দূর্বলতা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে নানা বাহানা সামনে এনে জনগণকে বিভ্রান্ত করে এবং এভাবে শাসকের শাসনের প্রকৃতি, রাজনৈতিক সংকট, বা অর্থনৈতিক বা সামাজিক সমস্যার প্রকৃত কারণগুলো জনগণের নিকট থেকে গোপন রাখে।
         পপুলিস্ট অবস্থানগুলো ডান ও বাম চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত।বর্তমানের পপুলিজমের বেশিরভাগই রাজনীতির সর্বাত্মকবাদীতার আকারে চিহ্নিত হয়েছে এবং পপুলিস্ট শাসকরা একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র কায়েম করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো পদদলিত করছে।সর্বাত্মকবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের অনুরূপ পপুলিস্ট রাজনীতিরকরা এই মতে বিশ্বাস করে যে,পপুলিস্টরা হলো,”ভেহিক্যাল অব দ্য পিপল।” পপুলিজমের নেতারা বলে,’-যদি আপনি আমাদের সাথে না থাকেন, তবে আপনি অবশ্যই আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হবেন।” এধরনের বক্তব্য সর্বাত্মকবাদীতার লক্ষণ।কোনো উদারনৈতিক গণতন্ত্রে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
      পপুলিস্টরা রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র হস্তক্ষেপ করে এবং তাদের চিন্তাধারা ও দর্শনের আলোকে রাষ্ট্র ও সমাজকে পূণর্গঠন করতে চায় যা উদারনৈতিক গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। এজন্য পপুলিজম উদারনৈতিক গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
         রাজনৈতিক দলসমূহ,গণমাধ্যমসমূহ,বিচার ব্যবস্হা,সামাজিক নানা প্রতিষ্ঠান থেকে  শুরু করে ব্যবসায়িক স্বার্থ, অর্থনীতি, শিক্ষাবিদ,বিজ্ঞানী তথা বুদ্ধিজীবিদের মতো বিশেষজ্ঞ সহ সমাজে থাকা সমস্ত শক্তির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে থাকে।জনগণের ক্ষমতা, আইন, বিচার, মিডিয়া এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা খর্ব ও নিয়ন্ত্রণ করে পপুলিস্ট শাসকরা। তারা বেশিরভাগ আইনী ব্যবস্হা গ্রহণ করে এসব কাজ করে থাকে। আদালতকে ব্যবহার করে প্রশাসন ও শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে পপুলিস্ট শাসকরা তাদের উদ্দেশ্য সাধন করে।এছাড়া সংবাদমাধ্যম সমূহ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভয়ভীতি,হামলা-মামলা ইত্যাদির আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিজ্ঞাপনকে ব্যবহার করে।এসব পদক্ষেপের কারণে পপুলিস্ট বিরোধী সংবাদমাধ্যমগুলো ক্রমেই অদৃশ্য হয়ে যায় এবং অনেকগুলো স্ব-সেন্সর আরোপ করে থাকে। এভাবে সর্বত্র পপুলিস্টদের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
         পপুলিজম বর্তমান সময়কালে এমনসব আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মূলধারার বিরোধী এবং প্রচলিত উদারনৈতিক গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে বিবেচনা করা হয়।পপুলিজম প্রচলিত উদারনৈতিক মূল্যবোধ,বিধিব্যবস্হা ও প্রতিষ্ঠানকে এবং এমনকি, গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্হাকে চ্যালেন্জ করছে বিধায় ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে না নির্বাচনে।এটি উগ্র জাতীয়তাবাদী ধারণার ওপর বেশি জোর দিয়ে থাকে। যেমন,ভারতীয় জনতা পার্টি হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ প্রচার করে বলছে, “
হিন্দুত্ববাদই সর্বশ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদ।”
           পপুলিজম রাষ্ট্র ও প্রশাসনে জবাবদিহিতা খর্ব করে।টেকসই গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাহী ক্ষমতার চেক এন্ড ব্যালান্স বিনষ্ট করে দেয় এবং একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে, যা উদারনৈতিক গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এরা বিরোধী দলগুলোকে দমনের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা নিবর্তনমূলক পথ বেছে নেয়।আইনসভার অনেকগুলো কাজ বিচার বিভাগ, নির্বাহি বিভাগ এবং আমলাদের ওপর  হস্তান্তরিত করে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা খর্ব করে থাকে। পপুলিজম উদারনৈতিক গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো অকেজো করে জনগণের ক্ষমতায়নকে সংকুচিত করে তাদের রাজনৈতিক পছন্দগুলোকে স্বাধীনভাবে সংগঠিত ও প্রকাশ করার জন্য নাগরিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দূর্বল করে দেয়। পপুলিজম বহুত্ববাদী ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং সাংস্কৃতিক বর্জনকে আলিঙ্গন করে। ফলে রাষ্ট্রপতি সবকিছুর ওপর  নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা শক্তিশালী হয়ে উঠে।
          তাই সংক্ষেপে বলা যায় যে,পপুলিজমের আদর্শ ফ্যাসিবাদী আদর্শের অনুরূপ এবং এটি অবশ্যই উদারনৈতিক গণতন্ত্রের বিরোধী।
 লেখক আন্তর্জাতিক  রাজনীতির বিশ্লেষক।