Tuesday January26,2021

সরিষার তেলের অনেক গুণ আছে। শুধু রান্না-খাওয়ার নয়, রুপচর্চাতেও সরিষার তেল ভালো। ত্বকে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্রযোজনীয় এমন উপাদান রয়েছে এতে। শীতের দিনে গোসলের আধা ঘণ্টা আগে সারা গায়ে ভালো করে সরিষার তেল ম্যাসাজ করুন। ত্বতের ঔজ্জ্বল্য বাড়বে। শীতে ত্বকও থাকবে তরতাজা।

ঔষধি গুণাগুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে এই তেল। সরিষার তেলকে স্বাস্থ্যকর তেল বলা হয়, কারণ এটি ওমেগা আলফা ৩ ও ওমেগা আলফা ৬ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস। সরিষার তেল উদ্দীপক হিসাবে পরিচিত এবং অন্ত্রে পাচক রস উত্পাদনে সাহায্য করে, তাই হজম প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। এছাড়াও একই প্রক্রিয়ায় আমাদের সিস্টেমে পাচক রস উৎপাদন বাড়িয়ে ক্ষুধা সহায়তা করে।

ঠোঁট ফাটায়: শীতে ঠোঁটফাটা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। লিপবামের পরিবর্তে অল্প একটু সরিষার তেল ঠোঁটে লাগান। এই প্রাকৃতিক ময়োশ্চারাইজার ঠোঁট ফাটা রোধ করে ঠোঁট নরম কোমল করে তুলে।

রোদ থেকে রক্ষায়: অল্প তেল হাতের তালুতে নিয়ে ঘষে মুখে লাগিয়ে বাইরে বেরোন। সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে।

রিংকেল কমাতে: এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। ফলে এটি রিংকল কমাতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে: এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান আছে প্রচুর। অ্যালার্জি, র‍্যাশ, শুষ্কতা ও চুলকানি রুখতে সাহায্য করে। সরিষার তেল ডার্ক স্পট, ট্যান বা পিগমেন্টেশন ঠেকাতে ভালো। বেসন, দই, লেবুর রস ও সরিষার তেল মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। উপকার হবে।

এছাড়া সরিষার তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে ১০ মিনিট ত্বকে ম্যাসাজ করুন, ত্বক নরম ও উজ্জ্বল থাকবে।

বিভিন্ন ভোজ্য তেলের উপর করা একটি তুলনামূলক সমীক্ষায় দেখা যায় সরিষার তেল ৭০ শতাংশ হৃৎপিণ্ড সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি কমায়। সরিষার তেল ব্যবহারে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায় যা হৃদরোগের সম্ভবনা হ্রাস করে।

এছাড়াও সরিষা তেল ঠান্ডা এবং কাশি উপশমে সহায়ক প্রমাণিত হয়েছে যখন বুকের সম্মুখে প্রয়োগ বা তার দৃঢ় সুবাস নিঃশ্বাসের মাধমে নেয়া হয়, এটা শ্বাসযন্ত্রের নালীর থেকে কফ অপসারণেও সাহায্য করে।

সরিষার তেল তামাটে এবং কালো দাগ দূর করে স্বাভাবিক ত্বক ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করে। এটি সন্ধিস্থলের ব্যথাও হ্রাস করে। ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করে এবং ত্বকের প্রদাহ দূর করে। সরিষার তেল সামান্য কাটা ছেঁড়ায় এন্টিসেপটিক এর কাজ করে। সরিষার তেল ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং প্রদাহবিরোধী হিসাবে কাজ করে। চুল পড়া প্রতিরোধ করে, খুশকি দূর করে এবং চুল বৃদ্ধি করে।