Tuesday January26,2021

পিরোজপুরে চাঞ্চল্যকর শিক্ষক সমীরন হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. মহিদুজ্জামান আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

এ ছাড়া মামলার অপর ৪ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—দিপঙ্কর রায়, খোকন সেখ ও নুরুল ইসলাম সেখ। উল্লেখিত ৩ আসামিকে ভিকটিমের স্ত্রীকে আহত করার দায়ে আদালত প্রত্যেককে ১০ বছর জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ রাত ২টায় জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাংগা ইউনিয়নের পশ্চিম বানিয়ারি গ্রামে স্কুলশিক্ষক সমীরণ মজুমদারের (৫০) ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে দুজন আসামি ঘরের দরজা খুলে সমীরনকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দিপঙ্কর রায়। এ সময় খোকন সেখ ও নুরুল ইসলাম সেখ তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সমীরনের ঘারসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

এ সময় পাশের রুমে ঘুমানো তার স্ত্রী স্বপনা বসু ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে তাকে রক্ষা করতে বাইরে বের হয়ে বাধা দিতে গেলে আসামিরা তাকেও কুপিয়ে আহত করে। তাদের চিৎকারে লোকজন এসে আহতদের প্রথমে নাজিরপুর হেলথ কমপ্লেক্স ও পরে খুলনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই সমীরন মারা যায়। পরবর্তীতে সমীরনের স্ত্রী স্বপনা নাজিরপুর থানায় হত্য মামলা দায়ের করে।

বিচারক তার আদেশে আরও উল্লেখ করেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করা হয়।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পিপি খান মো. আলাউদ্দিন জানান, মামলায় মোট সাতজন আসামি ছিলেন এবং মোট ২৩ জন স্বাক্ষী এ মামলায় স্বাক্ষ্য প্রদান করে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১ নম্বর আসামি আগেই জামিনে বের হয়ে পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিথিতে বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ফাঁসির আদেশ দেন। বাকি ৬ আসামি রায়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন—অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল ও মো. দেলোয়ার হোসেন।