Tuesday March9,2021

বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা মেধাবী এই মানুষটার নাম স্টিফেন উইলিয়াম হকিং। গ্যালিলিও গ্যালিলাইয়ের মৃত্যুর ঠিক ৩০০ বছর পর স্টিফেন হকিং জন্মগ্রহণ করেন। হকিংয়ের বাবা ড. ফ্রাঙ্ক হকিং ছিলেন জীববিজ্ঞান গবেষক ও মা ইসোবেল হকিং রাজনৈতিক কর্মী। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে হুইলচেয়ারে কাটিয়েছেন। তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি বাকশক্তি হারিয়েছেন। তার পরও তিনি আধুনিক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ হয়ে উঠেছিলেন। বিজ্ঞানে হকিংয়ের সহজাত আগ্রহ ছিল। হকিংয়ের বাবার ইচ্ছা ছিল হকিং যেন তার মতো ডাক্তার হন। কিন্তু হকিং গণিত পড়ার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি কলেজে ভর্তি হন। যেহেতু সেখানে গণিতের কোর্স পড়ানো হতো না, সেজন্য হকিং পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়া শুরু করেন। তার আগ্রহের বিষয় ছিল তাপগতিবিদ্যা, আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম বলবিদ্যা। কেমব্রিজে আসার পরপরই হকিং মোটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত হোন। তখন ১৯৬৩ সালে তার বয়স মাত্র ২১ বছর। ডাক্তাররা বললেন, হাতে আর দু’বছরের মতো সময় আছে। কোনো কোনো ডাক্তার বললেন, ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচবেন না হকিং। অসুস্থতার কারণে তার প্রায় সব মাংসপেশি ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসে। কেমব্রিজে প্রথম দু’বছর তার কাজ তেমন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ছিল না। কিন্তু রোগের প্রকোপ কিছুটা থামলে হকিং তার সুপারভাইজার ডেনিশ উইলিয়াম শিয়ামার সাহায্য নিয়ে পিএইচডি অভিসন্দর্ভের কাজে এগিয়ে যান।
ষাটের দশকে কেমব্রিজের বন্ধু ও সহকর্মী রজার পেনরোজের সঙ্গে মিলে হকিং আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব থেকে একটি নতুন মডেল তৈরি করেন। সেই মডেলের ওপর ভিত্তি করে সত্তরের দশকে হকিং তাদের (পেনরোজ-হকিং তত্ত্ব নামে পরিচিত) তত্ত্বের প্রথমটি প্রমাণ করেন। ১৯৭৪ সালে হকিং রয়াল সোসাইটির অন্যতম কনিষ্ঠ ফেলো নির্বাচিত হন। কেমব্রিজে হকিং যখন স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী, তখন জেন ওয়াইল্ডের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৬৪ সালের অক্টোবরে তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। ১৯৬৫ সালের ১৪ জুলাই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পদার্থবিজ্ঞানে হকিংয়ের দুটি অবদান সর্বত্র স্বীকৃত, যার মধ্যে রয়েছে প্রথম জীবনে সতীর্থ রজার পেনরোজের সঙ্গে মিলে সাধারণ আপেক্ষিকতায় সিংগুলারিটি-সংক্রান্ত তত্ত্ব। হকিং প্রথম অনিশ্চয়তার তত্ত্ব কৃষ্ণবিবরের ঘটনা দিগন্তে প্রয়োগ করে দেখান যে, কৃষ্ণবিবর থেকে বিকিরিত হচ্ছে কণাপ্রবাহ। এই বিকরণ এখন হকিং বিকিরণ (অথবা কখনও কখনও বেকেনস্টাইন-হকিং বিকিরণ) নামে অভিহিত। তিনি রয়াল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো ও পন্টিফিক্যাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম খেতাবে ভূষিত হন।
২০০২ সালে বিবিসির সেরা ১০০ ব্রিটন্স জরিপে তিনি ২৫তম স্থান অধিকার করেন। তার নিজের তত্ত্ব ও বিশ্বতত্ত্ব নিয়ে রচিত বই ‘কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’ (আ ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম) দিয়ে তিনি বাণিজ্যিক সফলতা লাভ করেন এবং বইটি রেকর্ড ভঙ্গ করা ২৩৭ সপ্তাহ ব্রিটিশ সানডে টাইমসের সর্বোচ্চ বিক্রীত বইয়ের তালিকায় ছিল। হকিং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল কসমোলজির গবেষণাপ্রধান ছিলেন। তাকে বিশ্বের সমকালীন তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়। তার লেখা ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ বইটির কল্যাণে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। হকিং কেমব্রিজের গনভিলি ও কেয়াস কলেজের ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন। শারীরিকভাবে ভীষণ রকম অচল থাকার পরও তিনি গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে যান। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ৭৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সূত্র: উইকিপিডিয়া ।
কাজী সালমা সুলতানা ,   লেখক এবং গণমাধ্যম কর্মী ।
Gesendet von কাজী: Heute um 16:00
দিচ্ছি
Gesendet von কাজী: Heute um 16:00
শুভ জন্মদিন ব্লাকহোল ও আপেক্ষিকতা তত্ত্বের নায়ক স্টিফেন হকিং