Thursday March4,2021

‘২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে’। ‘বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত ও বাধাগ্রস্ত করতে এবং গণতন্ত্রকে সংকটে ফেলতে চেয়েছিল’ এবং দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে, উচ্চ ও নিম্ন আদালতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথাতেই বোঝা যায় যে, নির্বাচনে বিএনপি না আসুক, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেই তারা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন। কারণ বিএনপি’র অংশগ্রহণের কারণে তাদেরকে বিজয়ী হতে ভোটকেন্দ্র দখল করতে হয়, নিশিরাতে নৌকায় সীল মেরে ব্যালট বাক্স ভরতে হয়, নির্বাচনে সহিংসতা করতে হয়, ভোটারদের ভয় দেখাতে হয়। ফলে তাদের স্বরুপ জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। আর এই কারণেই ওবায়দুল কাদের সাহেবের বাকশালী চেতনা জাহির হয়ে পড়ে যে, বিএনপি কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কারণ একতরফা নির্বাচনই হচ্ছে তাদের চেতনা। বন্দুকের জোরে গণতন্ত্রকে হত্যা করে দেশ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা এখন বাকশালী গণতন্ত্রের চর্চা করছেন।

সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। তার নমুনা আপনারা দেখেছেন গতকাল (রোববার) শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি আর পাচারের সাথে জড়িত এমপি পাপুলের স্ত্রী ও কন্যা জামিন পেয়েছেন। অথচ মিথ্যা অভিযোগে এদেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হয় না। হত্যাকান্ডের আসামীদের জামিন হয়, ক্যাসিনো কান্ডের হোতাদের জামিন হয়, টাকা পাচার কান্ডের হোতাদের জামিন হয়, অথচ জামিন হয় না গণতন্ত্রকামী নেতাকর্মীদের।

তিনি বলেন, আইনের শাসন এখন আওয়ামী শাসনে পরিণত হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নয়, আওয়ামী বিচারপতিরা বিরোধী দল নির্মূল করতে বেপরোয়া স্বাধীনতা ভোগ করছেন।

বিএনপি’র মুখপাত্র বলেন, দেশে কোনো সরকার আছে বলে জনগণ মনে করে না। প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম। নিম্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষরা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা একেবারেই নেই। আসলে সরকারদলীয় সিন্ডিকেটের কারণেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সিন্ডিকেটের টাকার ভাগ সরকারের মন্ত্রীদের কাছেও যায়। তাই বাজার হয়ে পড়েছে নিয়ন্ত্রণহীন।

রিজভী বলেন, আজ দেশব্যাপী ২৪টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনগুলোও আগের অবস্থার মতোই রক্তপাত ও ডাকাতির নির্বাচন। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে প্রশাসনের সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অধিকাংশ পৌর নির্বাচনী এলাকায় তান্ডবলীলা চালাচ্ছে। সরকারের ‘হার্ড হিটিং’ ইমেজ বজায় রাখতে ভোটারসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ চলছে বেপরোয়াভাবে। এ সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।