Tuesday March9,2021

যে কোন শিল্প যুগোপযোগী মান উন্নয়ন ধরে না রাখতে পারলে তার ধ্বংস অনিবার্য। বৃটিশ আমলে তাঁতশিল্পের বিলোপ হয়েছে, উন্নত যান্ত্রিক বয়ন শিল্প আবিষ্কারের মাধ্যমে। আবার এখন দেখছি বাংলাদেশের পাট শিল্পের মরণদশা। এটাও হয়তো যুগের দাবি।কেননা সিনথেটিক এর আবিষ্কার পাটের ব্যবহার ও কদরকে অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।কিন্তু এই শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের জন্য তা অনেকটাই অভিশাপ যোগ্য ব্যাপার স্যাপার বলতে পারেন। খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের অনশণ ধর্মঘটে ইতিমধ্যেই একজন শ্রমিক আত্মাহুতি দিয়েছেন।এটা অত্যান্ত দুঃখজনক ও হতাশাব্যাঞ্জক বললে আদৌ ভুল হবে কি?! আরও বড় একটি ভীতি কাজ করছে এই ভেবে যে,বিলিয়ন ডলারের বিজনেস বাংলাদেশের পোশাকশিল্পও হয়তো আগামী ২০ বছরের মধ্যেই পাট-শিল্পের অবস্থানে চলে আসবে বলে মনে হচ্ছে।জাতীয় আয়ের ৮৫% আয়করী শিল্পের বিলোপ বা ধসে দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে,যদিনা শিল্পপতিরা এখনই শিল্পের মুড বা রকমারি ভিন্নখাতে প্রবাহিত না করেন।আর তখন কি হবে?! এ দায়িত্ব সমাজ বিজ্ঞানী ও রাস্ট্র বিজ্ঞানীদের উপরই ছেড়ে দিলাম। *দেশের রাস্ট্রায়াত্ত্ব পাট কল গুলো ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।বেশ কয়েকজন শ্রমিক ক্ষুধা ও দারিদ্রতায় আত্মহত্যা করেছে।অনেক পাটকল শ্রমিক-কর্মচারী এখনো তাদের সমুদয় পাওনাদি পাননি। এর সাথে সাথে দেশের সুগার মিল গুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। পাট শিল্প ও চিনি শিল্প দিয়ে আনুমানিক ৪০/৪৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছেন। অপরদিকে গ্লোবাল প্যানডেমিক ডিজিজ কোভিড-১৯ এর কারণে চলমান লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য ফেব্রুয়ারী ও মার্চে দেশের গারমেন্টস শিল্পগুলো প্রায় ৩১ দিন সম্পুর্নভাবে বন্ধ ছিল।গোটা ইউরোপ জুড়ে কোভিড-১৯ চরম মহামারী আকার ধারণ করায়, বাংলাদেশে ইউরোপের অনেক ক্রেতার ক্রয়াদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। যার ফলশ্রুতিতে গারমেন্টস শিল্পের মালিক হটকারি শ্রমিক-কর্মচারী ছাটাই সিন্ধান্তে ৪.৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী চাকুরিচ্যুত হন।যদিও বা সরকারের প্রণোদনার অর্থে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান করা হয়। অপরদিকে “বয়কট ফ্রান্স ” আন্দোলনের ফল স্বরুপ ফ্রান্সের বায়ার গুলোর ক্রয়াদেশ সাময়িকভাবে বন্ধ আছে।এর ফল স্বরুপ আরও ১.২০লাখ শ্রমিক-কর্মচারী চাকুরিচ্যুত হতে পারেন বলে বোদ্ধারা মনে করছেন।

তারেক ইসলাম , ষ্টোর ম্যানেজার  বার্ড গ্রুপ সাভার ঢাকা ।