Friday March5,2021

এবার সম্ভবত অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে করোনার টিকা দেয়ার কাজ। মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা মডার্না জরুরি ভিত্তিতে টিকা দেয়ার জন্য আমেরিকায় আবেদন জানিয়েছে। অনুমতি পেলেই তারা টিকা দেয়া শুরু করে দেবে।

মডার্না জানিয়েছে, অনুমতি পেলে ইউরোপেও ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে যাবে টিকা দেয়ার কাজ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলছিলেন, করোনার টিকা আসতে চলেছে। খুব তাড়াতাড়ি সেই প্রতিষেধক পাবেন আমেরিকার মানুষ। বিদায়ী প্রেসিডেন্টের এই কথাটি অন্তত ঠিক হতে চলেছে। সোমবার মডার্না মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে টিকা শুরু করার অনুমতি চেয়েছে। অনুমতি পেয়ে গেলে তারাই হবে প্রথম সংস্থা যারা করোনার প্রতিষেধক দেবে।

সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সির কাছে তারা ইউরোপে টিকা চালুর অনুমতি চাইবে।

মডার্না জানিয়েছে, তারা আলাদা করে ক্যানাডা, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন, ইসরাইল ও সিঙ্গাপুরের রেগুলেটারি অথরিটির কাছেও টিকা চালুর অনুমোদন চেয়েছে।

সংস্থার দাবি, তাদের টিকার পরীক্ষায় কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আপাতত তারা আট কোটি ডোজ দিতে পারবে। পরে আরো আট কোটি ডোজ দেয়া হবে। তার মানে এখন আট কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হবে।

যদি অনুমোদন পাওয়া যায়, তাহলে ডিসেম্বরেই ইইউ-কে ভ্যাকসিন দিয়ে দেয়া হবে। কোম্পানির দাবি, তাদের ভ্যাকসিন নিলে খুব বেশি হলে সামান্য জ্বর হতে পারে। তার বেশি কিছু নয়। চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে শেষ হওয়ার আগে জরুরি ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিন দেয়া যেতে পারে বলেই তারা টিকা শুরুর আবেদন জানিয়েছে।

করোনার অনেকগুলো প্রতিষেধক তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে আছে। ফাইজার জানিয়েছে, তাদের ভ্যাকসিনও তৈরি। এই টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনও শেষ পর্যায়ে। রাশিয়া তো চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষার আগেই ভ্যাকসিন চালু করে দেয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। সেই স্পুটনিক ৫-এর এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে। চীনের একটি ভ্যাকসিনের কাজও শেষ পর্যায়ে আছে। ভারতের দুইটি ভ্যাকসিনের তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে। এই অবস্থায় মডার্না জরুরি ভিত্তিতে টিকা চালুর অনুমোদন চাইল।

আমেরিকায় আবার করোনার প্রকোপ প্রবল হয়েছে। ইউরোপেও করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। অনেক দেশেই করোনার কড়াকড়ি এবং সপ্তাহান্তের লকডাউন ফিরে এসেছে। এই অবস্থায় ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে