Saturday February27,2021

তাজরীন গার্মেন্টেসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে স্মারকলিপি দিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অভিমুখে যাওয়ার কথা ছিল আহত শ্রমিকদের। কিন্তু পুলিশি বাধায় তারা সেখানে যেতে না পেরে কাফনের কাপর পরে রাস্তায় শুয়ে পড়েন।   

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীল কদম ফোয়ার মোড়ে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তারা কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় শুয়ে থাকেন। তাদের দাবি মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে সেখান থেকে হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে তারা একই দাবিতে সমাবেশ করেন।

এ সময় তারা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ৮ পার হলেও শ্রমিকরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া কিছু আর্থিক সহায়তা ছাড়া আর কিছুই পায়নি। কিন্তু যা অনুদান দেয়া হয়েছে, তার প্রায় ৪গুণ বেশি আমাদের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে। শ্রমিকদের অনেকেই ঋণ করে চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। এছাড়া অনেকের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দাঁড়াবার জায়গাটুকুও নেই। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এছাড়া আমরা যেখানে ভাড়া থাকি, সময়মতো বাসা ভাড়া না দিলে বাড়িওয়ালারাও দূর্ব্যবহার করেন। এমনকি বাড়ি থেকেও বের করে দেন।

তারা আরও বলেন, আমরা গত ৮ বছরে বিজিএমই ও শ্রম মন্তণালয়ে আমাদের ক্ষতিপূরণ, যথাযথ পুনর্বাসন ও দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু তারা আমাদের বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কথা রাখেননি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দাবি আদায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছি।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, তাজরীন গার্মেন্টসের কর্মী যারাই বেঁচে আছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সেই চিকিৎসার খবর কেউ কোনও দিন নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ১২২ কোটি টাকা আছে। সেই তথবিল থেকে এই শ্রমিকদের দেয়া যায় না?

তিনি আরও বলেন, আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সেটা দেয়া সম্ভব। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, অথচ শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। ক্ষতিপূরণ দিতে কত টাকা লাগে? ক্ষতিপূরণ আদায়ে চলমান যে আন্দোলন ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত সেটা অব্যাহত থাকবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে আহত শ্রমিকরা প্রেস ক্লাবের সামনে ৬৮দিন ধরে পড়ে আছে। যখন ঘটনা ঘটেছে, তখনই বলা হয়েছিল মালিক ক্ষতিপূরণ দিবে। কিন্তু আজকে ৮ বছর হয়ে গেল, ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোনও খবর নাই। সরকারেরও কোনও তৎপরতা আমরা দেখছি না। যদি শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ না পায় তাহলে কি করবে তারা? আমরা আহ্বান জানাবো সরকারকে, যেন মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, এই ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য।