বাংলার ইতিহাসের নক্ষত্র মাওলানা ভাসানী

একটি কথা আমরা সাধারনীকরণ করে বলি, সঠিক ইতিহাস তৈরি হয় শত বছর পরে । হতে পারে, দ্বিমত করছি না । তবে সমসাময়িক অবস্থায়ও অনেক সত্য ইতিহাস এবং বিশ্লষণ নিশ্চয়ই বের হয়ে আসে । সেটা অবশ্যই নির্ভর করে কে লিখছেন বা Impressed ( আকর্ষিত বা মুগ্ধ বা অনুপ্রাণিত বা আদর্শে বিচলিত বা মগজ ধোলাই ) হয়ে লিখছেন কিনা ? সেটার উপরে নির্ভর করে । কেনো কথাগুলো বললাম ? সেটার ব্যাখ্যা করি ।
১৭/১১/২০২০ মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর মৃত্যু দিবস চলে গেলো । মাওলানা ভাসানী বা বঙ্গবন্ধু উনাদের মতন প্রয়াত নেতা বা জাতীয় কাণ্ডারীদের নিয়ে লিখতে গেলে সাবধানতা অবলম্বন করেই লেখা বাঞ্ছনীয়। তাছাড়া অল্প কথায় উনাদের দু’একটি বিষয় হয়তো তুলে ধরা যায়, তবে অল্প বলার বিষয়বস্তু থেকে একেবারেই ভিন্ন বিষয়ে যখন প্রশ্ন বা মন্তব্য অথবা বিশ্লষণ চলে আসে, তখন বিষয়টি আরো বেশি গভীরভাবে ভাববার বিষয়বস্তু হয়ে উঠে । অল্প বা বেশি বলা, যাই হোক না কেনো, প্রশ্ন নানান বিষয়ে
উঠতেই পারে । প্রশ্ন বা মন্তব্য সর্বক্ষেত্রেই আসতে পারে, হোক সেটা ছোটো লেখা বা বড় লেখা এবং স্বাভাবিকও বটে ।
যেমন : গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ লক্ষ্য করলাম যে, আমার মতন অনেকেই মাওলানা ভাসানীর মৃত্যু দিবস নিয়ে ছোটো/ বড় অনেক পোস্ট করেছেন । কেউ হয়তো একটি দিক তুলে ধরে বিশদ লিখেছেন । কেউ হয়তো বঙ্গবন্ধু আর মাওলানার কথোপকথন তুলে ধরে তাদের মাঝের কি মধুর সম্পর্ক ছিলো, সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন  । কেউ হয়তো ভিন্ন কারো লেখা বই থেকে উদ্ধৃতি এনে ছোটো বা বড় করে বিশ্লষণ করেছেন । কেউবা মাওলানার  আদর্শ এবং জীবন-জীবিকা তুলে ধরেছেন  । কেউবা শুধুই বিনম্র শ্রদ্ধা বা প্রার্থনা করেছেন। সবই ঠিক আছে এবং বিভিন্ন দিক ছিলো এবং মাওলানাকে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আনেক নতুন প্রজন্ম ভালো চিনতে ও বুঝতে পেরেছন নিশ্চয়ই।
তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেকের পোস্টে অনেক রকম প্রশ্ন দেখেছি বা অনেক মন্তব্য যা স্বাভাবিক ছিলো বটে। তবে সেগুলোর উত্তর তেমনভাবে চোখে পড়েনি । ভিন্নজনের পোস্টের কোনো ব্যাখ্যা বা প্রশ্নের উত্তরে যাচ্ছি না । তবে আমি নিজেই ছোট্ট একটি পোস্ট করেছিলাম এবং সেখানে বঙ্গবন্ধু ও মাওলানার দুটো ছবি একত্রিত করে পোস্ট ছিলো । ছবি দুটো অনেক কিছুই পরিষ্কার করে দেয়, কত বড় মাপের দুজন নেতা উনারা ছিলেন। কত বড় মনের নেতা উনারা ছিলেন। কত সাধারণ জীবন উনারা কাঁটিয়েছিলেন। মানুষের কত কাছের মানুষ উনারা ছিলেন । আমার সেই পোস্টেই কিছু প্রশ্ন বা সরাসরি মন্তব্য মাওলানাকে নিয়ে ছিলো, যার কিছুটা ব্যাখ্যা দেবার বা আপন বুঝে বিশ্লষণ বা সময় কালের উপর সেই ইতিহাসের ইতিহাস বলার প্রয়াসেই আজকের এই লেখা ।
আমরা একটি কমন স্লোগান মাওলানা সাহেবের জানি , যেটা ছিলো ৭০ নির্বাচন কালীন।  “ভোটের বাক্সে লাথি মারো ,বাংলাদেশ স্বাধীন কর ” । সেই স্লোগানের কথা তুলে এনে অনেকেই বলার চেষ্টা করেন ( মূলত যারা মাওলানা বিরোধী ) যে, মাওলানার চেয়েও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বঙ্গবন্ধুর বেশি ছিলো ( হতে পারে, জানিনা এবং কিছু বিষয়ের তুলনা না করাই উত্তম) । মাওলানা ৭০ এর নির্বাচন বয়কট করে ভুল রাজনৈতিক পথে ছিলেন । প্রশ্ন হলো আসলেই কি মাওলানা ভুল রাজনৈতিক স্ট্রাটেজিতে ছিলেন ? নাকি, সেটা ছিলো মাওলানা আর বঙ্গবন্ধুর সমঝোতার রাজনীতি।  কেউ ভুলে যাবেন না, মাওলানা বঙ্গবন্ধুর নেতা ছিলেন এবং তাদের মাঝে ছিলো রাজনৈতিক মতের ভেদাভেদ অনেক কম বা ভালো বোঝাপড়া।
প্রয়াত ডঃ মাহফুজুল্লা সাহেবের কোনো এক বইয়ে অথবা উনার লেখা পত্রিকার কলামে পড়েছিলাম, সেই নির্বাচন মাওলানার বয়কট ছিলো বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার মাধ্যমে  এবং সবভোট পূর্ব বাংলার এক বাক্সে ধরে রাখার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক কৌশল । যদি মাওলানা নিজেও ভোটে দল নিয়ে অংশগ্রহণ করতেন, তাহলে কি হতে পারতো ? এই পূর্ব বাংলার ভোটগুলো ভাগ হয়ে যেতো এবং বঙ্গবন্ধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারতেন না । এবার ভাবুন তাহলে, মাওলানার রাজনৈতিক কৌশল এবং রাজনীতিতে দেশের কল্যাণে কত বড় সেক্রিফাইস সেটা ছিলো ।
লক্ষ্য করুন , ইতিহাসে ১৯৫৭ সালের ইতিহাস অনেকেই জানেন। ৬-১০ ইং ফেব্রুয়ারী টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের কাগমারি সম্মেলনের কথা । আওয়ামী লীগ সেই সম্মেলন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের আহ্বান  জানায় । সেই সম্মেলনটি ছিলো আওয়ামী লীগের নেতা এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সিদ্ধান্তের বিপরীতে।  কেননা সোহরাওয়ার্দী সাহেব যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কেন্দ্রীয় চুক্তি সংস্থা এবং দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়া চুক্তি সংস্থায় যোগ দেবার জন্য পাকিস্তানকে সমর্থন করেন।  এই ক্ষেত্রে পূর্ব  পাকিস্তানকে কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি । আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদরা পাকিস্তানকে নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন । কেননা ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ২১ দফার প্রতিশ্রুতিতেই নিরপেক্ষ নীতির প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ ছিলো এবং যা কিনা সোহরাওয়ার্দী নিজেই ভংঙ করেছিলেন । সেই কাগমারির সম্মেলনেই মাওলানা স্পষ্ট ভাষায় পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, প্রয়োজনে জনগণ তোমাদেরকে ” আসলামু আলাইকুম ” জানিয়ে দেবে। মানে আল বিদা । এই ছিলেন জনগণের নেতা মাওলানা ভাসানী।
উপরে ছোট্ট করে মাওলানা সাহেবের দুটি বিষয় বলার চেষ্টা মাত্র।  এবার বলার চেষ্টা থাকবে গতকালের আমার পোস্টে মাওলানাকে নিয়ে দুটো গুরুত্বপূর্ণ, কঠিন প্রশ্ন ও মন্তব্য নিয়ে। তবে এই বিষয়ে বলা বেশ মুশকিল এবং কঠিনও বটে। নিচে একটি  পত্রিকার কাঁটিং পেপারের ছবি ছাপালাম।
একটি মন্তব্য ছিলো মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।  বিষয়টি সত্যি বিশ্লষণ করা মুশকিল।  কেননা খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত। মোশতাক বঙ্গবন্ধুর সর্ব ঘনিষ্ঠজন বলেই পরিচিত ছিলো এবং মোশতাকের সাথে বঙ্গবন্ধুর তুমি সম্পর্ক ছিলো। এমনকি মোশতাক ছিলেন আওয়ামী লীগে  বঙ্গবন্ধুর পরে উঁচু পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র নেতা। কোনো অবস্থাতেই মোশতাকের এমন গর্হিত কর্মকে এই দেশের কেউ সমর্থন করতে পারে না । তবে কেন মাওলানার মতন এত অভিজ্ঞ, ত্যাগী, দূরদর্শীপূর্ণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা সেদিন খুনি মোশতাকের সরকারকে কি বুঝে সমর্থন করেছিলেন ? সত্যি এটা কোটি টাকার প্রশ্ন বটে। লক্ষণীয় যে, এই বিষয়ে নিরপেক্ষ বিশ্লষণও পক্ষ বিপক্ষের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। এখানেই সেই কথা চলে আসে, ইতিহাস সময় ও কালের ভেদে কঠিন সত্য ইতিহাস বের হয়ে আসে। সম্ভবত এই জন্যেই সঠিক ইতিহাসের জন্য শত বছর অপেক্ষা করতে হয় ।
এবার লক্ষ্য করুন, সেই সময়ে কেন সবাই চুপ ছিলো ?  কেনইবা শত শত আওয়ামী লীগাররা মোশতাকের মতন খুনির সাথে যোগদান করেছিলো ?  এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুবই জরুরি; সঠিক মূল্যায়নের জন্য।   বাস্তবতা হলো ৭৫ পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার দেশে একটি নৈরাজ্যের সরকারে পরিণত হয়েছিলো । জনমানুষেরা অত্যাচার, অনাচার আর অবিচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো । ফলাফল এই যুদ্ধ জয়ী স্বাধীন দেশের স্থপতিকে পুরো পরিবার সহ তার মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছিলো । এখানে স্পষ্ট করেই বলা প্রয়োজন যে, সেই সময়ে দেশের সেই ভিতিকর পরিবেশের জন্য সম্পূর্ণ রুপে সেই সময়ের আওয়ামী লীগাররাই শতভাগ দায়ী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন না তুলেও বলা যায়, সেই সময়ের আওয়ামীদের কারণেই নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের উপর সব খুনিরা ঝাঁপিয়ে পরেছিলো । আরো স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন যে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের খুনের দায় সেই সময়ের কোনো আওয়ামী লীগাররাই এড়াতে পারেন না এবং খুনিরাতো খুনিই। তাহলে সেই কালের কথা বিবেচনা করেই মাওলানার সমর্থনের  কথা বিশ্লষণ করা প্রয়োজন কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন নিশ্চয়ই।  তবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, মাওলানার মতন নেতার কোনো অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর খুনি সরকারকে সমর্থন করা সঠিক ছিলো না এবং শতভাগ না । বরং সেদিন মাওলানার মতন নেতার খুনি মোশতাককে সমর্থন না করে, নিজের একটা ভূমিকা রাখা ছিলো বাঞ্ছনীয়।  অবশ্য এখানে একটি কথা বলাও প্রয়োজন যে, সেই সক্ষমতা ও বয়স মাওলানার ছিলো কিনা ? এবং সেই বিবেচনায় কি মাওলানা অন্যসব আওয়ামীদের মতন সহজ পথে মোশতাকের সাথে হেঁটেছিলেন কিনা ? এইসবের উত্তর সত্যি সত্যি কঠিন সত্য ইতিহাস আশা করলে আরো অনেক অপেক্ষাই করতে হবে ।
এখানে আরো বলা ভালো যে, মাওলানার এত অবদান এবং স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নেতা মাওলানার মৃত্যু দিবসটিও কেনো আওয়ামীরা স্মরণ করেন না ? পালন তো দুরের কথা । বলাই বাহুল্য মাওলানার মতন নেতা যখন মোশতাকের মতন খুনির সরকারকে সমর্থন করেন, তাহলে আওয়ামীরা কিভাবেই বা মাওলানাকে স্মরণ করতে পারেন ? এবং করাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে আওয়ামীদের জন্য।  কেননা রাজনীতি তো তার আপন কক্ষপথ থেকে বেশি দুরে যেতে পারে না ।  এটা একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগারদের। একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সর্ববৃহৎ নেতার খুনিকে যত বড় নেতাই সমর্থন করুক না কেন, নিশ্চয়ই সেই রাজনৈতিক দল সেই নেতাকে স্মরণ করতে পারবে না। কেননা এখানে রক্ত জড়িত। প্রশ্ন উঠতে পারে, রাজনৈতিক দল হিসেবে অনেক বড় যাতনাও সহ্য করতে হয় জনমানুষের কল্যাণেই।  হ্যাঁ হয় বটে । তবে একান্তই মহান রাজনৈতিক দল না হলে অসম্ভব বলেই প্রতীয়মান হয় । আরো প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে সেই সময়ের মোশতাক সরকারে যোগদান করা আওয়ামীরা কি করে দলে থাকতে পারে ? মাওলানা তো কেবলমাত্র সমর্থন করেছিলেন, সরকারে ছিলেন না ? সেই উত্তরটি শতবছরের ইতিহাসের জন্যেই রেখে দেওয়া আবশ্যক।  কেননা এই উত্তরটি যে স্বয়ং আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে। তবে আওয়ামীর পক্ষে এই উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়, এটাই স্বাভাবিক।  কেননা দলটি বর্তমানে ক্ষমতাসীন, সুতরাং বর্তমানে উত্তর নেহাত সঠিক ইতিহাস না হবার সম্ভাবনাই বেশি ।
আরো একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি ।এই প্রশ্নিটিও মন্তব্যের ঘরে এসেছিলো । নিচে আরো একটি পত্রিকার কাঁটিং ছাপালাম।
দালাল আইন বাতিলের পক্ষে ছিলেন মাওলানা, কিন্তু কেনো ? তাও আবার মাওলানার মতন নেতা । মাওলানা সেই সময়ে ঘোষণা করেন যে , ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দালাল আইন বাতিল না করলে তিনি এই আইনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবেন । এমন সব প্রমাণ যখন দেখা যায়, তখন মাওলানা এবং তার মতন নেতা নিয়েও মাথায় ঘোল লাগে । মাওলানার কি ভাষ্য ছিলো বাতিলের ঘোষণায় ? মাওলানার ভাষ্য ছিলো, সরকার এই দালাল আইন ব্যবহার করে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতা- কর্মিদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে। এখন আবার উপরের প্যারাগ্রাফের কথায় ফিরে আসতে হয় । সেই সময়ে সত্যি সত্যি দেশে আওয়ামীদের কেমন অত্যাচার চলছিলো ? এই প্রশ্নের শতভাগ সঠিক উত্তরের সাথে মিলিয়েই মাওলানার এমন দাবীর বিচার বা বিশ্লষণ করাটা বাঞ্ছনীয়। কেননা মাওলানা একেবারেই ডাহা মিছা কথা দিয়ে রাজনীতি করার মানুষ ছিলেন কি ? উত্তরটি হবে না । তাহলে মাওলানার অভিযোগের সত্যতা কাগজে কলমে নিশ্চয়ই এখনও বহাল আছে। কেননা এগুলোতো আদালতের বিষয় এবং নিশ্চয়ই ওয়েল ডকুমেন্টেড।  এখানেও বলতেই হয়, সত্যি কঠিন সত্য ইতিহাস কেন যে শতবছর পরে তৈরি হয়, তা বেশ স্পষ্ট।
লেখার শেষে ছোট্ট একটি কথা বলেই শেষ করবো। মাওলানাকে কেবলমাত্র ৭৫ পরবর্তীতে বিচার বিশ্লষণ করলে হবে ইতিহাসের জন্য কলঙ্কিত ইতিহাস। মাওলানার জীবনবৃত্তান্ত, রাজনৈতিকবৃত্তান্ত, আদর্শ, স্পৃহা, ত্যাগ, মজলুম – মেহনতি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং সততা, এগুলো সব মিলিয়ে বিচারের দাবী রাখে। আর সেই সব  বিষয় বিবেচনায় নিলে, শতবছরের পরের ইতিহাসের অপেক্ষা না করেও বলা যায়, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তিনি ছিলেন এই স্বাধীন বঙভূমির একজন  মহান নেতা । তিনি জনমানুষের মনে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। কোনো রাজনৈতিক দল মাওলানার মৃত্যু দিবস পালন করলো কি না করলো অথবা দলের প্রথম প্রধাণকে স্মরণ করলো কি না করলো ? কিংবা ভিন্ন কিছু । সেইসব কোনো কিছুই মাওলানাকে ইতিহাস থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না । লক্ষণীয় যে, বছর বছর মাওলানার প্রতি জনমানুষের আগ্রহ বেড়েই চলছে এবং আরো বাড়বে বলেই প্রতীয়মান হয়। কেননা  বড় মানের নেতাদের অল্প সময়ের জন্য হারিয়ে বা চেপে রাখা গেলেও, ইতিহাসের পাতায় একদিন সূর্যের মতন উদিত হয় । মাওলানা তোমায় লাল সালাম।
বুলবুল তালুকদার 
যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: