রায়হান হত্যা: গণপিটুনির প্রমাণ মেলেনি সিসি ক্যামেরা ফুটেজে

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন (৩৪) নামের এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।  

ঘটনার প্রথম দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

তবে পুলিশ যেখানে গণপিটুনির কথা বলছে, সিটি করপোরেশনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ওই এলাকায় এমন কোনও ঘটনার সত্যতা মেলেনি। স্থানীয় কাউন্সিলর ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়ে এ দাবি করেছেন।

রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার গুলতেরা মঞ্জিলের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) এশার নামাজের পর তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে কোতোয়ালি থানাধীন কাষ্টঘর এলাকায় কোনও ছিনতাই কিংবা গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম।

তিনি জানান, কাষ্টঘর এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। প্রাথমিকভাবে সিসি ক্যামেরা যাচাই করে ছিনতাইয়ের ঘটনা কিংবা গণপিটুনির কোনও ঘটনা ফুটেজে ধরা পড়েনি। এমনকি ওই এলাকায় এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েও এমন ঘটনার কোনও সত্যতা মেলেনি।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান বলেন, পুলিশ হেফাজতেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে এটা ইতোমধ্যে প্রতীয়মান। তার পরিবারের দাবি, ভোর ৪টা ২০ মিনিটে রায়হান তার সৎ বাবাকে ফোন করেছিল।

সে সময় সে ফাঁড়ি থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের দাবি করা টাকা চেয়ে ফোন করেছিল। তাহলে নিশ্চয় এর আগে তার ওপর নির্যাতন হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থেকে রায়হান ফোন দিয়েছে বিষয়টি পুলিশেরও জানা ছিল। এমনকি তার অবস্থান সম্পর্কেও সে তার বাবাকে জানায়। মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কাছে খোঁজ নিলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, পুলিশ দাবি করছে সে ছিনতাই করার সময় গণপিটুনিতে মারা গেছে। তাই যদি হবে তাহলে পুলিশ প্রথমে রায়হানকে হাসপাতালে না নিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে গেল কেন? আমরা ন্যায়বিচার চাই। এই ঘটনার সঙ্গে পুলিশ জড়িত রয়েছে। তাই এ ঘটনার অবশ্যই তদন্ত হতে হবে।

নিহত রায়হানের মামাতো ভাই আব্দুর রহমান জানান, রায়হানের পায়ে লাঠির একাধিক আঘাত ছিল। হাতের কয়েকটি নখ উল্টানো ছিল। তাকে পুলিশই নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমরা এর বিচার দাবি করছি।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার জানান, নানা বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ইতোমধ্যে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তদন্ত করা হচ্ছে। সেই সাথে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে পুলিশের একটি দল।

এদিকে,এ ঘটনায় মামলা দায়ে করেছেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

রবিবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় তিনি মামলাটি দায়ের করেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় এজাহার নামীয় কোনও আসামি নেই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: