করোনা প্রতিরোধে বিসিজি টিকা হতে পারে বৈশ্বিক গেম চেঞ্জার

যক্ষা থেকে শিশুদের রক্ষা করতে দেয়া হয় ব্যাসিলাস ক্যালমেট্টে-জেরিন (বিসিজি) টিকা। এবার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এই টিকা কার্যকর কিনা তা যাচাই করতে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এ জন্য ইংল্যান্ডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটারের গবেষকরা এমন পরীক্ষা করছেন। এই টিকা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে এমনটা পরীক্ষায় প্রমাণিত হওয়ার পর তা প্রাপ্ত বয়স্ক ১০০০ মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। যদি এটা ঠিকমতো কাজ করে তাহলে এটা হতে পারে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সমাধান। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটি অধিক কার্যকর টিকা আবিষ্কার হওয়ার আগে পর্যন্ত এই টিকাটি ব্যবহার করতে পারবেন বিশ্ববাসী। ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটার মেডিকেল স্কুলের প্রফেসর জন ক্যাম্পবেল লন্ডনের গার্ডিয়ানকে বলেছেন, বিসিজি টিকা হতে পারে বৈশ্বিক গেম চেঞ্জার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

এতে বলা হয়, ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটার ২০০০ বৃটিশ স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আন্তর্জাতিক ব্রেস ট্রায়াল করবে। তারা বিশ্বব্যাপী ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ করেছে। স্বেচ্ছাসেবকদের এ পরীক্ষায় এক ডোজ বিসিজি টিকা দেয়া হবে। তারপর তাদেরকে এক বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। দেখা হবে, তাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ কমিয়ে দিয়েছে কিনা। অথবা কম লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে কিনা। এক্ষেত্রে প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া যাবে ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে।
গত মাসে সেল জার্নালে একটি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। তাতে বলা হয়, এই টিকা দেয়ার পর বয়স্কদের মধ্যে অনেক কম শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। প্রফেসর ক্যাম্পবেল বলেন, যদি আমরা এমন কিছু পাই, যা করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাছাকাছি যায়, তাহলে তা হতে পারে বিশ্বে গেম চেঞ্জার।

উল্লেখ্য, বিসিজি টিকা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। এটা শরীরে প্রবেশ করে এন্টিবডি ছেড়ে দেয়। তা টিবি বা যক্ষা আক্রান্তের প্যাথোজেন বা জীবাণুকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়। একই সঙ্গে তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো সমৃদ্ধ করে। ফলে কোন জীবাণু বাসা বাঁধার আগেই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এই টিকা। এর ফলে এটি করোনা ভাইরাসের টিকা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন। যেহেতু এই টিকা ভাইরাল সংক্রমণ রোধ করে তাই আগামীতে কোনো মহামারির বিরুদ্ধে এটাকে টিকা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করেন তারা। সুত্র, ডেইলি মেইল ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: