বিকৃত যৌনচার – আবু জাফর শিহাব

যে কথা বলতে চাচ্ছিলাম- ছাদ, বারান্দা কিংবা বাড়ির আঙিনায় শুকাতে দেওয়া মেয়েদের অন্তার্বাস দেখে কিছু কিছু মানুষ আছে, যাদের মাঝে তীব্র যৌন অনুভূতি তৈরি হয়। আবার অনেকে আছে মেয়েদের এসব অন্তর্বাস চুরি করে নিয়ে যায়। সাইকিয়াট্রির ভাষায় এটাকে বলা ফেটিসিজম। এটা এক ধরণের বিকৃত যৌন আচরণ। আবার বন্ধুত্বের সুযোগে কথায় ফাঁকে কিংবা দুষ্টুামির ছলে পিঠে হাত দিয়ে অন্তর্বাস স্পর্শ করাও এক প্রকার বিকৃত যৌন আচরণ। মেয়েদের অন্তর্বাস, ব্যবহৃত কাপড়, মুজো কিংবা শরীরের বিশেষ অঙ্গ যেমন- পা, চুল ইত্যাদি দেখে যৌন অনুভূতি বা সুরসরি জাগাকে ফেটিসিজম বলে। বেশ কিছুদিন আগে একটা খবর সাড়া বিশ্বে খুব হাইলাইট হয়েছিল। আমেরিকার অরিগনে অনেক মেয়ের বাসে চুল কাটা হচ্ছিল। পরে একজন লোককে হাতেনাতে ধরা হয়।জানা যায়, মেয়েদের চুল তাকে উত্তেজিত করে তুলত। সে এর আগেও পুলিশের হাতে ধরা পরেছিল। বাসের ভেতর মেয়েদের চুলের উপর সে মাস্টারবেশন করে বীর্য ফেলেছিল। তাছাড়া এবনরমাল কোন কিছু দেখে বা কাজ করার মাধ্যমেও অনেকে যৌন উত্তেজনা বোধ করে। এটাকে প্যারাফেলিয়া বলে। এক লোক ধরা পরেছিল আমাদের ঢাকায়। যে কিনা বাসে বাসে মেয়েদের ড্রেস কেটে দিত। কিন্তু তার এই কাজ করার পেছনের কারণ এখনো বের হয়েছে কিনা জানিনা। তবে আমার ধারনা, যারা এ কাজ গুলো করে তারা হয়তো কোন যৌন মানসিক সমস্যা যেমন- ফেটিসিজম বা প্যারাফেলিয়ায় ভোগে । তাই মেয়েদের ড্রেসের কাটা অংশ নিয়ে গিয়ে যৌন সুধা অনুভব করে।ফেসবুকের মাধ্যমে অনেকগুলো কাটা ড্রেসের ছবি দেখে মনে হল বেশিরভাগ কাটা অংশ মেয়েদের কোমর বা নিতম্বের কাছাকাছি। এই বিশেষ জায়গার প্রতি ঐ সব লোকের হয়তো বিশেষ আকর্ষণ থাকতেও পারে। আবার কিছু কিছু লোক আছে, যারা সাথে করে কাটার নিয়ে ঘুরে। এর মানে হল তারা হিতাহিত জ্ঞান ভুলে নিয়মিত ঐ কাজ করে মানুষকে কষ্ট দিয়ে বা বিব্রত করে মানসিকভাবে তৃপ্তি বোধ করে। এটা একটা মানসিক রোগ। এটাকে স্যাডিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার বলে। কোন মেয়ে যখন দেখবে তার পছন্দের পোশাক কেউ কেটে দিয়েছে, তখন স্বভাবতই সে মনে কষ্ট পাবে। কিংবা রাস্তার মধ্যে, পাবলিক প্যালেজ অথবা কোন মার্কেটে টের পেলে সে বিব্রত বোধ করবে।লোক গুলো হয়তো এটাতেই তৃপ্তি পায়। আর কতজনকে কষ্ট দিয়েছে, সেটা হিসেব রাখতে জামার কাটা অংশ সাথে করে নিয়ে যায়। সেগুলো দেখে আর হো হো করে হাসে। কি অদ্ভুত,কি জঘন্য !! আবার এটা হতে পারে পোশাক কেটে নিয়ে গিয়ে ব্ল্যাক ম্যাজিক করে।অনেকে হয়তো ব্ল্যাক ম্যাজিকে বিশ্বাস নাও করতে পারে। তবে বিশ্বাস করুন বা নাই বা করুন কিংবা এই ব্ল্যাক ম্যাজিক কাজ করুক বা নাই বা করুক, লোকে যে ব্ল্যাক ম্যাজিক করার চেষ্টা করে এই বিষয় সবাই জানে। মেয়েদের চুল কিংবা ব্যবহৃত পোশাকের কোন একটা অংশ ব্ল্যাক ম্যাজিকে অহরহ ব্যবহার করা হয়। একজন লোক একাই এই কাজ করে না আরো অনেকে এরকম কাজের সাথে জড়িত।যদি একাধিক লোক যুক্ত থাকে, তবে এটা বিকৃত মানসিকতার কাজ নয়। এটার পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কোন কিছু চুরি বা পকেটমারা হচ্ছে না, শুধু ড্রেস কেটে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যগুলো হতে পারেঃ – মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করা – পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসকে বিপাকে ফেলা – মেয়েদের বাসে চলাকে নিরুৎসাহিত করা – কোন অসাধু পীর ফকিরের যাদুর কাজে তার সাগরেদ বা মুরিদদের সাহায্য করা ইত্যাদি। তবে, যা কিছুই হোক না কেন, আমরা চাই এ রকম অপকর্ম যেন আমাদের সমাজ সংসারে না হয়।আমাদের ‘মা’ বোনেরা,ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন থাকতে পারে নিরাপদে।আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেন থাকে এসব বিকৃত মন মানসিকতার উর্ধ্বে। তাই আসুন চলা-ফেরায়, দৈনন্দিন জীবন-যাপন,পোষাক-পরিচ্ছদের হেফাজতে রাখি সচেতন দৃ্ষ্টি। থাকি দূরে বিকৃত অবক্ষয় হতে।

আবু জাফর শিহাব (এল এল বি)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: