করোনায় আক্রান্ত হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব

এবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব কেইলি ম্যাকেনানি। তাঁর কোভিড–১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে বলে তিনি নিজেই সোমবার (৫ অক্টোবর) জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের তালিকায় ম্যাকেনানি সর্বশেষ সংযোজন। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আজ হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে কিনা, সে বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসক।মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস এ খবর জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া হতে পারে বলে নানা মহলে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু জানাননি তাঁর চিকিৎসক। তিনি জানিয়েছেন, আজই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে কিনা, তা পরে জানানো হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস জানান, করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ‘অবিশ্বাস্য রকম উন্নতি’ করেছেন।

তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এমন বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ গুরুতর অবস্থায় চলে যাওয়া কোভিড-১৯ রোগীদের দেওয়া হয়।

কেইলি ম্যাকেনানি এ সম্পর্কিত এক টুইটার পোস্টে জানান, তাঁর মধ্যে কোনো লক্ষণ ছিল না। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতি দিন তাঁর কোভিড টেস্ট করা হয়েছে। কেইলি ম্যাকেনানি কীভাবে কবে আক্রান্ত হলেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর অনেক সময় ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে লক্ষণ প্রকাশ পেতে। অনেকের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে কিনা, তা ধরা পড়তেও এমন সময় লেগে যায়। ফলে তাঁর আক্রান্ত হওয়ার খবর বেশ উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, গতকাল রোববার তিনি যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর মুখে মাস্ক ছিল না।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে উদ্‌গ্রীব হয়ে উঠেছেন। গতকাল রোববার তিনি এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপও প্রয়োগ করেছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁরা জানান, নিজেকে বন্দী মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একঘেয়েমির কারণেও তিনি যেকোনোভাবে হাসপাতাল ছাড়তে চাইছেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর দেশ ও বিশ্ববাসীকে দেখাতে চান যে, একটি ভাইরাসের কাছে তিনি কাবু নন।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই তোড়জোড় করুন, তাঁর চিকিৎসকেরা কিন্তু গতকাল তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়তে চাননি। বরং তাঁরা তাঁকে হাসপাতালের সামনে কিছুটা বেড়িয়ে আসার অনুমতি দেন, যাতে হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া সমর্থকেরা তাঁকে দেখতে পায়।

চিকিৎসকদের এই সিদ্ধান্ত নিয়েও কম সমালোচনা হচ্ছে না। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রামক রোগ রয়েছে এবং রক্তনালিতে সরাসরি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে, এমন রোগীকে এ ধরনের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি অভিনব।

আজ সকালে ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্ক মিডোস জানান, আজই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আজ চিকিৎসকেরা বিষয়টি নিয়ে বসবেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও তাঁদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আলোচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: