প্রতিকার ততক্ষণ মিলবে না

কঠিন সত্য হলো, জনমানুষের শেষ ভরসার স্থল বিচার বিভাগ নিজেই কলুষিত! সমাজের দুর্বিষহ সকল মহামারীতেই জনমানুষেরা আজ আক্রান্ত। সুতারাং সমাধান আপনার হাতে। মনে রাখা ভালো ক্ষমতার বলয় ছাড়া কেউ ধর্ষণের মতন কর্ম করার সাহস রাখে না ।

সেই ক্ষমতার বলয়টি লক্ষ্য করুন । স্কুল/ কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়/ মসজীদ/ মাদ্রাসা/ এতিমখানা কিংবা পরিবারের গন্ডির ভিতরে, যেখানেই ধর্ষণ/ বলৎকার কিংবা হত্যাযজ্ঞ ঘটে, সর্বত্রই একটা ক্ষমতার হাত থাকে । তবে  ঘটনা ঘটানো হয় নানান কৌশলে ।

স্কুলের ক্ষেত্রে দেখবেন, ছোট্ট বয়সের বাচ্চাটিকে একপ্রকার ভয় আর প্রলোভন দেখিয়ে অপকর্মটি করা হয়। যখন চেপে রাখার বৃত্তের বাহিরে চলে যায়, তখনই হয়তো বা ঘটনা প্রকাশ পায় । এর পূর্বে অনেক কম ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও শিক্ষিত উচ্চমার্গের শিক্ষকরা জীবন নিয়েই বেশি খেলে থাকে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কখনো স্যক্সুয়েল হ্যারাজমেন্ট হয় না, কারণ সে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ । তবে ইনজাষ্টিজের স্বীকার হন । সেই সব উচ্চমার্গের শিক্ষিত শিক্ষকদের দ্বারা । তবে ছাত্রীদের বেলায় এই উচ্চমার্গের শিক্ষিত শিক্ষকেরা ছাত্রীর নমনীয়তাকেই দূর্বলতা ভেবে হাত বাড়িয়ে দেয় । কোনো কোনো নমনীয় ছাত্রী সেই বিপদ থেকে সাহসী হয়ে বের হয়ে আসতে পারে । তবে বেশিরভাগই সেটা পারে না। কারণটিও সহজ, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আজও ভাবেন সমাজে তাঁর অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে  ? কেননা এই সমাজটি আজও নারীকে মানুষ হিসেবে না দেখে নারী হিসেবেই দেখে । সুতরাং তাঁর পক্ষেও অনেক সময় এই সমাজ গন্ডির বাহিরে আসা আজ অব্দি সম্ভব হয় না। তবে এই উচ্চমার্গের শিক্ষার জায়গায় ধর্ষণের চেয়ে বেশিরভাগই  হয় স্যাক্সুয়েল হ্যারাজমেন্ট।  ঘটনার পরে হত্যাযজ্ঞ ঘটে না । তবে একজন নারীর জীবনকে হত্যা করে দেয়। যদি সমাজ একটু সচেতন হতো, তাহলে উল্টো সেই উচ্চমার্গের শিক্ষিত শিক্ষকের হত্যা হতো।

পারিবারিক ক্ষেত্রে যা ঘটে আপনজনের দ্বারা, সেখানে থাকে কু-মানসিকতা আর নিম্ন রুচির চাহিদা । পারিবারিক গন্ডির ভিতরের চরিত্রই বেশিরভাগ প্রকাশ ঘটে। তবে এই পারিবারিক গন্ডিতে বেশিরভাগই হত্যাযজ্ঞ ঘটে । সেখানে আবার অনাচাগোড়ে একটি লুকোচুরির খেলা থাকে। পরিবারের কিছু কর্তাব্যক্তি অপকর্ম থেকে আবার সমাজের ভাবকে রক্ষার্থে উঠে পরে লেগে, দ্বিতীয় অপকর্মে লিপ্ত হয় ।

মসিজদ/ মাদ্রাসা/ এতিমখানায় যা ঘটে সেটা আরো ভয়ানক। সেখানে চলে ধর্মের খেলা । ধর্মের ভয় । কোরআনের শপথ।  জাহান্নমের আগুনের ভয়। উল্টোদিকে বেহস্তের চাবি বিতরণ। তথাকথিত ধর্মগুরুরা এই অপকর্মের মূলে। এরা এতটাই ভয়ানক হয়ে উঠে, শেষ অব্দি ঘটনা চাপা দিতে না পারলে হত্যাযজ্ঞ অনায়াসেই করতে পারে । ধর্ম বিশ্বাসকে এরা পুঁজি করে হেন কিছু নাই যা করতে পারে না ।

আজ সমাজের আনাচে কানাচে যা ঘটছে সেটা হলো সবচাইতে ভয়ানক। এরা নিজেদেরকে রাষ্ট্রের সর্বাধিক ক্ষমতাসীন ভেবেই নিয়েছে। এর জন্য সর্বোমূলে শতভাগ দায়ী রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্র পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দল। দুঃখজনক হলেও মহা ভারতের মতন কঠিন সত্য হলো এরাই বর্তমানের সকল মহামারীর কেন্দ্রবিন্দু।  ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার লিপ্সায় আজ সর্বত্রই অন্যায়/ অবিচার / অপকর্ম সবকিছুকেই হালাল করে নিয়েছে। আজকের দিনে সব অঞ্চলের সকল প্রভাবশালীরাই রাষ্ট্রের ক্ষমতার সাথে জড়িত।  সকল অপকর্ম এদের দ্বারাই গত এক যুগে হয়েছে এবং চলছে ।

তাহলে কি বলবো এই রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা চাচ্ছে না এগুলো বন্ধ হোক ? না, তা নয় । রাষ্ট্র যখন সকল অর্গানকে নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য  ব্যবহার করে, মনে রাখা ভালো তখন রাষ্ট্র নিজেই দূর্বল হয়ে যায়। শতভাগ কঠিন সত্য হলো রাষ্ট্র আজ দূর্বল থেকেও দূর্বলতার দিকেই এগুচ্ছে। ফলাফল রাষ্ট্র চাইছে নিশ্চয়ই এমন সব অপকর্মের সমাধান, তবে করতে পারবে না । হয়তো বা দু’চারটি ক্রসফায়ার কিংবা ফাঁসি দিতে পারবে, বড়জোর।  তবে মনে রাখতে হবে সেখানেও রাষ্ট্রের একপ্রকার ক্ষমতার অপব্যবহার হবে । ক্ষমতার অপব্যবহার ভাইরাসের মতন আজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে। রাষ্ট্র নিজেও তা ব্যবহার করছে । মনে রাখা ভালো, রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের বিপরীতে ছায়া পরিচালনাকারী প্রয়োজন হয় । রাষ্ট্র আজকে সেই পথ একেবারেই বন্ধ করে রেখেছে। ফলাফল হচ্ছে আজ রাষ্ট্র নিজেই ভুগছে। এই ভোগা থেকে রাষ্ট্র তখনই বের হতে পারবে, যখন রাষ্ট্র তার নিজস্ব গতিতে চলবে । রাষ্ট্রের একটি আপন গতি থাকে, তা পুরোপুরিই বর্তমানে বিকল হয়ে আছে । সুতরাং সমাধান রাষ্ট্র দিতে পারবে না বলেই মনে করি ।

লক্ষ্য করুন, উপরের সবগুলোর ক্ষেত্রেই ক্ষমতা হলো মূলে । আরো স্পষ্ট করে বললে বলা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার।  ক্ষমতার অপব্যবহার যেখানে চলছে, সেখানে সমাধান কখনোই পাওয়া যাবে না, কেননা রাষ্ট্র আজ নিজেই দূর্বল । সুতরাং সবাই ভেবে দেখতে পারেন, সমাধানের পথ। কেননা এই  সকল ক্ষমতার দ্বারা সকল অপকর্মের স্বীকার আমি/ আপনি / আমরা একদিন হব। কেউ ছাড় পাবেন না । আজকে একজনের মাথায় পড়ছে তো আগামীকাল আমাদের সবার মাথায় পড়বেই । এবার ভাবুন সেই ধকল সইবেন না প্রতিকার করবেন । আমি/ আপনি / আমরা জাগ্রত না হলে, নিজেদেরকেই হত্যা করার সামিল।  সমাধান আমাদের হাতেই নিহিত আছে। হয় হত্যা হব, না হয় রাজপথেই সমাধান খুঁজে নেবো । তবুও সমাধান হোক ।

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: