গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে ‘যৌনতন্ত্রের’ প্রসার: গয়েশ্বর

সারাদেশে অব্যাহতভাবে নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণ-গণধর্ষণের প্রতি ইঙ্গিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘দেশে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে যৌনতন্ত্র প্রসার লাভ করছে। এ অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ডাইরেক্ট অ্যাকশনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনামূলক নাটক নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

তিনি বলেন, ‘দেশে সব জায়গায় নারীদের শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তাই বলতে চাই, জনগণ আর মানববন্ধন দেখতে চায় না, দেখতে চায় প্রাণবন্ধন। জনগণ আর মুখে শ্লোগান শুনতে চায় না, অ্যাকশন দেখতে চায়। আমাদেরকে এ অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ডাইরেক্ট অ্যাকশনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।”

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘মানুষ এখন মুক্তি চায়, সেই সাথে শেখ হাসিনার পদত্যাগ চায়। এরশাদের বিরুদ্ধে যেমন আন্দোলনে-মিছিলে একটি বাক্য ছিলো ‘এক দফা এক দাবি, এরশাদ তুই করে যাবি,’ ‘জনগণের দাবি এক, এরশাদের পদত্যাগ।’ তেমনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এখন স্লোগান তুলতে হবে, ‘জনগণের যে দাবি, হাসিনা তুই কবে যাবি।’ জনগণের দাবি এক শেখ হাসিনা পদত্যাগ।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে যদি পদত্যাগ করাতে পারেন তাহলে প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটবে না, আমাদেরকে রাস্তায় প্রতিবাদ করতে আসতে হবে না।’

জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের ইতিহাস বিকৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে অপমান করা মানে মুক্তিযুদ্ধ-ক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা। জিয়াউর রহমানকে যারা অপমান করে বা তার সম্বন্ধে ‘অরুচিশীল’ বক্তব্য দেয়, তাদের এ অপরাধ যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য।’

কর্মসূচিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে ফরাসি বিপ্লবের মতো ত্রাসের রাজত্ব চলছে। ওই বিপ্লবের সময়ে যেমন শব্দবন্ধ চালু হয়েছিলো-রেইন অব টেরর’ ত্রাসের রাজত্ব। আজকে এখানেও সেই ত্রাসের রাজত্ব বিরাজ করছে।’

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের সঞ্চালানায় মানববন্ধনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সারোয়ার, আনু মোহাম্মদ শামীম আজাদ, ইয়াসীন আলী, সাদরেজ জামান, আখতারুজ্জামান বাচ্চু, মহানগর দক্ষিনের নজরুল ইসলাম ও উত্তরের গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: