জীবনছুট -শামসুদ্দিন পেয়ারা

জীবন থেকে কিছু গল্প যদি ছিটকে বেরিয়ে যায়

সানন্দে বেরিয়ে যেতে দাও,

আকাশ পড়বে না ভেঙে তাতে কারোর মাথায়।

যদি এমনটা হয়,

আরেকটা মহাযুদ্ধ বাধবে না চিনে বা মধ্যপ্রাচ্যে

লুপ্ত হয়ে যাবে না সময়,

ঘটবে না কোথাও কোন

মানচিত্র-পাল্টানো ভুমিধ্বস

কিংবা কোন সুনামি বা খণ্ডপ্রলয়।

 

জীবনের সব কিছু খুব মূল্যবান — তা তো নয়!

সত্যি বলতে জীবনের কোন কিছু আদৌ মূল্যবান নয়।

এফডিসির সেটের মতো

শ্যুটিং-এর শেষে সবকিছু কার্ডবোর্ডে পরিণত হয়।

 

মানুষের সাথে মানুষের যে গভির সম্পর্ক

বাসে সহযাত্রী হয়ে সুদীর্ঘ ভ্রমন

বইয়ের দোকানে সদ্য পরিচিত একমনা

কারো সাথে কোন একটি বই নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা

খোঁচা দাড়ি এলোমেলো চুলে

যুদ্ধের ধুলোট গল্পে মজে দুপুরের খাওয়া দাওয়া ভুলে

হঠাৎ ঘড়ির দিকে চোখ গেছে যেই অমনি,

এই সেরেছে রে বলে লাফিয়ে ভোঁ দৌড়,

ছেলের কোচিং শেষ হয়ে গেছে দু ঘন্টা আগেই!

 

কিংবা নাসিরুল ইসলাম বাচ্চুর সেই গীতিনকশা

পল্টনের শ্রোতারা যা গাইতে গাইতে ঘরে ফিরে যেতো-

সে সব গল্প আর বেঁচে নেই

একবিংশ শতাব্দীর চলনশক্তিহীন রুগ্ন পৃথিবীতে।

রাজনীতির সর্বভুক অজগর কুমির ও শকুনেরা মিলে

ক্ষমতার উল্লাসে সব কিছু ফেলিয়াছে গিলে।

 

গণতন্ত্র আজ এক ধর্ষিতা নারী

রক্তমাখা শাড়ি পরে ঘুরে মরছে রাস্তায় রাস্তায়

এক আদালত থেকে অন্য আদালতে ন্যায় বিচারের আশায়।

 

কেউ তার মামলা নিতে আগ্রহি নয়।

সবার বুকের মধ্যে ঢুকে গেছে গুমখুন

অজ্ঞাতস্থান থেকে ছুটে আসা বুলেটের ভয়।

সবার বুকের মধ্যে দুরুদুরু ভয়

জঙ্গলের বাঘ সিংহ ভল্লুকেরা এতে যদি অসন্তুষ্ট হয়!

শামসুদ্দিন পেয়ারা

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: