পা হারানো রাসেলকে আরো ২০ লাখ টাকা দিতে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ

গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে আগামী তিন মাসের মধ্যে আরো ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বৃহস্পতিবার গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাসেলের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খন্দকার সামসুল হক রেজা। গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

রায়ের পর গ্রিনলাইনের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, রাসেল সরকারকে এর আগে ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা দিয়েছি। আদালত আরো ২০ লাখ টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। আমরা গ্রিনলাইন মালিকের সাথে আলাপ করে এই ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হওয়ার পর আদালত আদেশ দিয়েছে। এটা সর্বসম্মতিক্রমে একটি রায়। এ কারণে আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো না।

এর আগে গত ৫ মার্চ এই মামলায় ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। এরপর রায় ঘোষণার জন্য যেকোনো দিন অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে আদালত।

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের ধাক্কায় প্রাইভেটকারচালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় গাইবান্ধার একই এলাকার বাসিন্দা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য (বর্তমানে কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক) অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ওই বছরের ১৪ মে এ বিষয়ে রুল জারি করে। রুলে কেন রাসেলকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

পরে এক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এক আদেশে রাসেল সরকারকে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের পর রাসেলকে এ পর্যন্ত ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা দিয়েছে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ। গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট এক আদেশে দুই সপ্তাহের মধ্যে রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দিতে গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। একইসাথে প্রয়োজন হলে তার পায়ে অস্ত্রোপচার এবং কাটা পড়া বাম পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম পা লাগানোর খরচ দিতে ওই পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।

এর অগ্রগতি হলফনামা আকারে ৩১ মার্চের মধ্যে আদালতে দাখিল করতেও বলা হয়। তবে হাইকোর্টের ১২ মার্চের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে, যা ৩১ মার্চ খারিজ হয়। ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকে। ইউএনবি

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: