ট্রাম্পকে পুতিনের ‘পোষা কুকুর’ বললেন বাইডেন

সরাসরি নির্বাচনী বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক হাত নিয়েছেন ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন। তিনি ট্রাম্পকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘পোষা কুকুরছানা’ বলেছেন। খবর এএফপির।

দুই প্রার্থীর বিতর্কে গঠনমূলক আলোচনার চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমনই প্রাধান্য পেয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে একে অপরকে ছেড়ে কথা বলেননি। ট্রাম্পের কর ফাঁকি, করোনাভাইরাস নিয়ে উদাসীন নীতি, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক, মিথ্যাচারিতা নিয়ে প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনা করেন বাইডেন।

ছেড়ে কথা বলেননি রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পও। তিনি বাইডেনকে চালাকি না করার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে মাস্ক পড়া নিয়ে নাটক করতে বারণ করেন।

আসন্ন ৩ নভেম্বর নির্বাচনের ৩৫ দিন আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যে উত্তপ্ত এই বিতর্ক চলে। তাঁরা বিশ্বাসযোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা নিয়ে একে অন্যকে আক্রমণ করেন।

এএফপির খবরে জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে বিধিনিষেধের কারণে বিতর্কমঞ্চে ওঠার পর ট্রাম্প ও বাইডেন পরস্পর হাত মেলাননি।

মঞ্চে ওঠার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের শূন্যস্থান থেকে শুরু করে মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় করোনারভাইরাস মহামারী ইস্যু নিয়ে বিতর্কটি ব্যক্তিগত কোন্দলে রূপ নেয়।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ট্রাম্পের প্রতি অভিযোগ ছুঁড়ে বলেন, তিনি যা কিছু বলছেন তা ডাহা মিথ্যা। সবাই জানে তিনি মিথ্যাবাদী।

ট্রাম্প জবাব দিতে টাইলে বাইডেন তাকে বলেন, ‘আপনি কি চুপ করবেন? একপর্যায়ে বলেন, এই জোকারের কাছ থেকে কোনো কথা আদায় করা শক্ত।’

বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভাঁড় বলে মন্তব্য করেন।

এরপর করোনাভাইরাস প্রসঙ্গ নিয়ে একে অপরের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় এ পর্যন্ত ২ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু বেশি। মৃত্যুর এই হার নিয়ে ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বাইডেন বলেন, করোনায় মারা যাওয়ায় রান্নাঘরের টেবিলে কতজনের চেয়ার খালি পেয়েছেন?

পাল্টা জবাবে ট্রাম্প বলেন, কখনও আমার সঙ্গে বেশি চালাকির চেষ্টা করবেন না। তিনি করোনারোধে মাস্ক পরায় বাইডেনের উৎসাহ নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে মাস্ক রয়েছে। যখন প্রয়োজন হয় তখন আমি মাস্ক পরি। বাইডেনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমি তার মতো মাস্ক পরি না। যখনই তার দিকে তাকাবেন দেখবেন মাস্ক পরে আছেন।
২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল তার সফল ব্যবসায়ী ইমেজ। তবে পুনর্নির্বাচনের আগে সেই পরিচয়টাই এবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ ওঠায়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বছর এবং হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর ২০১৭ সালে মাত্র ৭৫০ ডলার করে ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন তিনি!

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: