সরকারের লোকজনের কয়েকটা মাস্ক পরা দরকার কারণ তারা অনেক ভাইরাসে আক্রান্ত : নজরুল ইসলাম

ভিন্নমতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একজন যোগ্য শিক্ষককে একটি নিবন্ধন লেখার অপরাধে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর একজন শিক্ষকের কথা আপনারা শুনেছেন, যিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন। যার জন্য শুধু চাকরি যায়নি, তিনি এখন দেশে থাকতে পারেননি। একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অসংখ্য মানুষ তার গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশে কারণে এই সরকারের অনুগত প্রশাসনের ধারায় চাকরিচ্যুত কিংবা অন্যভাবে বিপদাপন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যারা শ্রদ্ধেয়ও মানুষ বলে পরিচিত, তারা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কিন্তু তারা পারেন, যারা নামে শিক্ষক, কিন্তু আসলে প্রশাসনে অনুগত ব্যক্তি।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে অন্যভাবে অব্যাহতি ও সিলেটের এমসি কলেজে ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের আহবায়ক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ও পরিষদের সদস্য সচিব প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভাইসচ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আফম ইউসুফ হায়দার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাদা দলের আহবায়ক প্রফেসর ড. ওবায়েদুল ইসলাম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হক মিন্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই ভিসি তো তিনি, যিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে সরকারের ভাষায় সন্ত্রাসী বলেছিলেন। তাদের কাছ থেকে সুবিচার আশা করার কোনো কারণ নেই। আইন ভঙ্গ করে অন্যায়ভাবে যাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদেরকে পুনর্বহাল তো অবশ্যই আমরা দাবি করব। আজকে যদি বাস্তবায়িত না হয় ইনশাল্লাহ আগামী দিনে হবে। কিন্তু আমাদের সমস্যা তো একটা নয়। আমরা অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত। আজ করোনার ভয়ে আমরা মাস্ক পরে থাকি। কিন্তু যারা সরকারে আছেন তাদের একটা নয় আরো বেশি মাস্ক পরা দরকার। কারণ তারা শুধু কোভিড এ নয় আরো অনেক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এদেশে দুর্নীতি-অনাচার আজ করুণ অবস্থাই চলে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে আমরা ডিজি হতে চাই না আমরা ডিজির ড্রাইভার হতে চাই। এই বিশ্বের তিনজন ধনী ড্রাইভার এর মধ্যে বাংলাদেশে একজন আছেন। এছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে যেভাবে দুর্নীতি-অনাচার ছড়িয়ে পরেছে সেই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য সরকারের লোকজন যারা দল করেন, তাদের উচিত দুর্নীতিবিরোধী একটি ভাইরাস প্রতিরোধকারী মাস্ক পরা। দুইটা মাস্ক হলেও কিন্তু হবে না।

বিএনপি’র এ নীতিনির্ধারক বলেন, অতিসম্প্রতি নারী নির্যাতন যেভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরেছে সেই নারী নির্যাতনের যে ভাইরাস সেটা থেকে বাঁচার জন্য এ সরকারের লোকজনের ৩ নাম্বার মাস্ক পরা উচিত। এই তিনটা মাস্ক পরলে ভাইরাস থেকে তারা কিছুটা বাঁচবেন আর লজ্জা থেকে বাঁচার জন্য মুখটা ঢেকে রাখতে পারবেন।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়া সম্পর্কে তারই চালু করা একটি টেলিভিশন প্রোগ্রাম থেকে যার উত্থান তিনি একটি নাটক লিখেছেন। প্রচারিত হয়েছে একজন আওয়ামী লীগের এমপির মালিকানাধীন এক টিভি চ্যানেল থেকে। আমি শহীদ জিয়ার একজন কর্মী হিসেবে বলতে চাই আপনারা তো কিছুই না। আপনাদের কত বড় বড় নেতা বছরের পর বছর শহীদ জিয়া সম্পর্কে, খালেদা জিয়া সম্পর্কে, তারেক রহমান সম্পর্কে কত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কি লাভ হয়েছে তাতে! জনগণ কি শহীদ জিয়াকে ভুলে গেছে। জনগণের যে শ্রদ্ধা তার প্রতি সেটাকে কি কমাতে পেরেছেন আপনারা। নাকি বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা কমেছে। যদি তাই হতো তাহলে আপনারা উঠতে-বসতে শয়নে স্বপনে তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতেন না। এটাকে তারেক রহমান ফোবিয়া বলতে পারেন বা খালেদা জিয়া ফোবিয়া বলতে পারেন। এরও চিকিৎসা দরকার মনে হয় আপনাদের। কিন্তু টিভিতে এসব নাটক প্রচার কোনো চিকিৎসা নয়। কারণ মানুষ এটাকে রাজনীতিতে খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে মনে করে। খারাপ দৃষ্টান্ত আপনারা স্থাপন করলেন, এ দৃষ্টান্ত যেন আল্লাহ না করুক ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না হয়। এভাবে রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন করে আমরা রাজনীতি সম্পর্কে মানুষকে নিরুৎসাহিত করে দিচ্ছি, যেটা দেশের জন্য ক্ষতিকর গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা জানি আপনারা গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ নয়, কারণ আপনারা একবার গণতন্ত্রকে জবাই করেছেন এবং একবার যিনি গণতন্ত্রকে জবাই করেছেন তার প্রশংসা করেছেন। তৃতীয়বার আপনারা জরুরি অবস্থার মধ্যেও নির্বাচনে যেতে রাজি নিয়ে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি সেই দল যে দল একদলীয় স্বৈরশাসনের বদলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি সেই দল, যে দলের নেত্রী নয় বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। বিএনপি সেই দল, যে দল ২০০৭ সালে ঘোষণা করেছিল জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার না করলে আমরা নির্বাচনে যাব না। গণতন্ত্রের জন্য আপনাদের (সরকার) কাছে আবেগ কম, আমরা জানি। কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে গণতন্ত্রের জন্য আবেগ অনেক। গণতন্ত্র হলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল। আমরা রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র অর্জন করেছি, আগামী দিনেও গণতন্ত্র রক্ষা করব। আমরা ঊনসত্তুরে এটার প্রমাণ দিয়েছি, একাত্তরে প্রমাণ দিয়েছি, নব্বইয়ে প্রমাণ দিয়েছে। প্রয়োজনে আগামী দিনেও দেব।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: