প্যানডেমির নাম যেন লীগ

কোথা থেকে শুরু করবো। যেখানেই যত অপকর্ম আছে, সব জায়গাতেই ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ আর ছাত্রলীগ।  আর যেখানে ছাত্রলীগ নাই পাওয়া যাবে স্চ্ছোসেবক লীগ, যুবলীগ, প্রজন্ম লীগ, মুক্তিযোদ্ধা লীগ, শ্রমিক লীগ, ওলামালীগ,ওমুল লীগ, তমুকলীগ। এমন কি কোথাও কোথাও শিশুলীগের আবির্ভাব মুক্ত নয় । সহজ বাংলায় লীগ আর লীগ। লীগে লীগে জয়জয়কার।

মানুষের ধৈর্যের একটা সীমা থাকে। জানি উপরের প্যারাগ্রাফের কথাগুলো ছাত্রলীগের অনেককেই আঘাত করবে । মনে হবে ছাত্রলীগের সবাইকে আমি একপাত্রে ঢেলে দিচ্ছি। বাস্তবতা হলো পুকুরের রাক্ষুসে মাগুরমাছের কল্যাণে অন্য সবমাছকেই গিলে ফেলেছে। এখন পুকুরে সব রাক্ষুসে মাছের ছড়াছড়ি।  এদের দাপটে পুকুরের রাজা মাছেরাও নড়তে চড়তে পারে না । পুকুরের তলাদেশেই পরে থাকতে হচ্ছে।

ছাত্রলীগের ঐতিহ্য আছে, সেটা কে না জানে ? তবে সেই ঐতিহ্যের ইতিহাস আর কতকাল বিক্রি করা যায়?  বিক্রি করতে করতে তো তলানিতে এসে ঠেকেছে। শুধু বিক্রি করে খেলে রাজার ধনও একসময় ফুতুর হয়ে যায় যে । প্রশ্নতো শত করা যাবে, উত্তর পাওয়া যাবে না । গত একযুগে ছাত্রলীগের কি অর্জন আছে ? এই একটি প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারবেন কি ? উত্তরটি হলো কলঙ্ক ছাড়া কিছু নেই । ওই যে দু’চারটা ত্রান বা দান খয়রাত ছাত্রলীগ মাঝে মাঝে করে, যা কিনা আমরা হাতে পেলেই বড় করে তুলে আনি, সেগুলি তাবিজ- কবচ হতে পারে না । যেখানে আদর্শের নিম্নমানের চর্চাও নেই, সেখানে ওগুলো সব গরম বাতাস আর ফটোশেসন ছাড়া কিছুই না । প্রমাণ চান ? স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্মরণ করুন। সাম্প্রতিককালে গঠিত ছাত্রলীগের সভাপতি সেক্রেটারিকে পদ ছাড়তে হয়েছিলো। কেন ? সেখানেই উত্তর নিহিত আছে। আবার ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে বলার চেষ্টা করবেন না, দলতো শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। এইসব কথায় মানুষ শুধু হাসে। হয়তো জোরে হাসতে পারে না, তবে মনে মনে হাসাটি কিন্তু বেশি বিদ্রুপের হাসি । জানি না সেই হাসি আওয়ামী লীগের মতন দল টের পায় কিনা ?

কথায় বলে, সব ভালো ভালো না । যত চেষ্টাই করুন ততদিন পর্যন্ত কিছুই ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না, যতদিন পর্যন্ত একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে অনুসরণ না করবেন। সেটা দল এবং রাষ্ট্রের ভিতরে । কেননা গণতান্ত্রিকতার বাহিরে সব করতে গিয়ে আর যাই হোক  নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না । আর যাবেই বা কেন ? পারবেনই বা কি করে ? কেননা আপনাদের অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় থাকতে হলে এদেরকেই আপনাদের অতি বেশি প্রয়োজন হবে যে । যাদের ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকবেন, তাদেরকে আর যাই হোক অপকর্ম থেকে কখনোই বিরত রাখতে পারবেন না। এখানে আর সাইক্লোজি খোঁজার কোনো প্রয়োজন আছে কি, কেন ?

আজকে শুধুমাত্র ছাত্রলীগের কথা বলে লাভ কি ? ভালো করে লক্ষ্য করুন, অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টার কল্যাণে যে সকল প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছেন, হোক সেটা পুলিশ বা যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান, সবাই আজকে অন্যায় অবিচার করেই চলছে । পারছেন কি সেগুলো বন্ধ করতে ? ভবিষ্যতেও পারবেন না, কেননা যাদের ব্যবহার করে ফয়দা লুটবেন, তারাও ভালো করেই জানে, আপনাদের দূর্বলতা।  সুতরাং ফল উঠাবেই এবং উঠাচ্ছেও । আগামীতেও একিভাবেই চলবে । কিছুই করার থাকবে না । বাস্তবতা হলো ওদের এতটাই ব্যবহার করেছেন যে, মূলত নিজেরাই দূর্বল হয়ে পরেছেন ।

কোথায় ব্যবহার করেছেন বা করছেন ? সেই প্রশ্ন তুলে আর জনগণকে লজ্জায় ফেলবেন না । গতকালের উদাহরণ দেই। আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস পেয়েছেন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৪ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন ৫ হাজার ৫ শ’ ৭৬ ভোট। জনগণকে এগুলো গিলাতে চান ? জনগণ কি এতটা বোকা ?

লেখার শুরুতেই বলেছিলাম লীগের জয়জয়কার।  বেশ তো এমন জয়ে কোথায় গিয়ে দেশের ভবিষ্যতে ঠেকে , সেটার জন্য আর অপেক্ষার প্রয়োজন হবে না ।প্যানডেমির কথা বলছিলাম । করোনা প্যানডেমি তো ন্যাচারাল।  কোনো একদিন এর সমাধানও চলে আসবে মানুষের দ্বারাই । তবে মানুষ তৈরি প্যানডেমির সমাধান আসবে কি করে ? সমাধানটা তো সেই মানুষকেই করতে হবে যে । যারা প্যানডেমি তৈরি করেছে তাদের হাতেই সমাধান হতে হবে যে । এখন প্রশ্ন হলো সেই দিকে দু’কদম এগিয়ে আসবেন কিনা ? সময়ের কাজ সময়েই সমাধান করতে হয় । এটা জাতীয় বিষয় । আপনারাই ভাবুন, সমগ্র জাতি নিয়ে পস্তাবেন না সমাধানের পথ খুঁজবেন ।

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: