শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে কোনও সুখবর নেই

কিছুতেই সচল হচ্ছে না মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথ। গত ২১ দিন ধরে পদ্মা নদীতে নাব্য সংকট ও তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি চলাচলে এ রুটের ঘাট এলাকায় অরাজকতা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাঁচটি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে কে-টাইপ মিডিয়াম ফেরি কাকলী খননরত লৌহজং চ্যানেল দিয়ে কাঁঠালবাড়ির উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ছেড়ে যায়। কিন্তু বিকেল ৫টার দিকে পদ্মা সেতুর ২৫ ও ২৬ নম্বর পিলারের মাঝপথ পেরিয়ে চায়না চ্যানেলের চরে আটকে যায়।

পরে আধাঘণ্টা চেষ্টা করে সামনে এগোতে না পেরে আবারও শিমুলিয়া ঘাটের দিকে ফিরে আসে রাত ৮টায়। মাঝপদ্মায় অসংখ্য ডুবোচর থাকায় ফেরিটির শিমুলিয়া ঘাটে আসতে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি’র সহব্যবস্থাপক সাফায়েত আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফেরি কাকলীর চালক রেজাউল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাত ৮ টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে ফিরে আসে ফেরিটি।

বিআইডব্লিউটিসি’র সহব্যবস্থাপক সাফায়েত আহমেদ আরও জানান, এর আগে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নতুন চ্যানেল পালের চর দিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ফেরি ক্যামেলিয়া যানবাহন নিয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ নৌরুটে অতিরিক্ত ২৮ কিলোমিটার বেশি নৌপথ পাড়ি দিয়ে ৫ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছায় ফেরিটি।

পর দিন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একই চ্যানেল দিয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ৮ ঘণ্টা সময় নিয়ে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছায়। এরপরে দীর্ঘ নৌপথ পাড়ি, সময় ব্যয় ও ফেরিতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ অপচয় হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ।

প্রসঙ্গত, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে গত ২৮ আগস্ট রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে নাব্য সংকট ও স্রোত আরও তীব্র হলে গত ৩ সেপ্টেম্বর পুরোপুরি ফেরি চলাচল বন্ধ করে উভয় ঘাট কর্তৃপক্ষ।

এরপরে ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর দুদিন ৫টি কে-টাইপ ফেরি দিয়ে কোনোরকমে এ নৌপথ চালু রাখা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় ঘাট কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: