স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

আবু জাফর শিহাব : মানুষের মধ্যে যেমন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না, আবার স্বাস্থ্যবিধি নজরদারি করার মতো কোন ব্যবস্থা আমাদের দেশে নেই। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি দিনে দিনে বেড়েই চলছে। অদৃশ্য এ সংক্রমণ ঠেকাতে অন্য দেশের মতো বাংলাদেশে লকডাউন, সাধারণ ছুটি, জনচলাচলে সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। কিন্তু জীবিকার তাগিদে ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থাকে গতিশীল করতে সরকার ধাপে ধাপে জনজীবনকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবকিছু করতে হবে।

টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির পর সরকার গত ৩১ মে থেকে সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত, গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান চলাচলসহ সবকিছু খুলে দেয়। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং জরুরি কাজ সম্পন্ন করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে সরকার সবকিছু খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু প্রথম দুই-এক দিন সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও তার পর থেকে বেপরোয়া।

বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে, সড়কে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি, অটোরিকশা, উবার, পাঠাও বাস চলাচল করছে। মার্কেটগুলোতেও হরহামেশাই যাতায়াত করছে কেনাকাটা করছে মানুষ। বেশিরভাগ জায়গায় মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব, মানা হচ্ছে না সরকারের দেয়া বিধি-নিষেধ কিংবা স্বাস্থ্যবিধি।

স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে অফিস আদালত, গণপরিবহন, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট সবকিছু খুলে দেওয়ার পর এখন আর শর্ত মানছে না কেউ। সর্বত্র শর্ত  ভেঙে চলাফেরার যেন প্রতিযোগিতা চলছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেশের দু এক জায়গায় জরিমানা করলেও বড় শহরগুলোতে তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি দিনে দিনে বেড়েই চলছে।

সরকারি অফিস ও দফতরগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা অনুসরণ করা হয়। হাসপাতাল, ডায়গনিষ্ট সেন্টার, ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকের প্রচুর ভিড় থাকলেও শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায় না কাউকেই।

রাস্তায় দেখা গেছে ৭০ ভাগের বেশি মানুষ স্বাস্থ্যবিধির কোন তোয়াক্কা করছেন না। মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবহার নেই। শহরাঞ্চলে কিছুটা মাস্কের ব্যবহার থাকলেও গ্রাম ও উপজেলা শহরগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানেন না। করোনাকে তোয়াক্কা করছেন না কেউই। বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। করোনা বলে ছোঁয়াচে কোন প্রাণঘাতী রোগ আছে- তা মাঠের চিত্র দেখে বোঝার উপায় নেই। জনসচেতনতার অভাবে তরুণরা আরও বেপরোয়া। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েই গেছে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার বালাই নেই কোথাও। শুরুতে করোনা নিয়ে জনমনে যে আতঙ্ক ছিল তা এখন নেই বললেই চলে। স্বাভাবিক হয়ে এসেছে জীবনযাপন। স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ন্যূনতম মাস্কও ব্যবহার করতে চাচ্ছেন না অনেকে। সামাজিক দূরত্ব মানারও বালাই নেই। সার্বিক জীবনযাত্রার চিত্র দেখলে করোনার মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি দেশে আছে বলে মনেই হয় না। মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের ভয়ভীতি নেই। এভাবে স্বাস্থ্যবিধিকে অবহেলা ও ঢিলেঢালা জীবনযাপনে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু।

সকলের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। কিন্তু কেউ কিছু মানছেন না। অর্থাৎ কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই! অথচ সরকারের সব পক্ষ থেকেই বার বার বলা হয়েছে, মাস্ক না পরলে জেল-জরিমানার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে দেশজুড়ে।
লেখক: আবু জাফর শিহাব (এল এল বি)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: