Sunday January17,2021

জীবনযাত্রার মানের অবনতি ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ চরমে ওঠার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে পূর্ব লিবিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বেনগাজিতে সরকারের সদরদপ্তরে বিক্ষোভকারীরা আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ আল-থানির সরকারের পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে।

তবরুকভিত্তিক হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের মুখপাত্র এজ্জেল দিন আল ফালিহ জানান, রোববার স্পিকার আগুইলা সালেহর কাছে সরকারের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন আল-থানি।

পার্লামেন্টের মুখপাত্র আব্দাল্লাহ আবাইহিগ বলেছেন, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের আইনপ্রণেতারা আল-থানি সরকারের পদত্যাগপত্র বিবেচনা করবেন। পরের বৈঠকে তারা তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

ন্যাটো সমর্থিত বাহিনী ২০১১ সালে দীর্ঘসময়ের স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে নানা সমস্যায় জর্জরিত তেলসমৃদ্ধ লিবিয়া। ওই সময়ের পর দেশের পূর্ব ও পশ্চিমে সশস্ত্র সংগঠন ও বিদেশি সরকার সমর্থিত দুটি আলাদা সরকার ক্ষমতায় আসে।

সম্প্রতি ব্যাপক আকারে লোডশেডিং, পেট্রোল ডিজেলের লাগাম ছাড়া মূল্য ও লোকের কাছে অর্থের অভাবে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। জেনারেল খলিফ হাফতারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আল মার্জেও প্রথমবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

এই সংঘর্ষে এক বেসামরিক মানুষ নিহতের খবরে ‘গভীর উদ্বেগ প্রকাশ’ করেছে জাতিসংঘের লিবিয়া মিশন। এএফপি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, পুলিশ স্টেশনে ঢোকার চেষ্টারত বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে কর্মকর্তারা। জেনারেল হাফতারের মুখপাত্র বলেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে তার প্রশাসনের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু তাদের অপসারণ করতে কোনও ‘সন্ত্রাসী এবং মুসলিম ব্রাদারহুডকে’ মেনে নেবে না তারা।