‘তুরস্ক-বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীরে’

অভিন্ন বিশ্বাস, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে তুরস্ক ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীরে। আমি আনন্দিত হব যদি তুর্কির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করেন। দয়া করে আমার শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণের বার্তা প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির কাছে পৌঁছে দেবেন।

সোমবার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তুরস্কের আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

তার এ বক্তব্য নতুন করে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আলোচনায় এসেছে। যদিও করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই ৪ দিনের সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন তুরস্কে যান। তার এ সফরই তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি জেনে আনন্দিত যে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। আমি তাকে স্বাগত জানাই। আপনি কখন আসবেন আমরা সেই অপেক্ষায় থাকব।’

‘খুব শিগগিরই’ ঢাকায় তুরস্কের নবনির্মিত দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি জেনে আনন্দিত যে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। আমি তাকে স্বাগত জানাই। আপনি কখন আসবেন আমরা সেই অপেক্ষায় থাকব।” পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা।

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির পর বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে যায় এরদোগান সরকার।

এরপর জামায়াতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নামে সড়কের নামকরণ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তুরস্কের ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচিত এরদোগান সরকার সম্পর্ক ‘আগুনে ঘি ঢালার মতো’ পরিস্থিতি তৈরি করে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম অবনতি হয়।

পরে মিয়ানমার থেকে বিতারিত রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরদোগান সরকার বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক সরব ভূমিকা পালন করে। ভারত ও চীনের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে পাশে পায়নি বাংলাদেশ। এ ইস্যুতে তারা নীরব ভূমিকা পালন করলেও এরদোগান সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক দরবারে জোরালোভাবে তুলে ধরে।

ওই সময় তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এরদোগান পত্নী এমিনি এরদোগান সবাইকে অবাক করে দিয়ে রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশ সফরে চলে আসেন। এরপর আবাসন, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে তুরস্ক এগিয়ে আসে। এরপরই মূলত বরফ গলতে শুরু করে দু’দেশের সম্পর্কের।

তুরস্কের ফার্স্টলেডি এমিন এরদোয়ানের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার মনে আছে রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল তখন ফার্স্ট লেডি… আমার মনে হয় তিনি প্রথম যিনি কক্সবাজার পরিদর্শন করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ, দুইজনকেই আমার আমন্ত্রণ।”

তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আমন্ত্রণে আঙ্কারা সফরের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালে, প্রায় ৫০ বছর আগে। অবশ্য আমাদের সম্পর্কের সূচনা ত্রয়োদশ শতক থেকেই, যখন তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী বাংলা বিজয় করেন।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: