করোনায় আক্রান্ত হয়ে লাইফ সাপোর্টে অভিনেতা সাদেক বাচ্চু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। তার হৃদযন্ত্রের ৮০ শতাংশ কাজ করছে না।

এর আগে সাদেক বাচ্চুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালটির আইসিইউতে বর্তমানে তিনি ভর্তি আছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক-চিত্রনায়ক জায়েদ খান। তিনি বলেন, ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাদেক বাচ্চুর হৃদযন্ত্রের ৮০ শতাংশই কাজ করছে না। যার কারণে তাকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হয়েছে। অভিনেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও সাদেক বাচ্চুর শরীরে আরো বেশকিছু ‘ক্রিটিক্যাল’ সমস্যা রয়েছে। অভিনেতার ফুসফুসের ইনফেকশন নিয়ে শঙ্কিত তার পরিবার।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর মেয়ে সাদিকা ফাইরুজ মেহজাবিন জানান, ‘বাবার এই অবস্থা রিকভার করতে কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ ফুসফুসের ইনফেকশনটা একটু ছড়িয়ে গেছে।’

বাবার সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দেয়িা কামনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হন সাদেক বাচ্চু। উপসর্গ থাকায় তার করোনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মঞ্চ, বেতার, টিভি, সিনেমার পর্দায়, সর্বত্র দাপুটে বিচরণ সাদেক বাচ্চু’র। নব্বই দশকে এহতেশামের ‘চাঁদনী’ সিনেমায় অভিনয়ের পর জনপ্রিয়তা পান খলনায়ক হিসেবে। এই পরিচয়েই দেশজুড়ে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে গুণী এই অভিনেতার।

১৯৬৩ সালে খেলাঘরের মাধ্যমে রেডিওতে অভিনয় শুরু করেন সাদেক বাচ্চু। তার প্রথম থিয়েটার ‘গণনাট্য পরিষদ। ’ ১৯৭২-৭৩ সালে যোগ দেন গ্রুপ থিয়েটারে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৭৪ সালে প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিষিক্ত হন গুণী এই অভিনেতা। ‘রামের সুমতি’র মাধ্যমে যাত্রা শুরুর পর বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

সাদেক বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- জোর করে ভালোবাসা হয় না (২০১৩), জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার (২০১৩), জীবন নদীর তীরে (২০১৩), তোমার মাঝে আমি (২০১৩), ঢাকা টু বোম্বে (২০১৩), ভালোবাসা জিন্দাবাদ (২০১৩), এক জবান (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), বধূবরণ (২০০৮), ময়দান (২০০৭), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), প্রিয়জন (১৯৯৬), সুজন সখি (১৯৯৪)।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: